Wednesday , February 20 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / আমার ক্যাম্পাস / পবিপ্রবিয়ান তরুণ কৃষিবিদদের কৃষির উন্নয়নে চিন্তা ভাবনা
পবিপ্রবিয়ান তরুণ কৃষিবিদগণ

পবিপ্রবিয়ান তরুণ কৃষিবিদদের কৃষির উন্নয়নে চিন্তা ভাবনা

১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় কৃষিবিদদের দাবি মেনে নিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদায় উন্নীত করেন। এই দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
বর্তমানে কৃষিবিদরা দেশের চালিকা শক্তির অন্যতম ভিত হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। দেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এরই পাশাপাশি প্রতিনিয়ত বাড়ছে কৃষিপন্য রপ্তানির পরিমান। বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে এই সাফল্য আকাশচুম্বী হয়েছে।

দেশের এই সফলতার পেছনে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্ৰযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদরা কৃষির উন্নয়নে রেখে চলেছে অগ্রনী ভূমিকা। এই তরুণ পবিপ্রবিয়ান কৃষিবিদদের কৃষির উন্নয়নে নানা চিন্তাভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন লিখেছেন পবিপ্রবি প্রতিনিধি মোঃ তাহজীব মন্ডল নিশাত।

পবিপ্রবিতে উদ্যানতত্ত্ব বিষয়ে মাস্টার্স শিক্ষার্থী তরুণ কৃষিবিদ তৌকির আহমেদ কৃষির উন্নয়নে নানা সম্ভাবনাময় দিক তুলে ধরে বলেন,
“বর্তমানে দক্ষিনাঞ্চলের লবণাক্ত মাটিতে বিভিন্ন সবজির জীবনকাল ও নিউট্রিয়েন্ট এর ডোজের উপর গবেষণা কাজ করছেন। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি সেক্টর। আমাদের মোট জনসংখ্যার শতকার ৮০ ভাগ এবং শ্রমশক্তি ৬০ ভাগ কৃষিতে নিয়োজিত। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটির অধিক এবং এটি বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ এবং সে সাথে একটি সম্ভাবনাময় বড় বাজার। অভ্যন্তরীণ সম্ভাবনাময় বাজারের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও বাংলাদেশের প্রবেশের বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি এখনো দেশের বৃহত্তর গ্রামীণ জনগোষ্ঠির প্রধান পেশা এবং অধিকাংশ জনগণই জীবন জীবিকা ও কর্মসংস্থান এর জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল, কাজেই কৃষিভিক্তিক শিল্পে স্বল্পমাত্রার সঞ্চালনা ও প্রেষণাই আমাদের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে ব্যাপক বিস্ফোরণ সৃষ্টি করতে এবং গ্রামীণ জনগণের জীবন মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জন তথা দারিদ্র্য বিমোচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষিশিল্পের উন্নয়ন এবং এ সেক্টরকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করার জন্য কৃষি সেক্টরের উন্নয়ন স্বাভাবিকভাবেই অগ্রাধিকার অর্জন করেছে। তবে ২০০৮ সাল থেকে বাজেটে কৃষি সেক্টরের বরাদ্দ তেমন বাড়েনি, বরং মোট বাজেটে তা শতকরা হারে ক্রমাগত কমছে। জাতীয় বাজেটে মোট ভর্তুকির পরিমাণ বেড়েছে কিন্তু কৃষিখাতে তা প্রতিবছর ক্রমাগতভাবে কমছে। বাংলাদেশের কৃষি জমি খন্ড-বিখন্ডিত এবং তা সাধারণত ছোট, যা সমবায় পদ্ধতিতে আবাদ করে উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে। সমবায় পদ্ধতিতে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার জনপ্রিয়তার লাভ করছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। দেশের সমূদ্রসীমায় লবণাক্ত পানিতে হাইড্রোপনিক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাপক এলাকা চাষের আওতায় এনে অতিরিক্ত ফসল ফলানো সম্ভব হবে। এবং শহরাঞ্চলের বাড়ীর ছাদে ছাদে ফুল, ফল ও সবজি শোভা পাবে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করবে। গ্রামগুলোও একসময় রাস্তার দুপাশ দিয়ে সুবৃহৎ অট্রালিকা আকারে গড়ে উঠবে এবং কৃষিজমির উপর চাপ কমানো সম্ভব। এভাবে বাংলা আবার শস্য শ্যামলে ভরপুর হয়ে তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।”

কৃষিবিদ তৌকির আহমেদ

পবিপ্রবির ফার্মাকোলজি বিষয়ে মাস্টার্স শিক্ষার্থী কৃষিবিদ আরিফুর রহমান রায়হান বলেন, “কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষির কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমাদের খামারিরা তাদের পর্যাপ্ত মূল্য পাচ্ছে না। যার ফলে দিন দিন খামারির সংখ্যা কমে যাচ্ছে বেড়ে যাচ্ছে অনাবাদি জমি। তাই তাদের পর্যাপ্ত মূল্যের দিকে নজর দেয়া উচিত।

এরপরে দেখা যাচ্ছে এ সেক্টরে শিক্ষিত উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না। আমাদের শিক্ষিত সমাজ ছুটছে সরকারী চাকরীর পিছনে যার ফলে তৈরি হচ্ছে না উদ্যোক্তা। তাই উদ্যোক্তা তৈরির ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরি করা উচিত। এবারে আমি যদি আমার প্রাণিসম্পদ সেক্টরের কথা বলি, প্রথমত এ সেক্টরে আজ পর্যন্ত অর্গানোগ্রাম হয়নি। যার ফলে দেশে রয়ে গেছে পর্যাপ্ত চিকিৎকের অভাব। একটি উপজেলায় মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে কখনই একটি উপজেলার লাখের উপরে মানুষের প্রানিসম্পদের সেবা দেয়া সম্ভব না। যার ফলে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে অনেক খামারি। প্রাণিসম্পদ সেক্টরে পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগের জন্য অনতিবিলম্বে অর্গানোগ্রামের বাস্তবায়ন জরুরী। বঙ্গবন্ধু এদেশের কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণিরর মর্যাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু মর্যাদা বা সুযোগ সুবিধার তারতম্যের জন্য অসংখ্য কৃষি কিংবা ভেটেরিনারি গ্রাজুয়েট আজও ঝুকছে প্রশাসন কিংবা পুলিশ ক্যাডারের দিকে। তাই একই গ্রেডের সকল সেক্টরে সমান সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা উচিত তাহলে এক প্রফেশনের গ্রাজুয়েট আর অন্য প্রফেশনে ঝুকবে না। বঙ্গবন্ধুর অবদান কৃষিবিদ ক্লাস ওয়ান। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে দেশ পেলো একজন কৃষিবিদ কৃষিমন্ত্রী এ দেশটা কৃষি নির্ভর তাই দেশের উন্নতির জন্য এ সেক্টরে সরকারের আরো জনরদারি বাড়ানো উচিত।”

কৃষিবিদ আরিফুর রহমান রায়হান

ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিনের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাবেক পবিপ্রবিয়ান মোস্তাফিজুর রহমান পাপ্পু বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিদ দের ১ ম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করেন। উনারই সুযোগ্য উত্তর সুরি জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিশন ২০২১ ও রুপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সারাদেশের কৃষি বিদ গন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি জাতির পিতার ক্ষুধা,দারিদ্রতা মুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে এদেশের কৃষি বিদ্গণ সর্বদা এভাবেই নিজ নিজ স্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সকলকে কৃষিবিদ দিবসের শুভেচ্ছা জানাই।”

কৃষিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান পাপ্পু

পবিপ্রবিতে একুয়াকালচারে মাস্টার্স শিক্ষার্থী কৃষিবিদ আরিফুর রশীদ প্রিন্স বলেন, “একটা সময় আমরা ৭ কোটি মানুষের খাবার দিতে পারতাম না, বাংলাদেশ সরকারের কৃষিখাতে সাফল্যের সরূপ এখন বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের খাবার যোগান দেওয়ার পরেও আমরা খাবার রিজার্ভ রাখতে সক্ষম। আমাদের ল্যান্ড এড়িয়া ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিঃমিঃ যেখানে আমাদের মেরিন এড়িয়া ১,৬৬,০০০ বর্গ কিঃমিঃ। বাংলাদেশ এই বিশাল জলরাশিকে কাজে লাগাতে পারলে এক সমুদ্র এলাকা থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভাবে অনন্য একটি মাত্রায় যাওয়ার সমূহ একটা সম্ভাবনা রয়েছে।”

কৃষিবিদ আরিফুর রশীদ প্রিন্স

কৃষি ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাবেক পবিপ্রবিয়ান কৃষিবিদ সিনথিয়া মরিয়াম সানিয়া বলেন,
“প্রকৃতি নিবিড়,সবুজের সমারোহ,জলবেষ্টিত এই বাংলার জনপদের সবচেয়ে বড় সম্পদ কৃষি। কৃষকের লাঙল, নিড়ানির ছোঁয়ায় আমার দেশের ভূমি রাঙিয়ে দেয় সবুজ ফসলে।সময়ের প্রতীক্ষায় তারা বসে থাকে কখন তার ফসল টুকু সোনালী বা হলুদের আভরণে ছড়িয়ে যাবে কারণ বাংলার জনগনের একটা বিশাল অংশ তাদের জীবন ধারণের জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল।বাংলাদেশের শ্রম নির্ভর কৃষিতে খাদ্য উৎপাদনে উন্নতির মাত্রা অর্জিত হয়েছে।প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বর্তমান কৃষি অধিকতর উন্নতির শিখরে পৌছে গেছে।এভাবে প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি সভ্যতা,কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের দেশের বর্তমান সরকার, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবাই কে কৃষি দিবসের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। শুভ কামনা রইলো নবীন প্রবীন সকল কৃষিবিদ এর প্রতি,শ্রদ্ধা রইলো সকল কৃষক দের প্রতি।”

কৃষিবিদ সিনথিয়া মরিয়াম সানিয়া

About Tahzib Mondal

Check Also

নোবিপ্রবির ২য় সমাবর্তনে স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ১১ জন

মোঃ আল আমীন (আকাশ), নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২৪শে ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *