Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / মাটি সংরক্ষণে গুরুত্ব ও আমাদের কৃষি

মাটি সংরক্ষণে গুরুত্ব ও আমাদের কৃষি

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান যেমন মাটি, পানি, পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রতিনিয়ত আমরা নিজেদের সুবিধামত পরিবেশ এর দেওয়া এই গুরুত্ত্বপূর্ণ উপাদান গুলা নষ্ট করে চলেছি। যার ফলাফল হচ্ছে বন্যা, খরা, সাইক্লোন সহ বহুবিধ দুর্যোগ।


নদীবিধৌত পলি মাটি দিয়ে বাংলাদেশ গঠিত। বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় খাত হচ্ছে কৃষি। ২০১৮ সালের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যমতে, এটি মোট শ্রমশক্তির ৪০.৬% যোগান দিয়ে থাকে এবং দেশের জিডিপিতে এর অবদান ১৪.১০% । দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় এই খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য।


অর্থাৎ, বাংলাদেশের জনগনের একটা বিশাল অংশ তাদের জীবনধারণের জন্য কৃষির উপর নির্ভর করে। আমাদের স্বল্প পরিমাণ ভূমি এবং অধিক পরিমানে জনসংখ্যা। দেশ এর আয়তন একই থাকলেও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে জনসংখ্যা । আর কমে যাচ্ছে মাথাপিছু জমির পরিমান । ১৯৭১ সালে যা ছিল ০.১২ হেক্টর তা এখন কমে ২০০০ সাল এ হয়েছে ০.০৫ হেক্টর। জনসংখ্যার এই আধিক্য আমাদের বাধ্য করছে অল্প জমিতে বসতি স্থাপন এবং অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন। কৃষি জমি কমতে থাকা, জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা এবং বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে। কমে যাচ্ছে আবাদি জমি।


প্রতিনিয়ত আমাদের কৃষির জন্য জমি ভরাট করে গড়ে উঠছে দালান কোঠা , কলকারখানা। ফলশ্রুতিতে একদিকে কমছে কৃষি জমি, অন্য দিকে কমছে আমাদের খাদ্যের পরিমাণ। একসময়ে জমি ফসল ফলানোর জন্য অধিক পরিমাণে শক্তিশালী ছিল। কিন্তু প্রতিনিয়ত আমাদের বাড়তি খাদ্য চাহিদা মিটাতে আমাদের বাধ্য হয়ে অল্প জমিতে ফলাতে হছে অধিক ফসল (একই জমিতে বছরে ৩-৪ টি ফসল ফলাতে হচ্ছে)। অধিক পরিমাণে ব্যবহার করতে হচ্ছে রাসায়নিক সার এবং হাইব্রিড ফসল। কমে যাচ্ছে জমির উৎপাদন ক্ষমতা। জমি হারাচ্ছে তার নিজস্ব শক্তি। অপরিকল্পিতভাবে এই সকল স্থাপনা আমাদের ব্যাপক ক্ষতির কারণ।
যেমনঃ
১। water body নষ্ট হচ্ছে।
২। আবাদি জম ভরাটে কম খাদ্য উৎপন্ন হচ্ছে।
৩। পরিবেশ এবং ecosystem এর জন্য ক্ষতিকর।
৪। সবুজ অরণ্য বিলীন হচ্ছে।
৫। মাটি পানিকে infiltrate করতে পারছে না, যা কি না ground water reserve এর জন্য খুবই দরকার।
৬। ভূমি অপচয় এবং উর্বরতা কমে যাচ্ছে।


আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমাদের জমিকে বাঁচাতে হবে। এর জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা অতীব প্রয়োজনীয়:
১। অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পায়নকে রোধ করা।
২। কোনো কৃষি জমি ভরাট করে স্থাপনা এবং কলকারখানা জেন গরে না অথে, সেদিকে খেয়াল রাখা।
৩। পরিকল্পিত\ভাবে এবং সঠিক উপায়ে নগর গড়ে তোলা, জাতে করে নগরীর বর্জ্য পদার্থ water body নষ্ট না করে, pollution না ঘটায়।
৪। সাধারণ জনগনের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি।

সরকার কর্তৃক জমি বাঁচাতে আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন, “কোনো অবস্থাতেই কৃষি জমি নষ্ট করা, বাড়িঘর নির্মাণ করা, শিল্প-কারখানার জন্য ব্যবহার করা, ইটের ভাটা কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। দেশের সব কৃষি জমি কেবল কৃষকরাই ভোগদখলের অধিকার পাবেন। কৃষি খাসজমি কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ভূমিহীন ছাড়া কৃষি খাসজমি অন্য কাউকে বন্দোবস্ত দেয়া যাবে না। দুই বা তিন ফসলি জমি সরকারি অথবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য অধিগ্রহণ করা যাবে না।” উল্লিখিত বিধান রেখে সরকার কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন-২০১৬ প্রণয়ন করছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হচ্ছে না। কৃষি জমিতে স্থাপনা এবং কলকারখানা নির্মাণ বেড়ে চলছে একই হারে । আমাদের এটুকু মনে রাখতে হবে, ভূমির পরিমান নির্দিষ্ট । ভুমি ফুরালে আমরা কখনো ভুমি পাব না। সরকারের দৃষ্টি এবং যথাযথ উদ্যোগই পারে আমাদের ভূমিকে বাঁচাতে। মাটি না থাকলে উৎপন্ন হবে না কোন খাদ্য, খাদ্য না থাকলে বাঁচবে না কোনো জীব। তাই এখনই উপযুক্ত সময় ঘুরে দাঁড়ানোর, আমাদের নিজেদের জন্য, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য, স্বপ্নের সোনার বাংলার জন্য।

সৈয়দ সাজিদুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, অনার্স ৪র্থ বর্ষ
সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিন, খুবি

About Nur E Kutubul Alam

Agri Journalist | Future Farmer | Student

Check Also

বাবুগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ হাসি

আব্দুল্লাহ মামুন, বাবুগঞ্জ থেকেঃ চলতি রবি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ব্যাপক পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ প্রচুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *