Wednesday , February 20 2019
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / কৃষিবিদ দিবসের সাতকাহন…

কৃষিবিদ দিবসের সাতকাহন…

তাহজীব মন্ডল নিশাত, পবিপ্রবি থেকেঃ আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস। ২০১০ সালের ২৭ নভেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে কৃষিবিদদের এক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকেই স্নাতক শেষ করে চাকরিতে যোগদানের সময় কৃষিবিদদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হতো। তাই ঐসময় থেকেই চিকিৎসক এবং প্রকৌশলীদের মতো কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা দেয়ার দাবি উঠতে থাকে। স্বাধীনতার পরেও কৃষিবিদদের এ দাবি অব্যাহত থাকে। ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় কৃষিবিদদের এই দাবি মেনে নেন। ওই দিনই কৃষিবিদদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদায় উন্নীত করেন। বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষিবিদদের অবদান তুলে ধরাসহ ওইদিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস পালন করা হয়। বর্তমানে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের ৬৪টি জেলা শাখায় ও দেশের বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাসহ যথাযথ মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কৃষিবিদ দিবস পালিত হয়।

কৃষি প্রধান বাংলাদেশে কৃষিবিদদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বঙ্গবন্ধুর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগে কৃষিবিদদরা যেমন সম্মানিত হয়েছেন তেমনি দেশে কৃষিরও ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। সেই সাথে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও কৃষি জমির ক্রমহ্রাসমান পরিস্থিতিতে কৃষির নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাদ্যশস্য, মাছ, দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধিসহ প্রায় ১৬ কোটির দেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সেই সাথে সল্প পরিসরে খাদ্য রপ্তানির অগ্রগতিও অর্জিত হয়েছে। আমাদের গর্ব বিষয় বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১২১ টি দেশে বাংলাদেশের কৃষি পন্য রপ্তানি হয়।

কৃষিখাতে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকেই বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় যা বিভিন্ন প্রকল্প ও সংস্থার মাধ্যমে কৃষিখাত উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। গড়ে তোলা হয়েছে কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণা ক্ষেত্র, বৃদ্ধি করা হচ্ছে কাজের পরিধি, সহজলভ্য করা হয়েছে কৃষি উপকরণ, সল্প কিংবা বিনাসুদে দেয়া হচ্ছে কৃষিঋণ, কৃষিকে আধুনিকায়ন করা সহ নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তীয় কৃষক ও খামারিদের কাছে পৌছে দেয়া হচ্ছে আধুনিক কৃষি শিক্ষা। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ কৃষি শস্য, মৎস্য ও গবাদিপশু উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ স্থানগুলো দখল করে নিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বতর্মানে বাংলাদেশ গবাদিপশু উৎপাদনে দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি বিশ্বে ১২তম অবস্থানে আছে, তেমনি ভাবে ছাগলের দুধ উৎপাদনে ২য়, চা উৎপাদনে নবম, পেয়ারা উৎপাদনে ৮ম, মৌসুমে ফল উৎপাদনে ১০ম। পাশাপাশি দেশ এখন মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয় এবং মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। আর ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।

পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ কৃষি সেবা পৌঁছে দিতে প্রায় ১২ এর অধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে কৃষি সম্পর্কিত বিষয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। এই সব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর গড়ে ৫ হাজারেরও অধিক উচ্চ শিক্ষিত কৃষিবিদ বের হচ্ছে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ দেশের উন্নয়নের প্রধান খুঁটি হিসেবে কৃষি শক্ত ভিত স্থাপন করে আছে।

 

সমৃদ্ধ কৃষি নিয়ে এগিয়ে যাক আমার বাংলাদেশ…

About Editor

Check Also

রাসায়নিক দূষণ মুক্ত নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদনে খামারীদের সাথে ক্যাব’র তৃণমূল সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে জীব ধারনামুলক নিরাপত্তা, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও প্রায়োগিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *