Friday , March 22 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / ৭০% অক্সিজেনের আধারকে বাঁচান, নিজে বাঁচুন

৭০% অক্সিজেনের আধারকে বাঁচান, নিজে বাঁচুন

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, সেন্ট মার্টিন আপনি কেন ঘুরতে যেতে চান বা সেন্ট মার্টিনের কোন জিনিসটা আপনাকে বেশী আকর্ষণ করে? উত্তরে অধিকাংশই হয়ত বলবেন, সেখানকার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র। আবার যদি প্রশ্ন করা হয় সেন্ট মার্টিনে ঘুরা ফেরার ক্ষেত্রে সরকার কেন বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে? উত্তরটা এতদিনে সবারই জানা। কেননা, আমাদের দ্বারা দিন দিন দূষিত হচ্ছে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমণ্ডিত আর অপার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র সম্পন্ন এই প্রবাল দ্বীপ।

আসুন, এবার কথার প্রাসঙ্গিগতায় আসা যাক।
আজ ৩রা মার্চ। বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস। ২০১৩ সালের ২০শে ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৬৮তম অধিবেশনের সাধারণ সভায় বিলুপ্তপ্রায় বন্য প্রাণী ও উদ্ভিত রক্ষার্থে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বব্যাপী এই দিনটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও দিনটি পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য, “পানির নিচের জীবনঃ মানুষ ও ধরণীর জন্য”। “Life below water: for people and planet”. সমুদ্রের নিচের যে বিশাল জীববৈচিত্র রয়েছে তা আমাদের ও আমাদের পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার্থেই সংরক্ষণ করতে হবে, এটাই এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বক্তব্য।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র কেন দরকার?
সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে প্রায় ২০০,০০০ প্রজাতির চিহ্নিত জীববৈচিত্র যার প্রকৃত সংখ্যাটা হবে মিলিয়নের ঘরে যা এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বব্যাপী, সামুদ্রিক সম্পদ ও সামুদ্রিক শিল্প হতে বার্ষিক আয় প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বিশ্ব জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। প্রায় ৩ বিলিয়নের বেশী মানুষ বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক জীববৈচিত্রের উপর নির্ভর করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। সামুদ্রিক সকল বন্যপ্রাণী যুগ যুগ ধরে মানব সভ্যতাকে দুহাত ভরে দিয়ে যাচ্ছে, কখনো তা খাদ্য ও পুষ্টি হিসেবে বা কখনো তা বিভিন্ন হস্ত কারু শিল্পে বা নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে। এছাড়াও ইহা বিভিন্নভাবে যেমন, সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক বা চিত্তবিনোদনের মাধ্যমে আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে।
আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এই সামুদ্রিক জীববৈচিত্র আমাদের বাতাসকে নির্মল করে এবং আমাদের চাহিদার ৭০ শতাংশ অক্সিজেন তাদের কাছ থেকেই পাই।

বাংলাদেশের কথা বিবেচনা করলে দেখা যায়, সমুদ্রগর্ভ থেকে যে পরিমাণ সম্পদ আহরণ করা যাবে, তা বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ড থেকে আহরিত সম্পদের ৮১ শতাংশ। কেননা, আমাদের সমুদ্রসীমার ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সমুদ্রের ৩৫৪ নটিক্যাল মাইলেরও বেশি সমুদ্র তলদেশের সম্পদ রয়েছে।
সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। এক. প্রাণিজ সম্পদ, দুই; খনিজ সম্পদ। প্রাণিজ সম্পদ বলতে সাধারণত বোঝানো হয় সমুদ্রে যেসকল প্রাণী থেকে দেশের অর্থনৈতিক যোগান আসে। যেমন- চিংড়ি, শামুক, ঝিনুক, স্কাইড, কাঁকড়া প্রভৃতি (উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ২০-২৫ শতাংশ মাছের যোগান আসে সমুদ্র থেকে)।

আবার শুরুর কথাতে ফেরা যাক।
এই যে অপার সম্ভাবনার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র, হোক তা বাংলাদেশের বা বিশ্বের প্রেক্ষিত, এ জীববৈচিত্র আজ হুমকির মুখে, আর সেই হুমকির মূল হোতা আমরা নিজেরাই। আমরা প্রতিনিয়ত দূষণ করছি সেন্ট মার্টিন সহ বিভিন্ন স্থানে সমুদ্র তীরের পরিবেশ। বিশ্ব সমুদ্রসীমার প্রায় ৪০ শতাংশ আজ আক্রান্ত বিভিন্ন ভাবে, যেমন, মাত্রাতিরিক্ত সামুদ্রিক প্রাজতির আহরণ, দূষণ, সামুদ্র তীরবর্তী বাস্তুসংস্থানের ধ্বংস সাধন ও জলবায়ু পরিবর্তন।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্রের উপরের এই হুমকি প্রভাব ফেলছে সমুদ্রের সাথে যাদের জীবিকা জড়িত।
তাই আসুন, আজকের এই দিনে আমরা সোচ্চার হই, আওয়াজ তুলি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র রক্ষার পক্ষে।
আর শপথ নেই, কক্সবাজার বা সেন্ট মার্টিন, কুয়াকাটা বা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ঘুরতে গেলে ময়লা ও বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলব, যেখানে সেখানে ফেলব না। কেননা, আপনার এই সামান্য প্রয়াসই নিয়ে আসতে পারে এক অভিনব পরিবর্তন।

ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম
প্রভাষক, অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগ
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

About Abu Naser

Check Also

শেকৃবি উপাচার্য ও শেকৃবিসাসের শুভেচ্ছা বিনিময়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় : শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *