Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / বিদায় বেলায়, স্মৃতির পাতায়…
কাপ্তাই লেকের সুবলং ঝর্ণার পাদদেশে জাতীয় পতাকা হাতে শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ

বিদায় বেলায়, স্মৃতির পাতায়…

মো. শাহীন সরদার, বাকৃবি প্রতিনিধিঃ যতদূর মনে পড়ে ১৪ই ফ্রেবুয়ারি ২০১৫ সাল। এশিয়া উপমহাদেশের কৃষি শিক্ষার সূতিকাগার প্রকৃতিকন্যা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সবুজ চত্বরে এসেছিলাম আমরা। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসেই শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পদচারণা। ১৫ই ফেব্রয়ারি ক্লাস শুরু। দেখতে দেখতে আজ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রবীন ব্যাচে পরিণত হয়েছি। এখনো মনে হয় সেদিনইতো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলাম, সময় খুবই দ্রুত ফুরিয়ে যায়। চার বছরের স্নাতক কোর্সের ৮ সেমিস্টারের শেষ সেমিস্টারে আমরা ফিশারিজ ৪৬ তম ব্যাচ। শেষ সময়ে হয় সপ্তাহব্যাপী ট্যুরের আয়োজন। প্রতিটি শিক্ষার্থী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এই প্রতিক্ষিত মুহুর্তেও, বিদায় বেলায় কিছু সুখ স্মৃতি কুড়োতে। ১০৮জনের ক্লাসমেটদের একসাথে স্মৃতি আওড়ানোর এটাই শেষ সুযোগ। দেখতে দেখতে ট্যুরের সেই প্রতিক্ষিত মুহুর্তটিও সামনে চলে আসে। ট্যুর নিয়ে সেমিস্টার শুরু থেকেই চলে জল্পনা কল্পনা পরিকল্পনা। ট্যুরটির আরেকটি গোপন আগ্রহ আছে ক্লাসের কাপলদের জন্য বিনা পয়সায় এনে দেয় হানিমুনের স্বাদ!

রাঙামাটি মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা

ওদিকে না যাই তারা তাদের মতই সুন্দর মুহুতগুলো কাজে লাগাক। গ্রুপে চলে বিভিন্ন পরিকল্পনা। ব্যাচের একটা নাম ঠিক করা হয় ‘ইনভিকটাস ৪৬’ অর্থ অপরাজেয় ৪৬। বানানো হয় একই রঙের টিশার্ট পেছনে অংকে ৪৬ লিখে তার ভিতর ১০৮ জনের নাম। ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ সেই ট্যুর যাত্রার কাঙ্খিত মুহুর্ত। সবাই সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় হ্যালিপ্যাডে জড়ো হই। তারপর সারারাত জার্নি কওে পৌঁছায় চট্রগ্রাম। এরপর এখান থেকে আমাদের সপ্তাহব্যাপী ভ্রমণ চট্রগ্রাম (সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাব, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা , আর-ভি মীন সন্ধানী জাহাজ পরিদর্শন করি), কক্সবাজার (সীবীচ, ফিস ল্যান্ডিং সেন্টার, শুটকী পল্লী, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেখি), সেন্টমার্টিন (সেন্টমার্টিন রাত্রিযাপন, ছেঁড়াদ্বীপভ্রমণ সাথে পলিথিন ও পরিবেশ দূষণীয় পদার্থ আহরণ), বান্দরবান (স্বর্ণ মন্দির, নীলাচল পরিদর্শন), রাঙামাটি (কাপ্তাইলেক, ঝুলন্ত ব্রীজ, সুবলং ঝর্ণা পরিদর্শন) করি।

আমাদের তিনটি বাসে ট্যুরের গাইড শিক্ষক হিসেবে আমাদের সঙ্গী হন আধ্যাপক ড. মো. কামাল, অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম, অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা, সহযোগী অধ্যাপক ড. তানভীর রহমান, প্রভাষক কামরুন নাহার আজাদ। একটা কথা না বললে অপূর্ণতা থেকে যায়। তাহলো ট্যুর নিয়ে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের থাকে অসন্তোষ। যে পরিমাণ বাজেট ও শিক্ষার্থীদের আকাঙ্খার সাথে সমন্বয় ঘটে না। মনে মনে আমরাও প্রস্তুত ছিলাম কথা বলার কিন্তু যখনই গ্রুপে গাউড শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করা হলো। নাম দেখে কারো মুখে কোন কথা বা অনিশ্চয়তার ছাপ ছিলো না। আমাদের কোন দাবি-দাওয়া বা কথা বলার কিছু ছিলো না এবং আটদিনের ট্যুর সফলভাবে করে এসে সেই বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসার জায়গাটি ধরে রেখেছিলেন শ্রদ্ধেয় ট্যুরের গাইড শিক্ষকবৃন্দ।

অধ্যাপক ড. সামছুল আলমের নেতৃত্বে ছেঁড়াদ্বীপ থেকে পলিথিন জাতীয় পদার্থ সংগ্রহ করে নিয়ে আসার সময়

প্রতিটি শিক্ষার্থী ছিলো ট্যুর নিয়ে পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট যা ট্যুর পরবর্তী পুর্ণমিলনী ও গ্রান্ড ডিনারে অনুভ’তি ব্যক্ত করার সময় ফুটে ওঠেছিলো। ট্যুরটিতে ছিলো বৈচিত্রতায় ভরা। আমরা ট্যুর থেকে একাডেমিক প্রাকটিকাল জ্ঞান আহরণ, আনন্দ-সৌন্দর্য উপভোগ যেমন করেছি তেমনই ট্যুরে গিয়েও আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ভুলে যায়নি। সেন্টমার্টিনে রাতে বার-বি-কিউ পার্টি শেষে আমাদের ট্যুর গাইড ও ইলিশের জীবন রহস্য উন্মোচনকারী প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. সামছুল আলম স্যার ঘোষনা দিলেন আমরা সকালে সবাই ছেঁড়াদ্বীপ যাবো এবং ভ্রমণের পাশাপাশি ওই দ্বীপের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন, ও পলিথিন জাতীয় ক্ষতিকর পর্দাথ আহরণ করে আমরা নিয়ে আসবো। ঘোষণানুযায়ী আমরা কয়েকটা বড় বস্তা সাথে নিয়ে রওয়ানা হলাম। ছেঁড়াদ্বীপ গিয়ে গাইড শিক্ষকদের নেতৃত্বে দলে দলে আমরা বিভক্ত হয়ে দ্বীপের ক্ষতিকর পদার্থগুলো বস্তায় পুড়লাম। ঘুরা শেষে বস্তাগুলো লে করে নিয়ে এলাম। সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার সময় সৌভাগ্য হলো টেকনাফে ট্যুরের দলনেতা সকলের শ্রদ্ধেয় ও ভালোবাসার শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো, কামাল স্যারের বাসায় যাত্রাবিরতির। স্যারের আতিথিয়তা ও বাসার সৌন্দর্য দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ হয়েছিলাম। এটা ছিলো ট্যুরের অতিরিক্ত পাওয়া। ঘুম আর খাওয়া ছিলো অপশনাল আমরা প্রতিটা মুহুর্তকে কাজে লাগিয়েছে প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য দর্শনে।

সাগরের বিশালতা ও পাহাড়ের দৃঢ়তাকে সাথে নিয়ে ও অনেকগুলো ভালো লাগার স্মৃতি নিয়ে আবার ফিরে আসি ক্যাম্পাসে। কয়েকদিন পরেই আবার আয়োজন করা হয় ট্যুর পরবর্তী পুর্নমিলনীর। সেখানে আমাদের পরিবেশনায় হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, স্মৃতিচারণ ও বুফে গ্রান্ড ডিনারের আয়োজন করেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্ধ। এসময় অনুষদের অভিভাবক ডিন স্যারসহ চার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকেরা আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করে আনন্দের মাত্রা বহুগুন বাড়িয়ে দেয় সমৃদ্ধ করে অনুষ্ঠানকে। এভাবেই দেখতে দেখতে স্নাতক জীবনের শেষবেলার কাঙ্খিত ট্যুরটিও শেষ হয়ে যায়। রেখে যায় কিছু স্মৃতি। কিছুদিন পর সবাই ছিন্ন ছাড়া হয়ে পড়বে নিজস্ব কর্মব্যস্ততায়। কখনো কখনো দেখা হলে পরিচয় হবে আমরা ছঁয়চল্লিশ বলে। দেখা হলে বলিস আমরা ছঁয়চল্লিশ।

ফটো ক্রেডিটঃ ড. তানভীর রহমান

About Editor

Check Also

বাবুগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ হাসি

আব্দুল্লাহ মামুন, বাবুগঞ্জ থেকেঃ চলতি রবি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ব্যাপক পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ প্রচুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *