Sunday , December 16 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / বাকৃবিতে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলা

বাকৃবিতে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলা

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্টরুমে বুধবার রাত ১১ টার দিকে ছাত্রলীগের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের কর্মীদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় মারামারির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কালের কন্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে মারধর করে ওই হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা। আহত সাংবাদিককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিকালে হল প্রভোস্ট বরাবর আবুল বাশার মিরাজ ও প্রক্টর বরাবর বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি লিখিত আবেদন দেয়।

প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে গেস্টরুম চলাকালে ২য় বর্ষের এক ছাত্রলীগ কর্মী প্রথম বর্ষের এক কর্মীকে থাপ্পর মারে। এতে প্রথম বর্ষের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন বুধবার গেস্টরুমে যেতে আপত্তি জানায়। ১ম বর্ষের কর্মীদের সাথে হলের ২য় বর্ষের কর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় ওই হলের হল শাখার ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা ১ম বর্ষের কর্মীদের গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তারা দুই বর্ষের কর্মীদের মাঝে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। এরপর সিনিয়র নেতারা গেস্টরুম থেকে চলে গেলে আবারও ওই দুই বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় কালের কন্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল বাশার খবর সংগ্রহ করতে গেলে দ্বিতীয় বর্ষের কর্মীরা তাকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া। এক পর্যায়ে প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী মিলে তাকে এলোপাথারি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই হলের ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা আবুল বাশারকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এই ঘটনার পরপরই বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি শাহরিয়ার মনির, আবুল বাশার মিরাজকে খবর সংগ্রহ করার জন্য শাসিয়ে বলেন, ‘তুমি এখানে কেনো এসছো? হলের খবর কেনো তুমি বাইরে দিবে? হলের নিউজ করতে হলে হলের সিনিয়র নেতাদের অনুমতি নিতে হবে।’ পরে এ বিষয়ে শাহরিয়ার মনিরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা আহত আবুল বাশারকে রাত ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মারুফ আহমেদ হাসপাতালে আবুল বাশারকে দেখতে আসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার রাতে বারবার হল প্রভোস্টকে ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেন নি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শংকর কুমার দাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকনকে জানানো হলেও তিনি পরবর্তীতে কোনো ধরনের খোঁজখবর নেননি। পরে প্রক্টর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি হলের বিষয়, এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। যেহেতু আমাকে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি তাই আমি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি নি। আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নিতাম।

এ বিষয়ে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহীদুজ্জামান সাগর বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ন্যাক্কার জনক ঘটনা। প্রশাসনের নীরবতার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। প্রশাসন আছেন শুধু ক্ষমতাসীন দলের জন্যই, অন্য কোনো শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের কোনো দায়ভার নেই। এছাড়াও ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

About Editor

Check Also

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা প্রদান

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা দিয়েছে শেরপুর জেলা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *