Wednesday , February 20 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / আমার ক্যাম্পাস / খুবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

খুবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

ছালেহা খাতুন রিপ্তা, খুবি প্রতিবেদক :  গতকাল ১৭ জানুয়ারি খুবিতে প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা এবং বিশেষ বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন যথাক্রমে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রাণ গোপাল দত্ত।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্যায়ে খুবির উপাচার্য প্রথাগতভাবে নবীন শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করান এবং স্ব স্ব স্কুল ও ইনস্টিটিউটের নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন স্কুলসমূহের ডিনবৃন্দ ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরীফ হাসান লিমন এবং আয়োজক কমিটির আহবায়ক চারুকলা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মনিরুল ইসলাম।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান দীর্ঘ একঘন্টাব্যাপী তাঁর জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যে নবাগত শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেন। দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণার পাশাপাশি উদ্ভাবনী দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তাদেরকে বড় স্বপ্ন দেখতে আহবান জানান। চাকরির পেছনে না ছুটে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে দেশেমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত হতে বলেন। তিনি তার বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধুকে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন “তিনি শুধু একটি স্বাধীন দেশ ও জাতির স্বপ্নই দেখেননি তিনি ক্ষুধামুক্ত, শোষণমুক্ত এবং সমৃদ্ধ দেশের স্বপ্নও দেখেছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখা সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথেই এগিয়ে যেতে সকলকে অনুপ্রাণিত করেন। তিনি তাঁর আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন “এখন আমাদের মুল্যস্ফীতি কমছে। রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে বেড়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। জীবনমান বেড়েছে। এখন ভোগের বৈষম্য হ্রাস করতে হবে।“ পাশাপাশি তিনি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রুটিগুলো সারিয়ে তুলে শিক্ষাকে প্রাণবন্ত করার আহবান জানান। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সৃষ্ট প্রবল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিক্ষা ক্ষেত্রে উদ্ভাবনা ও সৃজনশীলতার উপর জোর দিতে বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাভাবনাসহ বিভিন্ন উক্তি ও উদ্বৃতি তুলে ধরেন। ড. আতিউর রহমান বলেন “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে এ বিশ্ববিদ্যালয় একদিন অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজে পরিণত হবে।“ এ লক্ষ্যে তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান।

এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রাণ গোপাল দত্ত। তিনি তার বক্তব্যে জীবনের বিভিন্ন পরতে পরতে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সকলকে নৈতিকতার জায়গাটির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে বলেন। শিক্ষার্থীদেরকে তিনি পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের প্রতি আজীবন শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি মোবাইল প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার, অপব্যবহার এবং অপকারিতার বিষয়টি স্পষ্ট করে বই পড়ার আনন্দে অবগাহনে আহবান জানান। তিনি বলেন “একজন চিকিৎসক হিসেবে এখন দেখতে পাচ্ছি কিশোর বয়সী বা নবীন যুবক-যুবতীদেরও শ্রবণ সমস্যা বাড়ছে। এটা মোবাইলে অতিরিক্ত সময় কথা বলার কুফল।” মোবাইলে একটানা কথা না বলে মাত্র বিশ সেকেন্ডে প্রয়োজনীয় কথা সারা উত্তম বলে অভিমত ব্যক্ত করেন এই খ্যাতিমান চিকিৎসক।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান নিজেদেরকে মাদকমুক্ত, নেশামুক্ত রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত রাখার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান। তিনি আরও বলেন “ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল অবকাঠামোগতভাবে সমৃদ্ধ হলে চলবে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো শিক্ষাদানের পাশাপাশি গবেষণা করা। গবেষণার অর্থই হচ্ছে সত্যের অনুসন্ধান, নতুনত্ত্বের সন্ধান এবং নীতি-নৈতিকতা, মুক্তচিন্তার বিকাশ, মানবিকতা ও মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করা।“ নবীন শিক্ষার্থীরা সে মূল্যবোধ ধারণ করেই জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অতঃপর অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ও বিশেষ বক্তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একইসাথে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরকে কৃতিত্বের স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

এছাড়া বিকেল সাড়ে তিনটায় অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের কুয়েস (খুলনা ইউনিভার্সিটি ইকোনোমিক্স সোসাইটি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাইক্রোইকোনোমিক্স ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ শীর্ষক অর্থনীতির ওপর একক বক্তব্য রাখেন ড. আতিউর রহমান। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. শাহনেওয়াজ নাজিমুদ্দিন আহমেদ।

About Nur E Kutubul Alam

Agri Journalist | Future Farmer | Student

Check Also

নোবিপ্রবির ২য় সমাবর্তনে স্বর্ণপদক পাচ্ছেন ১১ জন

মোঃ আল আমীন (আকাশ), নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২৪শে ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *