Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / পোলট্রি / ব্রয়লার পালনে প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ

ব্রয়লার পালনে প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ

. ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

১. দুই ফ্লকের মাঝে কমপক্ষে ১৪ দিনের বিরতি দেয়া । সম্পূর্ন ক্লিনিং এর পর কমপক্ষে ৩ দিন বিরতি দিয়ে পরবর্তী ফ্লক তোলা ।

২. পুরাতন ব্যাচের বর্জ্য যথাযথভাবে সরিয়ে খুব ভালভাবে শেড  ক্লিনিং করে অতঃপর পরবর্তী ব্যাচের বাচ্চা উত্তোলন ।

৩. একই ফার্মে বিভিন্ন বয়সের মুরগি পালন না করা ।

৪. সঠিক পন্থায় ব্রুডিং করা – পর্যাপ্ত তাপ, বায়ু চলাচল, ফিড, পানি, জায়গা, ইত্যাদি প্রদান ।

৫. একটি ব্রুডারে বা গার্ডে; ইলেকট্রিক ব্রুডারের ক্ষেত্রে ২৫০-৩০০ মুরগির বেশি পালন করা উচিত নয় । গ্যাস ব্রুডারে (কোম্পানী অনুযায়ী) প্রতি গার্ডে ৫০০-১০০০ মুরগি পালন করা যেতে পারে ।

৬. শেডে বাচ্চা তোলার ৪-৫ ঘন্টা পর সকল বাচ্চা পর্যাপ্ত ফিড ও পানি গ্রহন করেছে কিনা তার জন্য খাবার থলি (ক্রপ) চেক করুন; এটাই বাচ্চার ভবিষ্যত নির্ধারন করবে ।

[কোনভাবেই মুরগি বা মুরগির বাচ্চা  যেন পানিশূন্যতায় বা ডিহাইড্রেশনে না ভোগে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন ।  ওভার হিটিং বা অতিরিক্ত তাপ প্রদানের কারনে এবং পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ না থাকলে মুরগি ও বাচ্চার পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন সমস্যা হয় । এতে মুরগি পর্যাপ্ত খাবার গ্রহন করে না; ছোট-বড় হয়, কাংখিত দৈহিক ওজন পাওয়া যায় না]

৭. আবহাওয়া অনুযায়ী প্রতি ১-৩ দিন পর পর একটু একটু করে মুরগির জায়গা বাড়াতে হবে যেন তাপ, খাদ্য, পানি গ্রহন, চলাচল এবং বিশ্রামের জন্য মুরগি পর্যাপ্ত জায়গা পায় ।

৮. মুরগির ঘরের পর্দা অবশ্যই সবসময় নিচে আটকানো  থাকবে । পর্দা নিচ হতে উপর দিকে উঠা-নামা করবে । মনে রাখতে হবে মুরগির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হল বাতাস চলাচল বা ভেন্টিলেশন ।

৯. সম্পূর্ন পালক না হওয়া পর্যন্ত এবং অত্যাধিক গরমের সময় ছাড়া অন্যান্য সময় মুরগির গায়ে সরাসরি বাতাস দেয়া যাবে না ।

১০. ৩-৫ দিন বয়স হতে অপেক্ষাকৃত হালকা বা দুর্বল বাচ্চাগুলোকে আলাদা করা । ৭-৮ দিন বয়স হতে সম্পুর্নভাবে ছোট-বড় মুরগি বাছাই বা গ্রেডিং শুরু করা ।

১১. মুরগির শেডে অবশ্যই ছোট-মাঝারি-বড় ৩ টি গ্রেডে মুরগি পালন করা ।

[সঠিক ভাবে ব্রুডিং, গ্রেডিং ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা করলে ৭ম দিনে গড় ওজন প্রায় ১৭০-২০০ গ্রাম হবে (একদিন বয়সের ওজনের ৪.৫-৫ গুন) এবং ১৪ দিনে গড় ওজন হবে ৪২৫-৫০০ গ্রাম (৭ দিন বয়সের ওজনের ২.৫ গুন) এবং শেডে তেমন কোন ছোট-বড় মুরগি থাকবেনা । এটাই ভালো ব্রুডিং এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরন; শুধুমাত্র ভালো ব্রুডিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ফলাফল অর্জন করা সম্ভব]

১২. সর্বদা বিশুদ্ধ পানি ও সুষম খাবার সরবরাহ করুন ।

১৩. ব্রুডিং চলাকালীন সময়ে খাবার পাত্র কখনও খালি রাখা যাবে না; খাদ্যের অপচয় রোধে পাত্রের ১/৩ অংশে খাবার প্রদান করুন ।

১৪. প্রথম ৭ দিন সপ্তাহে ২ বার এবং ৮ দিন বয়স হতে প্রতিদিন একবার(১) সম্পূর্ন খাবার শেষ হবার পর খাবার পাত্র ঝেড়ে ও পরিষ্কার করে নতুন খাবার দিন ।

১৫. ড্রিংকার মুরগির গলা বরাবর এবং ফিডার মুরগির পিঠ বরাবর উচ্চতায় রাখুন যেন মুরগি স্বাচ্ছ্যন্দে পানি ও খাবার  খেতে পারে ।

১৬. বড় মুরগির ক্ষেত্রে প্রতি ৪ ফুটের মাঝে অবশ্যই ফিডার ও ড্রিংকার থাকতে হবে ।

১৭. অতিরিক্ত গরমের সময় দুপুরে ২-৩ ঘন্টা খাবার সরবরাহ বন্ধ রেখে অতিরিক্ত ড্রিংকারে ঘন ঘন পানি দিতে হবে । গরম বেশি পরলে দুপুরে খাবার বন্ধ করার সময় ধীরে ধীরে বাড়ানো যাবে ।

১৮. প্রতিদিন ১-২ বার ভালভাবে লিটার নাড়িয়ে দিয়ে লিটারের যত্ন নিন । এসময় খাবার ও পানির পাত্র যেন নোংরা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন । লিটার নাড়ানোর সময় ঘরের পর্দা কিছুটা নামিয়ে দিয়ে বাতাস চলাচল বৃদ্ধি করা উচিত যেন ধুলাবালির কারনে মুরগির শ্বাস কষ্ট না হয় ।

১৯. সপ্তাহের শেষ দিনে (৭,১৪,…) অবশ্যই মুরগির ওজন নিতে হবে । ওজন নিয়ে সাপ্তাহিক গড় ওজন বিশ্লেষন করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা ঠিক করা ।

২০. অপ্রয়োজনীয় ঔষধ ব্যবহারে সচেতন হউন ।

২১. কক্সিডিওসিস রোগে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স বন্ধ রাখুন ।

২২. টিকা প্রদানের ৩ দিন ছাড়া (টিকা প্রদানের আগের দিন, টিকা প্রদানের দিন এবং টিকা     প্রদানের পর দিন) বাকি সময় ২৪ ঘন্টাই মুরগির খাবার পানিতে উন্নতমানের হাইক্লোন ব্লিচিং বা ক্লোরিন ব্যবহার করুন ।

২৩. খামারে প্রবেশের পূর্বে হাত-পা সাবান দিয়ে ধুয়ে অতঃপর জীবাণুনাশক স্প্রে করুন ।

২৪. খামারের কর্মচারী ও পরিদর্শকদের জন্য আলাদা জুতার এবং সম্ভব হলে আলাদা পোষাকের ব্যবস্থা রাখুন ।

২৫. মৃত মুরগি সঠিকভাবে; খামার হতে দূরবর্তী স্থানে গভীর গর্ত করে পুঁতে ফেলুন ।

[মুরগির ঘরের ভেতরের ও বাইরের পরিবেশ অত্যন্ত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন]

খ. টীকা দেবার সময় করণীয়ঃ

১. কেবলমাত্র সুস্থ সবল মুরগি বা মুরগির বাচ্চাকে টিকা দেয়া যাবে ।

২. ফ্রিজসহ প্রতিটি স্থানে টিকার জন্য প্রযোজ্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করা বা কুল চেইন মেনে চলতে হবে (২-৭সে.) ।

৩. কোনভাবেই টিকার গায়ে সূর্যের আলো বা যে কোন প্রকার তাপ প্রদান করা যাবে না ।

৪. দিনের বা রাতের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা সময়ে টিকা প্রদান করা উচিত ।

৫. ক্লোরিন বা ব্লিচিং বিহীন পানিতে টিকা প্রদান করতে হবে ।

৬. ড্রিংকার বা পানিতে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে, টিকা প্রদানের পূর্বে আবহাওয়া অনুযায়ী ৩-৪ ঘন্টা মুরগির জন্য পানি সরবরাহ বা পানি খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে । তবে খাবার বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই ।

৭. ড্রিংকার বা পানিতে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে মুরগির বয়স ও খাদ্য গ্রহন অনুযায়ী পানির পরিমান নির্ধারন করতে হবে যেন সকল মুরগি ১-১.৫ ঘন্টার মাঝে সম্পূর্ন টিকাযুক্ত পানি শেষ করতে পারে ।

৮. পানিতে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে, প্রতি লিটার পানির সাথে ৪-৫ গ্রাম ননীবিহীন দুধ (স্কিম মিল্ক) মেশাতে হবে ।

৯. চোখে টিকা প্রদানের সময় যেন টিকার পরিবর্তে বাতাস না যায় এবং টিকা মুখ বা চোখের পরিবর্তে বাইরে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন ।

১০. চোখে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো পরিস্কার এক টুকরো সুতি কাপড় হাতে জড়িয়ে নিন যেন টিকার ভায়াল/বোতল গরম না হয়ে যায় ।

 

ব্রয়লার পালনের ক্ষেত্রে অতি প্রয়োজনীয় ৭ টি কৌশল(Tips)
১. বায়োসিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তা ।

২. সঠিক উপায়ে শেড ক্লিনিং ।

৩. সুস্থ ও ভালো বৈশিষ্ট্যের ‘এ’ গ্রেড চিকস ।

৪. সুষম খাদ্য সরবরাহ ।

৫. ভালো প্রথমিক শুরু – অর্থাৎ ভালো ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা ।

৬. ৭ম দিনে গড় ওজন ১৭০-২০০ গ্রাম বা একদিন বয়সের ওজনের ৪.৫-৫ গুন ।

৭. সর্বোপরী সঠিক ও কার্যকরী ব্যবস্থাপনা ।

About Editor

Check Also

বাবুগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন, লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদ হাসি

আব্দুল্লাহ মামুন, বাবুগঞ্জ থেকেঃ চলতি রবি মৌসুমে বাবুগঞ্জে ব্যাপক পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ প্রচুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *