Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / টবে ড্রাগন ফলের চাষের এ টু জেড…

টবে ড্রাগন ফলের চাষের এ টু জেড…

ড্রাগন ফল নামটি শুনলে কেমন লাগে তাই না। এটা আবার কেমন ফল? এটাকি খাওয়া যায়? ড্রাগন ফলের গাছ দেখতে একদম ক্যাকটাসের মতো। এই ফলটি অনেক সুস্বাদু একটি ফল। এটি আমাদের দেশের ফল নয়। এর আদি নিবাস আমেরিকায়। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ফলের চাষ হয়ে থাকে। আপনার বাড়ির চিলেকোঠা বা ছাদে অথবা ঘরের বারান্দায় অথবা বাড়ির আঙ্গিনায় বা উঠোনে এই বিদেশী ফলের চাষ করতে পারেন। আসুন জেনে নেই কিভাবে আপনার বাড়িতে ড্রাগন ফল চাষ করবেন। 

ড্রাগন ফল চাষে কি ধরণের টব/পাত্রের আকৃতি বাছাই করবেন 

বাড়ির ছাদে আপনি টব বা ড্রামে করে এই ফলের গাছ চাষ করতে পারেন। তবে ছাদে ড্রাগন ফলের কাটিং লাগানোর জন্য টব বা ড্রামই সর্বোত্তম। 

কিভাবে ড্রাগন ফলের টব/মাটি তৈরি করবেন 

প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থসমৃদ্ধ বেলে-দোঁআশ মাটিই ড্রাগন চাষের জন্য উত্তম। এক্ষেত্রে প্রথমে বেলে দোআঁশ মাটি, গোবর, টি,এস,পি, পটাশ সার, একসাথ করে টব বা ড্রামের মধ্যে পানি দিয়ে রেখে দিতে হবে ১০-১২ দিন । এর পর এই মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিতে হবে এবং এই অবস্থায় ৪ অথবা ৫ দিন রেখে দিতে হবে। মাটি যখন ঝুরঝুরে হবে তখন একটি কাটিং এর চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে ।

ড্রাগন ফল চাষ/রোপনের সঠিক সময় 

ড্রাগন ফল মূলত ক্যাকটাস পরিবারের সদস্য। বছরের যে কোন সময়েই আপনি বাড়ির ছাদে ড্রাগন ফলের চাষ করতে পারেন। তবে এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে লাগানো সবচাইতে ভাল। কারণ এই সময়ে লাগালে ভালো ফলন পাওয়া যায়। 

ড্রাগন ফলে চাষে কিভাবে বীজ বপন ও সঠিক নিয়মে পানি সেচ দিবেন

ড্রাগন ফল চাষে টবের বা ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । এর পর কাটিং গুলোকে টব বা ড্রামের ভিতরে লাগিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে টব বা ড্রামের গাছটিকে ছাদের এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সবসময় রোদ থাকে। ড্রাগন ক্যাক্টাস জাতীয় গাছ তাই পানি খুব কম দিতে হবে । লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি কখনই জমে না থাকে।  

সঠিক নিয়মে ড্রাগন ফলের  চাষাবাদ পদ্ধতি/কৌশল

কাটিং বা চারা লাগানোর পরে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে। টব বা ড্রাম একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থাপন করতে হবে। 

ড্রাগন ফল গাছের পোকামাকড় দমন ও বালাইনাশক/কীটনাশক কিভাবে প্রয়োগ করবেন

ড্রাগন ফল গাছের সাধারণত কোন ধরণের বালাই খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে মাঝে মধ্যে মূল পচা, কান্ড ও গোড়া পচা রোগ দেখা যায়। এছাড়াও মাঝে মধ্যে এফিড ও মিলি বাগের আক্রমণ দেখা যায়। বাচ্চা ও পূর্ণ বয়স্ক পোকা গাছের কচি শাখা ও পাতার রস চুষে খায়, ফলে আক্রান্ত গাছের কচি শাখা ও ডগার রং ফ্যাকাশে হয়ে যায় ও গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। তাই একে দূর করার জন্য সুমিথিয়ন/ডেসিস/ম্যালাথিয়ন ইত্যাদি কিছু পরিমাণ নিয়ে পানিতে ভালভাবে মিশিয়ে স্প্রে করে সহজেই এ রোগ দমন করা যায়।

কিভাবে ড্রাগন ফলের বাগানের যত্ন ও পরিচর্যা করবেন 

ড্রাগনের গাছের কান্ড লতানো প্রকৃতির । তাই চারা লাগানোর পর গাছ কিছুটা বড় হয়ে গেলে খুঁটি বা পিলার পুঁতে দিয়ে ড্রাগন ফল গাছ বেঁধে দিতে হবে । খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়ায় যেন কোন আগাছা না জন্মে। আগাছা জন্মালে নিড়ানি দিয়ে তা পরিষ্কার করতে হবে। 

কখন ড্রাগন ফল  সংগ্রহ করবেন

ড্রাগন ফল গাছে শুধুমাত্র রাতে ফুল দেয়। এ গাছে ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ। যাকে ‘মুন ফ্লাওয়ার´ অথবা ‘রাতের রাণি´ বলে অভিহিত করা হয়। সাধারণত এপ্রিলের শেষ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এতে ফুল ও ফল ধরে। গাছে ফুল ফোটার  ৩৫ – ৪০  দিনের মধ্যেই খাওয়ার উপযুক্ত হয় ।

কি পরিমাণ ড্রাগন ফল পাওয়া যাবে 

বাড়ির ছাদে ড্রাগন ফলের চাষ করে আপনি বেশ ফলন পেতে পারেন। ১.২৫ – ২ বছর বয়সের একটি গাছে ৫-২০টি ফল পাওয়া যায় কিন্তু পূর্ণ বয়স্ক একটি গাছে ২৫-১০০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। টবে লাগানো একেকটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম হতে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

সূত্রঃ পিপিলিকা.কম

About Editor

Check Also

বাবুগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ হাসি

আব্দুল্লাহ মামুন, বাবুগঞ্জ থেকেঃ চলতি রবি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ব্যাপক পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ প্রচুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *