Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / খামারে পালিত পশুকে কিভাবে পরজীবীর হাত থেকে রক্ষা করবেন
ছবি : সংগৃহীত

খামারে পালিত পশুকে কিভাবে পরজীবীর হাত থেকে রক্ষা করবেন

ছালেহা খাতুন রিপ্তা, খুবি প্রতিবেদকঃ বর্তমানে খামারীদের যেসকল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, পরজীবীর আক্রমণ তারমধ্যে অন্যতম। উকুন, আটুলি এবং অন্যান্য বহিঃপরজীবী পশুর রক্ত শোষণ করে পশুর স্বাস্থ্যহানী ঘটায়। ফলস্বরূপ পশু এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হতে পারে। অন্তঃপরজীবী গৃহপালিত বিভিন্ন প্রজাতির পশুদের সংক্রমণ ঘটায়। এমনকি খামারের ব্যপক ক্ষতিসাধন করে। খামারী আর্থিকভাবে বিরাট লসের সম্মুখীন হয়ে পড়ে।

কাজেই আপনার খামারের পশুকে পরজীবীর সংক্রমণ থেকে বাচাঁতে নিম্নলিখিত নির্দেশনাগুলো পালন করুনঃ

১.পশু চারণ ব্যবস্থাপনাঃ নির্দিষ্ট সময় অন্ত্র চারণভূমি পরিবর্তন করা উচিৎ। একই জমিতে অতিরিক্ত অথবা বারংবার পশুচারণ পরজীবী কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। কেননা অন্তঃপরজীবীর ডিম পশুর বিষ্ঠার সাথে মিশে অতি অল্পসময়ে ( সাধারণত মাত্র ৬ দিনের মধ্যেই) ভয়ানক ভাবে আক্রমণ করার জন্য উপযুক্ত ধাপে পৌঁছে যায়। এক্ষেত্রে জমিতে অস্থায়ী ব্যাড়া দিয়ে কয়েকভাবে বিভক্ত করে অংশগুলোতে নির্দিষ্ট সময় বিরতি দিয়ে পশুচারণ নিশ্চিত করা যায়। উল্লেখ্য যে, পরজীবীর লার্ভা সর্বোচ্চ ১২০ দিন পর্যন্ত ঠান্ডা এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় টিকে থাকতে পারে কিন্তু উষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় যতদ্রুত সম্ভব মারা যায়। জমি চাষ করার মাধ্যমেও লার্ভাগুলোকে সূর্যের তাপে উন্মুক্ত কারার মাধ্যমে দমন করা সম্ভব। অথবা দীর্ঘ সময় বিরতিতে একই জমিতে পশুচারণ করালে প্রাকৃতিক ভাবেই লার্ভা মারা যায়।

২.একই সাথে একাধিক পশুচারণঃ সকল প্রজাতির পশু একই ধরনের পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়না। উদাহরণ স্বরুপ ছাগল ও ভেড়া একই পরজীবী দিয়ে আক্রান্ত হলেও গরু ও ঘোড়ার পরজীবী একই হয়না। কাজেই গরু, ছাগলকে এক মাঠে একই সময়ে একসাথে চরাতে পারেন। এভাবে পরজীবীর জীবনচক্র ধ্বংস করা সম্ভব ।

৩.পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধিঃ আপনার খামারের শেডগুলো সর্বদা পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন গোবর পরিষ্কার করে কম্পোস্ট গাদায় ফেলুন। অথবা ফসলি জমিতে স্থানান্তরিত করুন।

৪.খাদ্যপাত্রের ব্যবহারঃ পশুকে নির্দিষ্ট পাত্রে খাবার দিন। এক্ষেত্রে বড় পাত্র, মাটির চাড়ি, ট্যাংক, গামলা ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। মাটি থেকে কুড়িয়ে খাওয়ার চেয়ে খাদ্যপাত্রের ব্যবহার পরজীবীর আক্রমণ প্রতিরোধ করে।। প্রতিনিয়ত খাদ্যপাত্র এবং পানিরপাত্র পরিষ্কার করুন। এতে করে উচ্চিষ্ঠের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

৫. একপালের পশুর যত্নঃ একই শেডের সকল পশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা একই সাথে করতে হবে। সদ্য জন্মগ্রহণ করা বাছুরের পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাদের বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব পশু ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে, চিকিৎসার পর তাদের পৃথক শেডে রাখতে হবে৷ কারণ তাদের পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এধরণের পশুকে যতদ্রুত সম্ভব বাতিল করতে হবে অথবা তাদেরকে প্রজননে বাধা দিতে হবে। অল্প জায়গায় ধারণক্ষমতার অধিক পশু রাখা যাবেনা। এতেকরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৬. কৃমিনাশক চিকিৎসাঃ বিভিন্ন পশুর বিভিন্ন ধরনের কৃমিনাশক চিকিৎসার দরকার হয়। এবিষয়ে একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোন পশুর কৃমিনাশক চিকিৎসার প্রয়োজন তা নির্নয় করতে হবে। চিকিৎসার পূর্বের এবং পরের অবস্থার তুলনা করে চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা করতে পারবেন। সর্বোপরি আপনার পশুর নিয়মিত যত্নবান হোন, সর্বদা লক্ষ্য রাখুন। কোনো প্রকার অস্বাভাবিক লক্ষণ উপলব্ধি করলে সেইমুহুর্তেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। প্রতিনিয়ত পশুর মিউকাসে এনিমিয়া লেভেল পরীক্ষা করুন। পশুর চোখের পর্দার রঙ লাল বা গোলাপি হলে পশুটি এনিমিয়ায় আক্রান্ত নয়৷ যদি এর রঙ সাদাটে হয় তাহলে পশুটি এনিমিয়া আক্রান্ত। পশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

উপরে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনার খামারকে রক্ষা করতে পারেন বিরাট আর্থিক সংকট থেকে।

About Nur E Kutubul Alam

Agri Journalist | Future Farmer | Student

Check Also

বাবুগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ হাসি

আব্দুল্লাহ মামুন, বাবুগঞ্জ থেকেঃ চলতি রবি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ব্যাপক পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ প্রচুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *