Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / পেঁপে চাষ করে আপনিও হতে পারেন স্বাবলম্বী!
ছবি ঃ সংগৃহীত

পেঁপে চাষ করে আপনিও হতে পারেন স্বাবলম্বী!

ছালেহা খাতুন রিপ্তা, খুবি প্রতিবেদকঃ পেঁপে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। এটিকে একদিকে যেমন পাকা ফল হিসেবে খাওয়া যায়, আবার সবজি হিসেবে কাচা পেপে রান্নাও করা যায়৷ বাংলাদেশে তাই পেঁপে একটি উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন খাদ্য। কাজেই ফসলের মাঠে, মৎস্য পুকুরের চারপাশে অথবা বাড়ির পাশের পতিত জমিতে পেঁপের চাষ করে আপনিও খুব সহজেই হতে পারেন স্বাবলম্বী।

পেঁপের ক্ষেত্রে স্ত্রী এবং পুং ফুল কখনও এক গাছে হয়না। তাই ভালো ফলন পেতে আপনার বাগানে অবশ্যই স্ত্রী এবং পুরুষ উভয় গাছ থাকতে হবে

জলবায়ুঃ পেঁপে সাধারণত উষ্ম উপকূলীয় অঞ্চলে ভালো জন্মায়তবে শীত প্রধান দেশগুলোতেও চাষ করা হয়শীতল ঝোড়ো হাওয়ায় থেকে রক্ষা করা গেলে এটি মাঝারি ধরনের তুষারপাতে টিকে থাকতে পারে

ছবি ঃ সংগৃহীত

মাটিঃ এটি প্রায় সব ধরনের মাটিতেই জন্মেকিন্ত মাটিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থাকা যাবেনা অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকতে হবে ভেঁজা স্যাতসেতে মাটিতে গাছের গোড়ায় পঁচন ধরেদোআঁশ মাটি পেঁপে চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী

লাগানোর সময়ঃ বছরের যেকোনো সময় মাটি চাষ করে পেঁপে লাগানো যায় তবে গ্রীষ্মের শেষ দিকে লাগানোই ভালোলাগানোর সময় টি চারার মধ্যকার দূরত্ব . মি. এবং ২টি সারির মধ্যকার দূরত্ব ৩-৪ মি. রাখতে হবে৷

বীজ সংগ্রহঃ সাধারণত পেঁপে থেকে বীজ সংগ্রহ করা খুব সহজ প্রথমে একটি পাকা পেঁপে থেকে বীজ সংগ্রহ করে ভালো ভাবে পানিতে ধুয়ে নিতে হবে বীজগুলোকে হাতের সাহায্যে ভালোভাবে আলোড়িত করতে হবে যাতে  বীজের চারপাশের জেলির মত আবরণ থেকে বীজগুলো আলাদা হয়ে যায় বীজ গুলো জেলির আবরণ থেকে মুক্ত না করলে তা কখনোই অংকুরিতো হতে পারবে নাতারপর একটি ছায়াযুক্ত স্থানে বীজগুলোকে শুকিয়ে নিতে হবে৷ তারপর সেগুলোকে বাতাস চলাচলের অনুপযুক্ত একটি পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে

চারা উৎপাদনঃ মাটিতে গর্ত করে একটি গর্তে টি করে বীজ দিতে হবে৷ গর্তে গোবর বা কম্পোস্ট দেয়া যাবে নাঅংকুরোদগমের পর চারাগাছে নিয়মিত পানি দিতে হবে ফুল ধারনের পূর্বে স্ত্রী এবং পুরুষ গাছকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়না৷ তাই প্রতিগর্তে একাধিক গাছ থাকতে হবে, যাতে পরবর্তীতে প্রয়োজনমতো পুরুষ গাছগুলো অপসারণ করা যায়

স্ত্রী ফুল গুলো সাধারণত বড় হয় এবং শাখার কাছাকাছি থাকেঅপরদিকে পুরুষ ফুলগুলো অপেক্ষাকৃত ছোট হয় কান্ডের লম্বা শাখায় একসাথে অনেকগুলো ফুল জন্মে শুধুমাত্র স্ত্রী উদ্ভিদ থেকে পেঁপে পাওয়া যায় কিন্ত পরাগায়নের জন্য পুরুষ উদ্ভিদও সমান গুরুত্বপূর্ণঅধিক ফলন পেতে  বাগানে ১০ টি স্ত্রী গাছের জন্য অন্তত একটি পুরুষ গাছ রাখতে হবে

চারা রোপণঃ অনেক সময় পলিব্যাগে চারা উৎপাদিত হয় অথবা পলিব্যাগে চারা কিনতেও পাওয়া যায় এসব চারা পূনরায় রোপণ করতে হয় এক্ষেত্রে জমিতে পলিব্যাগের আকারের দ্বিগুণ করে একটি গর্ত করা হয় গর্ত থেকে মাটি অপসারণ করে তার সাথে সামান্য কম্পোস্ট গোবর সার মেশানো হয় এরপর সাবধানে পলিব্যাগ থেকে চারা বের করা হয়যাতে গোড়ার মাটি তথা মুলের কোনো ক্ষতি না হয়৷ চারা গাছটি গর্তের একদম মাঝে স্থাপন করা হয়৷ তারপর অবশিষ্ট মাটি দিয়ে গর্ত  পূর্ন করা হয়৷

গাছের গোড়ার মাটি কিছুটা উঁচু করে দেয়া হয় যাতে করে বর্ষাকালে বা সেচ দিলে গাছের গোড়ায় পানি না জমে গাছের কান্ড মাটি দিয়ে পুরোপুরি ঢেকে দেয়া যাবে না কেননা এতে কান্ডের পঁচন ঘটবেচারাগাছ রোপনের পর গ্রীষ্মের সময় প্রতি সপ্তাহ অন্তর চারা গাছে পানি দিতে হবেপর্যাপ্ত পানির অভাবে গাছে ফুল আসলেও তা ঝরে যায়৷ যদি এটেল মাটিতে চারা লাগানো হয়তাহলে মাটি যাতে খুব বেশি ভেজা না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে৷ কখনও জমি জলাবদ্ধ রাখা যাবে না 

জৈব সার প্রয়োগঃ পেঁপে গাছে সাধারণত সেপ্টেম্বর, নভেম্বর এবং জানুয়ারি তে ১বালতি করে মোট বার গোবর কম্পোস্ট দেয়া হয়পরবে মাস এক মুঠো করে গোবর সার গাছের গোড়ায় ছিটিয়ে দেয়া হয়৷ ২ বছরের কম বয়সী গাছে কখনো মুরগির বিষ্ঠা প্রয়োগ করা যাবে না এতে গাছের মারাত্মক ক্ষতি হয়

রাসায়নিক সার প্রয়োগঃ রাসায়নিক সার অবশ্যই পেঁপে গাছের গোড়া থেকে কিছুটা দূরে প্রয়োগ করতে হবেপেঁপে গাছের কান্ড নরম প্রকৃতিররাসায়নিক সারের সংস্পর্শে এলে কান্ডে পঁচন ধরতে পারে মাটিতে বোরনের অভাব হলে গাছ বা ফল কুচকে যায় তখন চা চামচ বোরাক্স পাউডার গাছের চার পাশে ছিটিয়ে দিতে হয়

আপেক্ষিক যত্নঃ গাছের আগা ছাটাই করার মাধ্যমে গাছের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়৷ এতে করে শাখা-প্রশাখা বেশি হয়৷ যার ফলে ফলনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়বায়ু চলাচলের সুবিধার্থে শুকিয়ে যাওয়া শাখা, মরা পাতা ইত্যাদি অপসারণ করতে হয়৷

পেঁপে গাছের গোড়ায় অন্য কোন গুল্ম অথবা আগাছা জন্মাতে দেয়া যাবে না

ফল সংগ্রহঃ যখন পেঁপের বাইরের আবরণ হলুদ বর্ণ ধারণ করে তখন তা সংগ্রহের উপযোগী হয় সংগ্রহের পরপরই তা পরিপক্ব হয় তবে এসময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ এটি খুব সহজে থেঁত হয়ে যেতে পারে

রোগ-বালাইঃ পেঁপে গাছ খুব নাজুক প্রকৃতির এবং সহজেই লিফ স্পট রোগে আক্রান্ত হয়৷ এবিষয়ে নিকটবর্তী এক্সটেনশন অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের চিকিৎসা করতে পারেন৷

About Nur E Kutubul Alam

Agri Journalist | Future Farmer | Student

Check Also

বাবুগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ হাসি

আব্দুল্লাহ মামুন, বাবুগঞ্জ থেকেঃ চলতি রবি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ব্যাপক পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ প্রচুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *