Thursday , December 13 2018
সর্বশেষ
Home / পাঁচমিশালি / কে কোথাকার গ্রাজুয়েট তার ভিত্তিতে কখনো নেতা নির্বাচন হতে পারে না – প্রফেসর ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ

কে কোথাকার গ্রাজুয়েট তার ভিত্তিতে কখনো নেতা নির্বাচন হতে পারে না – প্রফেসর ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ

২৩ নভেম্বর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ নির্বাচন ২০১৯-২০ । নির্বাচন নিয়ে কৃষিবিদদের মাঝে এক অন্যরকম আমেজ কাজ করছে । সময় যত ঘনিয়ে আসছে দুটি প্যানেলের মাঝে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতার আভাস মিলছে ।  নিজ প্যানেলের সমর্থনে যুক্তি তর্কে সমর্থকরা যেমন একে অন্যকে টেক্কা দিচ্ছেন তেমনি প্রার্থীরাও ভোটে জয়লাভের জন্য প্রতিটি ভোটারের দোরগোড়ায় নিজেদের বার্তা পৌছে দেবার চেষ্টা করছেন; ভোট, দোয়া এবং সমর্থন চাইছেন, প্রফেশনের জন্য নিজেদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা তোলে ধরছেন ।

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ নির্বাচন ২০১৯-২০ এ “প্রফেসর ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ ও মোঃ খাইরুল আলম (প্রিন্স)” নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য, কেআইবি এর সাবেক সভাপতি, ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ এর কো-অর্ডিনেটর এবং স্বনামধন্য গবেষক প্রফেসর ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ। শনিবার সন্ধ্যায় কেআইবি প্রাঙ্গণে এই গুণী সংগঠকের সাথে কথা হচ্ছিল এগ্রিভিউ২৪.কম এর সম্পাদক ডাঃ খালিদ হোসাইন এর (ক্যামেরায় ছিলেন শেকৃবির রাফি আব্দুর রহমান), আলাপচারিতায় নির্বাচন নিয়ে তার আশা আকাঙ্ক্ষা এবং প্রত্যাশা ফুটে উঠেছে যার চুম্বক অংশ তোলে ধরা হলোঃ

 

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ অনেক দিন পর সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন, কেমন চ্যালেঞ্জ মনে করছেন?

ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথঃ চ্যালেঞ্জ তো নিশ্চয় আছে তবে আমার ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের চেয়ে পেশাজীবীদের সামনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ন চ্যালেঞ্জ আছে যেমন আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূরীকরণ, প্রফেশনালদের চাকুরীর বয়স বৃদ্ধি করা, কৃষি মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সর্বোপরী পেশাজীবীদের নিজস্ব সমস্যা এবং সেক্টরের বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্যা যা আমাদের সমাধান করতে হবে । একজন পেশাজীবী হিসেবে এই চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান করাটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ অতীতে একবার সভাপতি পদে নির্বাচন করেছেন এবং বিজয়ীও হয়েছিলেন । প্রচারনার ক্ষেত্রে আগেরবারের চেয়ে এবার কি কি পার্থক্য দেখছেন ?

ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথঃ এবারের নির্বাচনে ২ টি ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে । কেউ কেউ মনে করছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এদেশের একটি প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্তু বাকৃবি থেকে যেসব গ্রাজুয়েট বের হয়ে আসছেন তারা হয়ত কেআইবি তে যথাযথ মর্যাদা পায়নি, এই ধরনের একটা বক্তব্য দিয়ে এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে । অপরপক্ষে আমি যেসব প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করছি, আমাদের নিজস্ব একটা স্লোগান আছে যে, “ক্যাম্পাস যার যার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন সবার” । কে কোথাকার গ্রাজুয়েট সেটার ভিত্তিতে কখনো নেতা নির্বাচন হতে পারে না; নিজ নিজ আদর্শ কাজে লাগিয়ে কর্মসূচি দিয়ে মানুষের কাছে ভোট চাওয়া হচ্ছে, ভোটারগনই নেতা নির্বাচন করবেন । এবার যে বিতর্ক হচ্ছে সেটা অতীতের যে কোন বিতর্কের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে এবং আমার কাছে অগ্রহনযোগ্য লাগছে কারন এটি আমাদের কৃষিবিদদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করে । নেতা নির্বাচন ক্যাম্পাস দিয়ে হবে না, ক্যাম্পাস দিয়ে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই এসোসিয়েশন নির্বাচন বা ক্যাম্পাসের অন্য কোন সংগঠনের নির্বাচন । কেআইবি নির্বাচন হচ্ছে সকল কৃষিবিদদের নেতা নির্বাচন, এটি সার্বজনীন ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ আপনারা সবখানেই বলছেন আপনাদের প্যানেল সার্বজনীন, এর কারন কি ?

ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথঃ বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ মনোনিত আমাদের যে প্যানেল এখানে ৩৭ জন প্রার্থীর মাঝে ২৩ জনই হচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট । এছাড়া শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট আছে, পবিপ্রবির, সিকৃবির গ্রাজুয়েট আছে, সবখান থেকেই প্রতিনিধি আছে আমাদের প্যানেলে ।  তাই এই প্যানেলটিকে আমরা সার্বজনীন বলছি ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ নির্বাচনে যদি জয়লাভ করেন তাহলে কোন ৫ টি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিবেন ?

ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথঃ প্রথমত পেশাজীবীদের মৌলিক সমস্যা যেমন আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করা অর্থাৎ পেশাজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত কেআইবি কে একটি জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা হিসেবে গড়ে তোলা যেখানে একটি পলিসি ডায়লগ সেন্টার থাকবে এবং কৃষির জন্য নলেজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার থাকবে; তৃতীয়ত বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে পুরাতন ধাচের শিক্ষা ব্যবস্থার বদলে নতুন যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবর্তন করা; চতুর্থত সরকারী বেসরকারী ক্ষেত্রে কৃষিবিদদের জন্য অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা; পঞ্চমত ক্রিয়েটিভ ও মেধাবী কৃষিবিদদের সংঘবদ্ধ করে সরকারের সাথে ডায়লগের  মাধ্যমে আগামী দিনের কৃষি কেমন হবে এবং সেই কৃষি ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে তার রূপরেখা তৈরী করা । এছাড়া রুটিনমাফিক অন্যান্য ব্যাপারগুলি তো অব্যাহত থাকবেই ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ প্রায় চৌদ্দ হাজার ভোটার এবং অসংখ্য ভোটার রয়েছেন যারা কিনা নারী, বিসিএস দিয়ে চাকুরী না হলে প্রাইভেট সেক্টরে চাকুরীর সুযোগ খুবই কম মিলে । আমাদের এই বোনদের ব্যাপারে আপনাদের পরিকল্পনা কি ?

ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথঃ কেআইবির বর্তমান গঠনতন্ত্র যদি দেখেন তাহলে দেখবেন যে সম্প্রতি এখানে কিছু পরিবর্তন এসেছে, এখানে সহ-সভাপতি (নারী) একটা পদ তৈরী হয়েছে, যুগ্ম সম্পাদক (নারী) একটা পদ রাখা হয়েছে, নারী বিষয়ক সম্পাদক পদ তৈরি হয়েছে । এর মূল কারণ ২ টি – প্রথমত বিপুল সংখ্যক নারী কৃষিবিদ যারা বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে বের হচ্ছেন তাদের ভয়েস কে আমরা কেআইবি তে আনতে চাই; দ্বিতীয়ত অতীতে কৃষিবিদ পেশা ছিল পুরুষ ডমিনেটেড, এই কালচার ও মাইন্ড সেট আপ এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবান্বিত করে, তাই এটি দূর করার জন্য নারী কৃষিবিদদের সংগঠিত করে তাদের মাধ্যমে ভয়েস গড়ে তোলা এবং নারীদের কর্মক্ষমতা যে কারো চেয়েও কম না এই এডভোকেসি গড়ে তোলা পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে নারীদের জন্য বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ খুব ভালো একটি প্যানেল করেছেন, আপনারা একে সার্বজনীন প্যানেল বলছেন । যদি বলা হয় এই প্যানালের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক জানতে চাই তাহলে কি বলবেন ?

ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথঃ অবশ্যই অভিজ্ঞ লোকজন । কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন এর এই প্যানেলে খুবই অভিজ্ঞ লোকজনের সমাবেশ ঘটেছে । অভিজ্ঞতা গুলি একদিকে নয় বরং বিভিন্ন দিকে । প্যানেলের অনেকেই অতীতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন পরিচালনা করেছেন, বিভিন্ন দাবীর আদায়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন এমন লোকজন রয়েছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যারা সর্বোচ্চ পদ দখল করে আছেন যেমন ভাইস চ্যান্সেলর, ডিজি; সমাজিক কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গনে যাদের ভালো পরিচিতি আছে তারাই এই প্যানেলের হয়ে নির্বাচন করছেন । পাশাপাশি এখানে বেশ কিছু তরুণের সমাবেশ ঘটেছে যেন ভবিষ্যত নেতৃত্ব তৈরি হয় । তাই বলা যায় নানা অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ এই প্যানেল, এর চেয়ে ভালো প্যানেল আর হতে পারেনা ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ আপনার প্যানেলের দুর্বল দিক কোনটি ?

ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথঃ সবারই সবসময় কিছু না কিছু দুর্বল দিক থাকতেই পারে, এটা নিয়ে কেউ চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারবে না যে দুর্বলতা নেই । তবে আমি মনে করে আমাদের আক্ষরিক অর্থে কোন দুর্বলতা নেই কিন্তু আমাদের এমন একটা চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হচ্ছে যা খুব আহত করে । এটি হচ্ছে ক্যাম্পাস ভিত্তিক কন্ঠ নিয়ে একটি নির্বাচন ফেস করা, ডিবেট হচ্ছে ক্যাম্পাসের নানা ইস্যু কেন্দ্রিক যা নিয়ে কথা বলতে আমরা কমফোর্ট ফিল করি না ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেয়ে ভোট চাচ্ছেন, কেমন সাড়া পাচ্ছেন ?

ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথঃ এ পর্যন্ত যেখানেই যাচ্ছি মানুষ যখন তাদের মতবিনিময় করছে, সুনির্দিষ্ট ৩ টি দিক উল্লেখ করছে । প্রথমত তারা নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন, সেটা কিভাবে দূর করা যায়; নির্বাচন  নিয়ে এই ধরনের বিভেদ কেন সৃষ্টি হচ্ছে সেটি নিয়ে আলাপ করছেন এবং কেন্দ্রের সাথে পেরিফেরির সংযোগ কিভাবে দৃঢ় করা যায় সেটা নিয়ে বিভিন্ন সাজেশন্স দিচ্ছে । এই ৩ টি জিনিসকে আমরা খুব পজেটিভলি নিয়েছি এবং আমাদের যে কর্মসূচি তাতে আমরা তার প্রতিফলন করছি । তাই আমরা আশাবাদী…

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ ধন্যবাদ ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ স্যার, ভালো থাকবেন ।

ড. নীতীশ চন্দ্র দেবনাথঃ আপনাদের কেও ধন্যবাদ ।

About Editor

Check Also

বিজয় দিবসে সকল চিড়িয়াখানায় অনূর্ধ্ব-১৮ বয়সীদের প্রবেশাধিকার ফ্রি

এগ্রিভিউ নিউজ ডেস্ক: ১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস-১৮ উপলক্ষ্যে ঐ দিন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ভুক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *