Wednesday , February 20 2019
সর্বশেষ
Home / Uncategorized / বাকৃবি ছাত্রলীগের গ্রুপিংয়ে হলে কৃত্রিম সিট সংকট

বাকৃবি ছাত্রলীগের গ্রুপিংয়ে হলে কৃত্রিম সিট সংকট

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রতিবছর শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও তৈরি হচ্ছে না নতুন আবাসিক হল। এঅবস্থায় আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের সিট বাণিজ্যের কারণে কৃত্রিম সিট সংকট দেখা দিয়েছে। আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের গ্রুপিংয়ের কারণেই ওই সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক নয়টি হলের কোনটিতে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পক্ষ কোনটিতে সাধারণ সম্পাদক পক্ষ আবার কোনটিতে দুটি পক্ষই অবস্থান করে হলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে এর মধ্যে শাহজালাল হলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের দুটি গ্রুপই একসাথে অবস্থান করছে। সিট বাণিজ্যেকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রেষারেষিতে হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহজালাল হলে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী ও সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহম্মাদ রুবেলের অনুসারী দুই গ্রুপ অবস্থান করছে। ওই হলের আটটি ব্লকের চারটি সভাপতি পক্ষ অপর চারটি সাধারণ সম্পাদক পক্ষের নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া হলে আরো দুটি পিএইচডি ব্লক রয়েছে। এসব ব্লকে নিজেদের মতো করে সিটের বন্টন করছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। দুই গ্রুপের কারণে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সিটের ব্যবস্থা করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ক্লাস পরীক্ষার সময়ও ইচ্ছামত সিট পরিবর্তন করতে বাধ্য করছে তাদের। প্রতিবছর ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে ছাত্রলীগের টাকার বিনিময়ে সিট দেওয়া ও নিজেদের সুবিধা মতো সিটে থাকায় হলে সিটসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সিট সংকট নিরসনে হল প্রশাসনের কোন ভূমিকা লক্ষ করা যায়নি। সিট বন্টনে ছাত্রলীগই হল প্রশাসনের দ্বায়িত্ব পালন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে হলের শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন করছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও হলের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ ও সীট বন্টনের সাথে হলের ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. গোলাম মোর্শেদ (মুরাদ), সহ-সভাপতি সাকিবুল হাসান জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহজালাল হলে ছাত্রলীগ সিট সংকটের অজুহাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক রুমে অতিরিক্ত লোক উঠিয়ে নিচতলা খালি করছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫হাজার থেকে ৬হাজার টাকা নিয়ে তাদেরকে হলের ওই সিটগুলো দেওয়া হচ্ছে। ফলে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সিট পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ কাজীর অনুসারী হলের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করতে আসা ২১জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৫হাজার টাকা নিয়ে হলে উঠিয়েছে। অন্যদিকে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেলের অনুসারি হলের সভাপতি আবু সাঈদ অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করতে আসা ১০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ থেকে ছয় হাজার টাকা নিয়ে হলে উঠিয়েছে। হল সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের পক্ষের ব্লকে কম শিক্ষার্থী থাকায় তারা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশি শিক্ষার্থীকে টাকার বিনিময়ে উঠানোর সুযোগ পাচ্ছে। প্রথমদিকে গ্রুপে জনবল বাড়াতে ১ম থেকে তৃতীয় বর্ষের অধিকাংশ জুনিয়র শিক্ষার্থীকে হলের সভাপতি পক্ষে উঠানো হলেও সিট বানিজ্যের মাধ্যমে টাকা আয়ের এমন সুযোগ না পেয়ে সেসব শিক্ষার্থী এখন বোঝা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে হল সভাপতি গ্রুপ নানা ভাবে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। জুনিয়রদের অপর পক্ষের ব্লকে পাঠানো ও পরবর্তী কমিটিতে পদের জন্য ওই ঝামেলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি হলে এমন তথ্য উঠে এসেছে অন্য হলগুলোতে প্রায় একই অবস্থা।
অন্য হল থেকে এসে শাহজালাল হলে এক রুম দখল নিয়ে আছেন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শফিউল আলম। সাথে অন্য কক্ষে তার এক পরিচিত বাহিরের লোককে হলে উঠিয়েছেন শফিউল আলম। এছাড়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি এক কক্ষে দুজন করে আছেন। অন্য ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা দুই-তিন জন করে থাকছে। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক কক্ষে চার-পাঁচজন করে থাকছেন।
এদিকে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের রুম সংকট থাকলেও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেলের অনুসারীরা হলের পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দুটি কক্ষে দুজন থাকছেন। অপরদিকে টাকার বিনিময়ে ডাইনিংয়ের একটি অতিরিক্ত কক্ষে একজন পিএইচডি ও একজন মাস্টার্সের শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। এছাড়া পিএইচডি ব্লকে কিছু ¯œাতক ও ¯œাতকত্তোর বিদেশী শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া হয়েছে।
হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কিছুদিন আগেও এ হলে এত সমস্যা ছিলো না। বর্তমান কাজী-রুবেল কমিটিতে ছাত্রলীগের গ্রুপিংয়ের কারণে কৃত্রিম সিট সংকট তৈরী হয়েছে। সিট বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় আমাদের প্রতিটি রুমকে গণরুম করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গোপাল দাস বলেন, হলের প্রতিটি দ্বায়িত্ব হাউজ টিউটরদের বন্টন করে দেওয়া আছে। তারা সেগুলো দেখছে। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন এটা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়েরই চিত্র।
বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত হলের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাকিবুল হাসানকে প্রশ্ন করলে অভিযোগ অস্বীকার করে মোবাইল বন্ধ করে রাখেন।
প্রতিবেদক এসব বিষয়ে জানতে হলের সভাপতি মো. আবু সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলামের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
প্রতিবেদকের কাছে এসব অভিযোগের তথ্য প্রমাণ সংরক্ষিত আছে।

About Shahin Sardar

Check Also

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাকৃবি ছাত্রলীগের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

শাহীন সরদার, বাকৃবি প্রতিনিধি ছাত্রলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কৃষি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *