Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / ক্লাশ-পরীক্ষা চলমান রাখার দাবিতে অনশনে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীগন

ক্লাশ-পরীক্ষা চলমান রাখার দাবিতে অনশনে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীগন

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই অনুষদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষার দাবিতে প্রশাসনি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

দীর্ঘ দুই মাস অপেক্ষার পর আজ বুধবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ক্লাশ-পরীক্ষার কোন নিশ্চিয়তা না পেয়ে তারা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে তারা নিজ অনুষদীয় একাডেমিক ভবন ড. এম এ ওয়াজেদ ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালনে করে।

এর আগে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম এর কাছে গেলে তিনি বলেন, আমরা কিছুক্ষন আগেও সিএসই অনুষদের শিক্ষকদের সাথে আলোচনায় বসেছিলাম। আমরা তাদের অনুরোধ করেছি ক্লাশ-পরীক্ষা নিতে। কিন্তু তারা প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আলোচনা শেষ না করেই চলে যান।

উপাচার্য বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অবস্থা তাতে করে শিক্ষার্থীদের মুখের দিকে তাকালে আমি খুব কষ্ট পাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক আশা নিয়ে আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আমার অনেক কিছু দেওয়ার আছে। কিন্তু সৃষ্ট সমস্যার কারণে আমি কোন কাজ ভালোমত করতে পারছি না।

তিনি বলেন, আগামীকাল সকাল ১১টায় প্রগতিশীল শিক্ষকদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনা রয়েছে। সেখানে সব কিছুর সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদের শিক্ষার্থী আমাদের সহপাঠীরা বর্তমানে অনার্স শেষ করে মাস্টার্সের ২য় সেমিস্টারে রয়েছে। আর সেখানে আমরা এখনো অনার্স শেষ করতে পারি নাই।

তারা বলেন, শিক্ষকদের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ এ অবস্থা। তাদের অভ্যন্তরীণ সৃষ্ট সমস্যার কারণে আমরা এখনো অনার্স শেষ করতে পারি নাই। গত দু-মাস আমরা ক্লাশ-পরীক্ষার জন্য অনুষদের ডীন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে গিয়েছি। কিন্তু কোন সমাধান আমরা পাইনি। তাই আমরা আমাদের পরিবার এবং নিজেদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করা হলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা সহ আমরণ অনশন কর্মসুচি দিতে বাধ্য হবো। প্রশাসন এবং প্রগতিশীল শিক্ষকদের একটি অংশ মিলে যেভাবে আমাদের সাথে লুকোচুরি খেলতেছেন তা অত্যান্ত দুখ জনক। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতি আছে বলে আমাদের জানা নেই। আপনাদের নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে আজ শিক্ষার্থীদের বিরাট একটি অংশ সেশন জটের কবলে ধাবিত হয়েছে। আমরা দ্রুত ক্লাস পরীক্ষায় ফিরে যেতে চাই। এজন্য যা করতে হয় আপনারা সেটা করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামকে সমুন্নতে রাখেন।।

উল্লেখ্যে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম এবং প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপকে পদন্নোতি প্রাপ্ত শতাধিক শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান কর্মসুচি পালন করে আসছে। তাদের আন্দোলনের ফলে বেশ কিছু বিভাগের ক্লাস -পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে গত ৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি-২০১৯ পর্যন্ত প্রশাসন ক্যাম্পাস বন্ধ রাখলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ক্যাম্পাস খোলার পর পুনরায় শিক্ষকেরা আন্দোলনে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে।

ইউজিসি থেকে সদ্য পদন্নোতি প্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকদের ইনক্রমিন্টের দাবী নাকচ করে দেয়ার পরেও তাদের পুনরায় আন্দোলনের কারনে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ আরো ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

About Editor

Check Also

বাকৃবিতে শিক্ষার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দিল ছাত্রলীগ

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক শিক্ষার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *