Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় / বিলুপ্তপ্রায় ‘গুতুম’ মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় কাজ করছেন নোবিপ্রবির ড. শ্যামল কুমার

বিলুপ্তপ্রায় ‘গুতুম’ মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় কাজ করছেন নোবিপ্রবির ড. শ্যামল কুমার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিন দিন প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট বিভিন্ন কারণে অধিকাংশ দেশীয় ছোট মাছ বিলুপ্তির পথে রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ‘গুতুম’ বা ‘বেতরঙ্গী’ (পুইয়া/ বুইচ্ছা) মাছ। এ গুতুম বা বেতরঙ্গী মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য কাজ করছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক। এ গবেষক দলের নেতৃত্বে রয়েছেন উক্ত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শ্যামল কুমার পাল। চলুন, তাহলে শুনে আসি উক্ত গবেষক দলের ‘গুতুম’ মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় কৃত্রিম প্রজননে সাফল্যের গল্প।

গল্পের শুরুটা হয়েছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যের মাধ্যমে। একটি সম্মেলনে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন দেশীয় ছোট মাছ রক্ষার জন্য। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ড. শ্যামল কুমার পাল ২০১৮ সালের আগষ্টে ‘বউরাণী’ ও ‘গুতুম’ মাছের কৃত্রিম প্রজননের উদ্দেশ্যে গবেষণা প্রকল্প হাতে নেন। সেজন্য তিনি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বিসমিল্লাহ মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্র ও খামারে এর কার্যক্রম শুরু করেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে বৃহত্তর নোয়াখালী, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয় ও হাওর থেকে  ব্রুডফিশ (মা ও বাবা মাছ) সংগ্রহ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে পরিচর্যা ও বিভিন্ন উদ্দীপক হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে নতুন পোনার কৃত্রিম প্রজনন সফলভাবে সম্পন্ন করেন। কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদনকৃত পোনাগুলোর স্বাস্থ্য ও বেচে থাকার হারও বেশ সন্তোষজনক।

গুতুম মাছের গবেষণা কাজে ব্যস্ত ড. শ্যামল ও তার দলের একাংশ

এ গবেষণা প্রকল্পের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে ড. শ্যামল কুমার পাল এগ্রিভিউ টোয়েন্টিফোরকে জানান, যদিও আমার গুতুম মাছের রেণু পোনার চাষ ও লালন-পালন প্রযুক্তি সফল হয়েছে কিন্তু বউরাণী মাছের সেটা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তাই আমি এখন বউরাণী মাছের দিকে বেশি নজর দিচ্ছি এবং এর সাথে নতুন করে ৪ প্রকারের মাছের কৃত্রিম প্রজনন, রেণুপোনা লালন-পালন প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও  পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাবো।

“দিন দিন ছোট দেশীয় মাছগুলো যে হারে কমে যাচ্ছে সেদিকে লক্ষ্য করে ভবিষ্যত প্রজন্মের উচিত মাছগুলো সংরক্ষণে এগিয়ে আসা। শুধুমাত্র সফল গবেষণা ও মানুষের সচেতনতাই পারে দেশীয় ছোট মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে।” – জানান ড. শ্যামল কুমার পাল।

ড. শ্যামল কুমার পালের নেতৃত্বে এ গবেষক দলে রয়েছেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব ভক্ত সুপ্রতিম সরকার এবং বিসমিল্লাহ মৎস্য বীজ কেন্দ্রের  টেকনিশিয়ান জনাব উত্তম বসু। এছাড়া রয়েছেন  উক্ত বিভাগে অধ্যয়নরত মাজহারুল ইসলাম রাজু, মো. বোরহানউদ্দীন আহমেদ সিয়াম, তৌফিক হাসান, মামুনুর রশিদ, মিঠুন দেবনাথ, নাজমুল হাসান, সৃজন সরকার ও কাজী ফরিদুল হাসান।

উল্লেখ্য, গবেষণা কার্যক্রমটি ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল ট্রেনিং প্রোগ্রাম (এনএটিপি)-২ প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।



About Anik Ahmed

Check Also

বাবুগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ হাসি

আব্দুল্লাহ মামুন, বাবুগঞ্জ থেকেঃ চলতি রবি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ব্যাপক পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ প্রচুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *