Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / কুমিল্লায় পরীক্ষামূলক পর্যায়ে দেশে প্রথমবারের মত উৎপাদিত হয়েছে ব্লাক রাইস বা কালো চাল
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লায় পরীক্ষামূলক পর্যায়ে দেশে প্রথমবারের মত উৎপাদিত হয়েছে ব্লাক রাইস বা কালো চাল

ছালেহা খাতুন রিপ্তা, এগ্রিভিউ২৪ প্রতিবেদক: সচরাচর আমরা সাদা ভাতের সাথেই পরিচিত। কালো ধান নিয়ে জনসাধারণের মাঝে যে বিভ্রান্তিকর ধারণা রয়েছে, তাহলো অনেকেই কালো ধান বলতে সুগন্ধি কালিজীরা ধানকে বোঝেন। কিন্তু এ ধানের চাল সাদা হয়, ভাতও সাদা। ধানের খোসার নিচে থাকে আবরণ, যাকে কুড়া বলা হয়। কালো ধানের কুঁড়া কালো, ছাড়ানোর পর কালো রংয়ের চাল পাওয়া যায়। এ চালের ভাতও কালো হয়। আবার কোন জাতের চাল কালো হলেও ভাত সাদা হয়।

জনশ্রুতিতে জানা যায়, হাজার বছর পূর্বে আদিবাসীরা কালো ধান বা ব্রাউন রাইস এর চাষ করত। একসময় রাজারা এ চাষাবাদ বন্ধ করে দেয়। গত বছর গাজীপুরের ধান গবেষনা ইনস্টিটিউটের কৃষি বিজ্ঞানীরা কালো ধান ও কালো চাল উন্নয়ন নিয়ে গবেষনায় সফল হয়েছেন। দেশের ভেতর ও দেশের বাইরে থেকে কালো জাতের ধান সংগ্রহ করে ৩ বছর ধরে গবেষণা চলে। মোটা, সরু ও সুগন্ধী জাত সংগ্রহ করা হয়। জাত উন্নয়নের গবেষণায় প্রাথমিক ভাবে ফলন খুব কম পাওয়া যায়।

ছবি : সংগৃহীত


কালো ধানের উপকারিতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কালো চাল ক্যান্সার প্রতিরোধক এবং এন্টি এজিং। এছাড়াও বার্ধক্য, ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ প্রতিরোধক ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর। এ চালের ভেতর ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল থাকে, অত্যন্ত পুষ্ঠিগুন সমৃদ্ধ। কালো চাল ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে সম্প্রতি কালো ধানের চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মনাগ্রামের কৃষক মনজুর হোসেন । এবছর অক্টোবর, তিনি আমন মৌসুমে বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশি ৫ জাতের পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ কালো চালের ধান সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করেছেন। এগুলো হলো ব্ল্যাক রাইস (থাইল্যান্ড), ব্ল্যাক রাইস (ইন্দোনেশিয়া), ব্ল্যাক রাইস (ফিলিপাইন), ব্ল্যাক রাইস (আসাম-ভারত) এবং ব্ল্যাক রাইস (জাপান)। এসব ধানের মধ্যে ব্ল্যাক রাইস (জাপান) ও ব্ল্যাক রাইস (আসাম-ভারত) জাতের নজরকাড়া এ ধান জমিতে সুগন্ধী ছড়াচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার বিভিন্ন কর্মকর্তা সহ স্থানীয় জগন্নাথপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার জমির ব্যতিক্রমী এ ধান চাষের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রেখেছেন।


কৃষক মনজুর যা করেছেন তা ব্যতিক্রমধর্মী। কিছু চালের ভ্রূণ নষ্ট না হওয়ায় তিনি তা থেকে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে । পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ কালো চাল ভালো উৎপাদন হলে দেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে তা কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


এ চালের দাম অনেক বেশি বলে আমাদের দেশে সাধারন ক্রেতা মিলবে না। তবে বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ কিনবে। তবে বিশ্বের ধনী দেশে এ চালের চাহিদা আছে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে থাইল্যান্ড বিভিন্ন দেশে যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অষ্টেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্যে কালো চাল রপ্তানি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশগুলো, অষ্ট্রেলিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলো কালো চালের ক্রেতা। এক কেজি কালো চালের দাম ১০ ডলারের বেশি।

About Nur E Kutubul Alam

Agri Journalist | Future Farmer | Student

Check Also

বাবুগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ হাসি

আব্দুল্লাহ মামুন, বাবুগঞ্জ থেকেঃ চলতি রবি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ব্যাপক পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ প্রচুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *