Thursday , March 21 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / বানরটি মানুষের পিশাচীয় চিহ্ন বয়ে বেড়াবে সারাজীবন
মানুষের নিষ্টুরতায় হারিয়েছে এক চোখ। ছবিঃ এগ্রিভিউ২৪.কম

বানরটি মানুষের পিশাচীয় চিহ্ন বয়ে বেড়াবে সারাজীবন

সিলেট নগরির ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকা থেকে গত ২রা ডিসেম্বর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র, টিলাগড় ইকোপার্কের কর্মীরা খবর পেয়ে গভীর রাতে একটি ডান চোখে ও বাম হাত এবং পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত রেসাস বানর উদ্ধার করেন। পনের দিন চিকিৎসার পর সেটি সুস্থ্য হয়ে উঠেছে যদিও একটি চোখ নিয়েই বাঁচতে হবে তাকে। মানুষের পিশাচীয় চিহ্ন বয়ে বেড়াবে সারাজীবন। প্রাণি চিকিৎসক মনজুর কাদের চৌধুরীর তত্ত্বাবধায়নে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের হাসপাতালে বানরটির চিকিৎসা করা হয়। শল্য চিকিৎসায় সহায়তা করেন প্রাণি চিকিৎসক জুনেদ আহমদ, সৌরভ রায় ও শাহরুল আলম। মনজুর কাদের চৌধুরী বলেন, “কোন ভয়ংকর মানুষ গুরুতরভাবে আঘাত করেছিলো। ডান চোখ পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। বাম হাত ও পায়ে এতো জোরে আঘাত করেছিল যে নাড়াতেই পারছিল না। চিকিৎসার পর চোখ সংক্রমণ থামানো গেছে, তবে এক চোখ নিয়েই বাঁচতে হবে সারাজীবন। হাত-পা পুরো ভালো হয়ে গেছে।” 

আঘাতপ্রাপ্ত চোখ ও বাম হাত এবং পা। 

রেসাস বানর বা লাল বান্দর (ইংরেজি: Rhesus Macaque, Rhesus Monkey; বৈজ্ঞানিক নাম: Macaca mulatta) প্রাচীন বিশ্বের বানর প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত বানরবিশেষ। উন্মুক্ত এলাকা, তৃণভূমি, বনভূমি এমনকি পাহাড়-পর্বতের ২,৫০০ মিটার (৮,২০০ ফুট) উচ্চ এলাকায়ও এদের আবাস রয়েছে।  তৃণজীবিহিসেবে এরা প্রধানতঃ গাছের ফল খায়। এছাড়াও এদের খাদ্য তালিকায় বীজ, শিকড়, গাছের ছাল রয়েছে। হিসেব করে দেখা গেছে যে, ৪৬টি বানর প্রজাতি ৯৯টি বিভিন্ন গাছের নিয়মিত ভোক্তা। মৌসুমী ঋতুতে পছন্দসই পাকা ফল থেকে এরা প্রয়োজনীয় পানি গ্রহণ করে। লাল বান্দর কলহপ্রিয় জাতি। দলের প্রধান পুরুষ বানর অনুপ্রবেশকারীকে চোখ বড় বড় করে ও মুখ হা করে ভয় দেখায়। ভয় পেলে কাশির মত খক খক শব্দ করে ডাকে। তীব্র চিৎকার ও দাঁত বের করে একে অপরকে হুঁশিয়ার করে দেয়। দলের আকার ছোট থেকে বড় হতে পারে। আবাসস্থল ও খাদ্যের প্রাচুর্যের উপর ভিত্তি করে দলের সদস্যসংখ্যা ১০-৯০ পর্যন্ত হতে পারে। বন্য বানরের দল শহরাঞ্চলের দল থেকে অনেক বড় হয়। দলের প্রধান থাকে একটি প্রভাবশালী পুরুষ বানর।

টিলাবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় সিলেট শহরে এ বানরের সংখ্যা কম নয়। ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’এঁর সমন্বয়কারী আশরাফুল কবির বলেন, “সিলেটের আশেপাশের টিলা, বন্য গাছপালা অবলীলায় কেটে ফেলায় বানররা হারিয়েছে তাঁদের বাসস্থান, তেমনি দেখা দিয়েছে খাদ্য ঘাটতি।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন(বাপা), সিলেট জেলার সেক্রেটারি আব্দুল করিম কিম বলেন, “আমরা যদি প্রকৃতির বিরুদ্ধে কর্মকান্ড বন্ধ না করি তবে তার প্রভাব ভয়ানকভাবে আমাদের উপর পড়বে।”

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি অধিকার ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষনে কাজ করা সংগঠন প্রাধিকার’এর সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, “সিলেটে দিনে দিনে বেড়েই চলেছে মানুষ এবং বানরের মধ্যে দ্বন্দ্ব। গতবছরও এমন গুরুতর অসুস্থ্য একটি বানরকে আমরা উদ্ধার করি। বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কেন্দ্র থাকায় অনেকটা সহায়তা হচ্ছে এখন।”সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরএসএম মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা বানরটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে যেটি তাঁর জন্য ভালো হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।” মানুষ যেন বন্যপ্রাণিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় সেই আহবান জানান। 

About Publisher

Check Also

যমুনার চরাঞ্চলে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী বহু পরিবার

সিরাজগঞ্জে শাহজাদপুরের যমুনা চরাঞ্চলে হাঁস পালনে বেকারত্ব দূর করেছে অনেকেই। চরাঞ্চলে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *