Wednesday , February 20 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ময়মনসিংহের মৎস্য চাষিরা আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন

অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ময়মনসিংহের মৎস্য চাষিরা আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)কতৃক ২০১৮ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে বাংলাদেশ। প্রাণিজ আমিষের ৫৮ শতাংশ মাছ দিয়ে মিটিয়ে শীর্ষস্থানীয় দেশের কাতারে এখন বাংলাদেশ।সম্প্রতি দেশের পুকুর ও খালগুলোতে মাছ চাষে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ সফল বিপ্লবের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে ময়মনসিংহ, বগুড়া ও কুমিল্লা জেলায় পুকুরে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘেরে মাছের চাষ। দেশে মাছের মোট চাহিদার অন্যতম যোগান আসে ময়মনসিংহ জেলা থেকে, যা মোট মাছ উৎপাদনের ১১ ভাগ।একইসাথে পাঙ্গাসের মোট উৎপাদনের প্রায় ৫০ ভাগ হয় এখানে।মাছ উৎপাদনের শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ভালুকা ও মুক্তাগাছা এলাকা।

গত বছরে ময়মনসিংহে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন মাছ, যা উক্ত অঞ্চলের চাহিদার তুলনায় চারগুণের বেশি।এখানে বাণিজ্যিক মাছের খামার রয়েছে ৬ হাজার ৩৭১টি।মাছ চাষে জীবিকা নির্বাহ করছে প্রায় সোয়া এক লাখ চাষি।

এই প্রেক্ষাপটেও ময়মনসিংহে মৎস্য চাষে কিছু ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত ২ থেকে ৩ বছর ধরে মাছের তেমন দাম না পাওয়া, খাবারের উচ্চমূল্য ও নিম্নমান নিয়ে বিপর্যয়ের মুখে খামারিগণ। এই খাতে আর্থিক প্রণোদনা পাচ্ছে শুধু রপ্তানিকারক। চাষিরা তেমন কোনো সরকারি সহযোগিতা লাভ করছে না। মৎস্যচাষিরা কৃষিঋণের মাত্র ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পেয়ে থাকে। ডিজেল ও বিদ্যুতে কোনো প্রকার ভর্তুকিও বরাদ্দ নেই। আবার উৎপাদন বেশি হলেও কোনো হিমাগার এখনো নির্মিত হয়নি। মাছের উৎপাদন খরচ এবং দাম প্রায় সমান। অর্থাৎ মাছের খাবার ও অন্যান্য উপকরণ খরচের বিপরীতে যে দামে চাষিরা মাছ বিক্রি করছে তাতে তাদের লাভ না হয়ে বরং অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে থাই কই, তেলাপিয়া, রুই, পাঙাশ মাছ চাষ করে চাষিরা লাভ-লোকসানের মাঝামাঝি ঝুলছে। এমনকি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে রীতিমতো সমস্যার সম্মুখীন তারা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর হিসাবে গত এক বছরে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একমাত্র মাছের দাম তেমন বাড়েনি। তিন বছরের তুলনা করলে দেখা যাবে দাম কিছুটা কমেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মাছের খাবারের দাম কমানো, মৎস্যচাষিদের কৃষিঋণ দেওয়া ও জ্বালানিতে তাঁদের ভর্তুকি দিতে না পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশংকা করা যায়।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ জানিয়েছেন , ‘দেশের বিলুপ্তপ্রায় ছোট মাছগুলো আবারও সাধারণ মানুষের খাবারের টেবিলে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমাদের উদ্ভাবিত চাষপদ্ধতির কারণে আজকে টেংরা, গুলশা, পাবনা, শিং ও মাগুর মাছের উৎপাদন কয়েক গুণ বেড়েছে। এমন আরও ১৮টি মাছের আধুনিক চাষপদ্ধতি ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে আমরা গবেষণা করছি। আশা করি, এতে চাষিদের মাছের দাম না পাওয়ার দুঃখ দূর হবে। বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ আরও এগোবে।’

মাছচাষিদের বক্তব্য মাছের খাবারের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি নজরদারি এবং বিদেশে মাছ রপ্তানির ব্যবস্থা করা। একইসাথে মাছ চাষে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

সূত্রঃ সময় নিউজ

About Saleha Khatun Ripta

Check Also

রাসায়নিক দূষণ মুক্ত নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদনে খামারীদের সাথে ক্যাব’র তৃণমূল সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে জীব ধারনামুলক নিরাপত্তা, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও প্রায়োগিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *