Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / ফসলের মাঠে ইঁদুরের উপস্থিতির লক্ষণ ও দমন ব্যবস্থাপনা…

ফসলের মাঠে ইঁদুরের উপস্থিতির লক্ষণ ও দমন ব্যবস্থাপনা…

ইঁদুর ফসলের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রাণী। এটি ফসলের অনেক ক্ষতি করে থাকে। ইঁদুরের বৈজ্ঞানিক নাম Rattus norvegicus। আসুন জেনে নেই ইঁদুরের উপস্থিতির লক্ষণ ও দমন ব্যবস্থাপনা।

ইঁদুরের উপস্থিতির লক্ষণসমূহ

ক) ফসলের মাঠে ইঁদুরের উপস্থিতি বোঝার উপায় হল কিছু কাঁটার শব্দ, নখের দ্বারা আঁচড়ানোর শব্দ, কোন কিছু বেয়ে ওঠার অথবা নামার শব্দ, ক্ষণস্থায়ী চি চি শব্দ, চলাচলের রাস্তায় মল, নোংরা দাগ, পায়ের ছাপ, ইঁদুর যাতায়াতের পথের সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখে ইঁদুরের উপস্থিতি বুঝা যায়।

খ) ইঁদুরের গায়ের গন্ধ এবং পোষা প্রাণীর লাফঝাপ বা অদ্ভুত আচরন বা উত্তেজনা ইত্যাদি উক্ত স্থানে ইঁদুরের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

গ) যদি কখনও কাঠের গুড়া, দরজা, জানালা, ফ্রেম, গুদামের জিনিসে ক্ষতির চিহ্ন ইত্যাদি দেখাঁ যায় তাহলে বুঝতে হবে এখানে ইঁদুর আছে। 

ঘ) এছাড়া আক্রান্ত আনারস, নারকেল, আখ, ঘর বা গুদামে রক্ষিত ধান, চাল, গম রাখার বস্তা কাঁটা দেখে, ধানের ক্ষেতে ৪৫ ডিগ্রী কোণে ধান গাছের কাঁটা অংশ, ইঁদুরের খাওয়া ধানের তুষ দেখে এদের উপস্থিতি বোঝা যায়। 

ঙ) অথবা ঘরে বা তাঁর পাশে ইঁদুরের নতুন মাটি অথবা গর্ত, ফসলের মাঠে, আইলে ও জমিতে ছোট রাস্তা, বাঁধ, পুল, প্রভৃতির পাশে গর্ত দেখে ইঁদুরের উপস্থিতি ও সংখ্যা নির্ণয় করা যায়।

ইঁদুর দমন ব্যবস্থাপনা

ক) ইঁদুর দমনের জন্য ঘর-বাড়ি, ক্ষেত ও গুদাম ঘরের আশেপাশে সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

খ) ধান, গম ফসলের গোলা বা ডোল মাটিতে রাখা যাবে না। এগুলোকে  মাচার উপর রাখতে হবে এবং গুদামের শস্য টিনের পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। 

গ) নারিকেল গাছের গোড়ায় টিনের মসৃন পাত অথবা পলিথিন এমনভাবে জড়িয়ে দিতে হবে যেন ইঁদুর তা বেয়ে উঠতে না পারে। তাহলে ইঁদুর আর কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

ঘ) যেসমস্ত প্রাণী ইঁদুরের শত্রু সেসকল প্রাণীকে সংরক্ষণ করতে হবে।  যেমন শেয়াল, বেজি, বনবিড়াল, গুইসাপ, পেচা ইত্যাদি।

ঙ) ইঁদুর দমনের জন্য ইঁদুরের গর্তে খুড়ে গর্তে পানি ঢেলে মরিচ পোড়ার ধোয়া দিয়ে ইদুরকে বের করে পিটিয়ে মারতে হবে। 

চ) বিভিন্ন প্রকার ফাঁদ পেতে ইঁদুর মারার ব্যবস্থা নেওয়া। যেমন- ছোট কল স্থাপন করা, বাঁশের তৈরি ফাঁদ, লাউয়ের বসের ফাঁদ ( গর্তের ইঁদুর) মাটির হাড়ি আঠার ফাঁদ এর সফলতা ৯০-৯৫%।

ইঁদুর দমনে রাসায়নিক দমন পদ্ধতি

 ক) তীব্র বিষ (Acute poison) তীব্র বিষ হচ্ছে- জিঙ্ক ফসফাইড।

খ) দীর্ঘস্থায়ী বিষ (Chronic poison) দীর্ঘস্থায়ী বিষ খাওয়ার সাথে সাথে ইঁদুর মারা যায় না, ইঁদুর মারা যেতে ৯-১৩ দিন সময় লাগে। ৯০-১০০% ইঁদুর মারা যাবে (খুবই কার্যকর)। দীর্ঘস্থায়ী বিষ যেমন- ল্যানির্যামট, ব্রমাপয়েন্ট, ব্রোমাডিওলন, ব্রডিফেকাম, ফ্লোকোমাফিন, ক্লেরাট।

গ) ইঁদুরের গর্তে বিষবাস্প প্রয়োগ করেও ইঁদুরকে মারা যায়। যথাঃ সাইনোগ্যাস, ফসটক্সসিন ট্যাবলেট।

আরও তথ্যের জন্য আপনার নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি অফিসার অথবা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।

তথ্য সূত্র-

উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

About Editor

Check Also

বাবুগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ হাসি

আব্দুল্লাহ মামুন, বাবুগঞ্জ থেকেঃ চলতি রবি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ব্যাপক পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ প্রচুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *