Saturday , February 23 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন

ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন

বাকৃবি প্রতিনিধি : প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত ছোট জাতের ছাগল ব্ল্যাক বেঙ্গলের পূর্ণঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন  করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্স সিস্টেমের (বাউরেস) অর্থাায়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ও বাংলাদেশ প্রাণি সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বি.এল.আর.আই) একদল গবেষক যৌথভাবে ওই সাফল্য অর্জন করে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় পশুপালন অনুষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সাফল্যর ঘোষণা দেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর ড.মো. জসিমউদ্দিন খান।

প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. এ.এম. ইয়াহিয়া খন্দকার  নেতৃত্বে গবেষণা কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। দলের অন্যান্য গবেষকবৃন্দ হচ্ছে বাকৃবির  প্রফেসর ড. মো. বজলুর রহমান মোল্ল্যা, বাকৃবির  প্রফেসর ড. মো. সামছুল আলম ভূঞা, বিএলআরআইয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল জলিল. বিএলআরআইয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেব, বিএলআরআইয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. পণির চেীধুরী ও বিএলআরআইয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নূরে হাছিন দিশা।

জিনোম হচ্ছে কোন প্রজাতি বা জীবের মোট নিউক্লিওটাইডের সমষ্টি। সহজ কথায় জিনোম হচ্ছে কোন জীবের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। জীবের অঙ্গসংস্থান, জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াসহ সকল জৈবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এর জিনোমে সংরক্ষিত নির্দেশনা দ্বারা। পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং হচ্ছে  কোন জীবের জিনোমে সমস্ত নিউক্লিওটাইড সমূহ কীভাবে বিন্যস্ত রয়েছে তা নিরূপন করা। একটি জীবের জিনোমে সর্বমোট জিনের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের কাজ পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স থেকেই জানা যায়।

বাংলাদেশে মোট ছাগলের ৯০ ভাগই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। এজাতের ছাগল প্রতি প্রসবে একাধিক বাচ্চা প্রদান করে, দ্রুত প্রজননশীল, চামড়া উন্নত মানের এবং উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া উপযোগী। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস স্বাদে, গন্ধে ও রসালতায় অনন্য। বাঙালীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাথে ছাগলের মাংস ওতপ্রোতভাবে আদিকাল থেকে জড়িত হয়ে আছে। গ্রামীন অর্থনীতিতে এর অবদান অপরিসীম। বিশেষ করে গ্রামীন দুস্থ মহিলা, ভূমিহীন পরিবারের জীবন ও জীবিকায় ছাগল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১,২৭,০০০ মেট্রিক টন ছাগলের মাংস উৎপাদিত হয় যা মোট উৎপাদিত গবাদিপশুর মাংসের প্রায় ২৫ ভাগ।

গবেষকবৃন্দ এসেম্বলকৃত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জিনোমে প্রায় ২.৯ গিগা বেজ নিউক্ল্রিওটাইড পেয়েছে। যার মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনোম সাইজ ১৬,৬৪০টি নিউক্লিউটাইড যাতে ৩৭টি জীন রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সিকোয়েন্স এনালাইসিস করে ২৬ লক্ষ, ৫ হাজার ৩০০টি সিঙ্গেল নিউক্লিউটাইড পলিমরফিজম (এসএনপি) পাওয়া গেছে।  বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল জিনোমে জিনের সংখ্যা ও গঠন জানার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

প্রধান গবেষক ড.এ.এম. ইয়াহিয়া খন্দকার বলেন, বাংলাদেশে আমরাই প্রথম ব্ল্যাক বেঙ্গলের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছি। এর মাধ্যমে এখন ব্ল্যাক বেঙ্গলের খাদ্যাভাস, শারিরীক গঠন, চামড়া ও প্রজননসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণার দ্বার উম্মোচিত হল। ভবিষ্যতে কেউ গবেষণা করতে চাইলে এই জিনোম সিকোয়েন্সিং অনেক কাজে লাগবে।

গবেষক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্ল্যা বলেন, বাংলাদেশী ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের একটি পূর্ণাঙ্গ জিনোম রেফারেন্স তৈরী করেছি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের একটি পূর্ণাঙ্গ রেফারেন্স জিনোম তৈরী হলো।এতে করে ডি.এন.এ. আবিষ্কার ও  মার্কারগুলোর মাধ্যমে ছাগলের ওজন বৃদ্ধির হার, দুধ উৎপাদন, বাচ্চা উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ও মাংসের গঠন সংক্রান্ত জিন আবিষ্কার করা সহজ হবে। ফলে সহজেই ছাগলের মোট জিনের সংখ্যা, গঠন ও কার্যাবলী নিরুপণ করা যাবে।

About Editor

Check Also

থমকে গেছে শাহ আজিমের ডেইরি ফার্ম স্বপ্ন…

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডেইরি খামার করে সফলতার মুখ দেখা খামারির সংখ্যা যেমন অসংখ্য তেমনি খামার করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *