Thursday , December 13 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / মৌসুমের শুরুতেই আমন ধানের দাম কমেছে ৩৩ শতাংশ

মৌসুমের শুরুতেই আমন ধানের দাম কমেছে ৩৩ শতাংশ

শেষ হতে চলছে আমন ধানের মৌসুম। ফসল কেটে ঘরে তুলছেন কৃষক। ধান বাজারে মাত্র উঠতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কোনো কোনো স্থানে ৩৩ শতাংশ পর্যন্তও দাম কমেছে আমন ধানের। বাজারে সরবরাহ বাড়া শুরু করলে এ দাম আরো কমতির দিকে চলে যাবে বলে শঙ্কা কৃষকদের।

জানা গেছে, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবারো কৃষকরা আমন আবাদে ঝুকেছিল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন আর্থিক ও উপকরণ সহায়তার পাশাপাশি সম্প্রসারণকর্মীদের প্রচেষ্টায় আমনের আবাদ এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। কিন্তু যশোর, রংপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্তন মৌসুমের শুরুতেই প্রতি মণ আমনের দাম নেমে এসেছে ৬০০-৭০০ টাকায়। যেখানে গত মৌসুমের শুরুতে এর দাম ছিল মণপ্রতি ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা। ফসল কাটার মৌসুম শুরু হতে না হতে প্রতি মণ আমনের দাম কমেছে ২৫০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত।

এর মধ্যে পাইজামের দাম একটু বেশি পেলেও হাইব্রিড বা মোটা ধানের দাম এখন সবচেয়ে কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আমনের দাম নির্ধারণকারী গুটি স্বর্ণা বা স্বর্ণা ও বিনা ধানের পাশাপাশি ব্রির মেগা ভ্যারাইটি উঠতে শুরু করলে দাম আরো কমে যাবে। এছাড়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে বরিশাল, কুমিল্লা বা সিলেট বিভাগে দেরিতে আবাদকৃত ধানের সরবরাহ বাড়তে শুরু করবে। সে সময় এ নিম্নমুখিতা আরো জোরালো হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার কৃষক সাহেব আলী বলেন, একজন কৃষকের প্রতি বিঘায় (৩৩ শতাংশ) জমি তৈরি, সার, আবাদ, কীটনাশক, কাটা ও মাড়াইয়ে খরচ হয় ৮-১০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে জমি ভাড়া (বর্গা) বাবদ আরো ৫-৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। গত বছরের শেষ পর্যন্ত প্রতি মণ ধান ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। অন্যদিকে এবার বাজারে ধান ওঠা শুরু হতে না হতে তা নেমে এসেছে মাত্র ৬০০ টাকায়। গত বছর মৌসুমের শুরুতে আমরা হাজার টাকার বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পেরেছিলাম। এভাবে দাম কমলে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারাবেন। আমনের দাম না পেলে বোরো ধান আবাদেও আগ্রহ হারাবেন কৃষক।

জানা গেছে, বোরো আবাদ অতিমাত্রায় বৃষ্টিনির্ভর। আবার আউশের ভালো কোনো জাত না থাকায় এ নিয়ে কৃষকের আগ্রহও কম। কৃষকের আগ্রহ মূলত আমন ধানেই বেশি। অন্যদিকে তুলনামূলক বেশি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এ নিয়ে সরকারেরও আগ্রহ বেশি। আমন ধানের আবাদ বৃদ্ধিতে সরকারি প্রণোদনারও বেশ ভালো ভূমিকা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রোপা ও বোনা আমন মিলে ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে রোপা ও বোনা মিলে আমনের মোট আবাদ হয়েছে ৫৮ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে। রোপা আমনের মধ্যে ৪৪ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে উফশী, ৮ লাখ ৭০ হাজার হেক্টরে স্থানীয় ও ১ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া বোনা আমন আবাদ করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে। ফলে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে। অন্যদিকে এবার মোট ১ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আড়াই টন করে হিসাবে নিলেও এবার ৫ লাখ ৮৩ হাজার টন বাড়তি আমন চাল উৎপাদন হতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, আশা করছি, চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ আমন ধান উৎপাদন হবে। এ ধানের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের সর্বোচ্চ পরিমাণে উৎসাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নতুন এলাকায় আমনের আবাদ ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি কৃষকের আগ্রহের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত হেক্টরপ্রতি ফলনও ভালো পাওয়া গেছে। তবে শস্যের বাড়তি উৎপাদন নিয়ে মাঝে মধ্যেই মধুর সমস্যায় পড়তে হয়। আমাদের নিয়মিত কাজ হলো, কৃষকের উপকরণ সহায়তা সুবিধামতো দেয়া এবং কম খরচে শস্য উৎপাদন করতে সব ধরনের সহায়তা করা। সেটি আমরা কয়েক বছর ধরেই করে যাচ্ছি।

সূত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

About Editor

Check Also

কারিগরি কর্মকর্তা পদে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক : পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) এর সহযোগী সংগঠন প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নিয়োগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *