Sunday , February 17 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / আপনি এন্টিবায়োটিক খাচ্ছেন, না এন্টিবায়োটিক আপনাকে খাচ্ছে ?

আপনি এন্টিবায়োটিক খাচ্ছেন, না এন্টিবায়োটিক আপনাকে খাচ্ছে ?

ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলমঃ হোক প্রাণী স্বাস্থ্য বা মানব স্বাস্থ্য, উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে এন্টিবায়োটিকের ব্যাপক ব্যবহার। গৃহপালিত প্রাণী বা মানুষ নির্বিশেষে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে আমাদের হতে হবে সতর্ক । কেননা আপনার আমার একটু অসতর্কতার কারনে দিন দিন প্রচলিত এন্টিবায়োটিকের প্রতি ব্যাকটেরিয়া resistant হয়ে যাচ্ছে । এই ভয়াবহতা নিরসনে আসুন, নিজেরা এন্টিবায়োটিক গ্রহন ও প্রাণীতে প্রদানের ক্ষেত্রে নিন্মোক্ত নির্দেশনাগুলো মেনে চলার শপথ নেই-

১। অন্য কোন শারীরিক সমস্যা নেই, কিন্তু সামান্য হাঁচি বা কাশি আছে এমন ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার যুক্তিযুক্ত নয় । কেননা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ইহা ভাইরাসের কারনে হয়ে থাকে যা নিরাময়ে এন্টিবায়োটিকের বিন্দুমাত্র ভূমিকা নেই।

২। এন্টিবায়োটিক ঠিক ততদিনই ব্যবহার করতে হবে যতদিন আপনার ডাক্তার তা ব্যবহারের নির্দেশনা দেন।

৩। রোগের উপসর্গ শেষ হয়ে যাওয়া মানে এই নয় যে সেই রোগ সৃষ্টিকারী সকল জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে গেছে। কেননা এন্টিবায়োটিক এর সম্পূর্ণ কোর্স শেষ না করলে শরীরে কিছু ব্যাকটেরিয়া রয়ে যায় যা পুনরায় ঐ রোগ তৈরি করার সক্ষমতা রাখে।

৪। এন্টিবায়োটিক এর কোর্স সম্পূর্ণ করার পরও যদি কিছু ট্যাবলেট অবশিষ্ট রয়ে যায়, তবে মনে রাখবেন, সেই ট্যাবলেট পরে ব্যবহারের জন্য রাখা যাবে না বা অন্য কাউকে ব্যবহারের জন্য দেয়া যাবে না।

৫। ব্যবহারের পর রয়ে যাওয়া এন্টিবায়োটিক আপনি শুষ্ক আবর্জনার সাথে ফেলে দিতে পারেন বা কোন ফার্মেসিতে ফিরিয়ে দিতে পারেন।

৬। ভুল করেও এন্টিবায়োটিক ঔষধ আবর্জনার ড্রেইনে ফেলবেন না বা টয়লেট এ ফ্ল্যাশ করবেন না কেননা তা একাধারে পরিবেশের জন্য খারাপ এবং ব্যাকটেরিয়ার এন্টিবায়োটিক রেসিসটেন্স হওয়ার একটি অন্যতম কারণ।

৭। আপনি কি ঔষধ খাওয়ার সুবিধার জন্য ট্যাবলেট ভেঙ্গে খান? তবে মনে রাখবেন, অনেক সময় এটা ঔষধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

৮। জুস, দুগ্ধজাত পন্য বা এলকোহল এর সাথে কোন ঔষধই খাবেন না কেননা তা পরিপাকের সময় শরীরে শোষণ হতে অনেক সময় সমস্যা তৈরি করে।

৯। কিছু এন্টিবায়োটিক দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আবার কিছু খাবার আগে বা পরে খাওয়ার কথা বলা হয়। এন্টিবায়োটিকের কোর্স চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন যে সময়ে ঔষধ খাবেন, প্রতিদিন ঠিক ঐ সময়টাই মেনে চলার চেষ্টা করবেন, তাতে ঔষধের কার্যকারিতা অনেক ভালো থাকবে। যেমন, দৈনিক ৩ বার ঔষধ নেয়ার ক্ষেত্রে সকাল ৬ টা, দুপুর ২ টা ও রাত ১০ টা সবথেকে ভালো সময় এবং প্রতিদিন একই সময়ে খেতে হবে।

১০। আপনাকে কি এন্টিবায়োটিকের সাথে অন্য ঔষধও খেতে হবে? এই পরিস্থিতিতে যদি কখনো পরে যান তবে এন্টিবায়োটিক গ্রহনের আগে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। কারণ কিছু ঔষধ এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা বা এন্টিবায়োটিক অন্য কিছু ঔষধের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে। যেমন, কিছু এন্টিবায়োটিক জন্ম নিরোধক পিলের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
প্রভাষক, অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগ
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।
ইমেইলঃ jahangiralamvet@gmail.com

About Abu Naser

Check Also

পবিপ্রবি’তে বাঁধনের নতুন কার্যনিবাহী কমিটি; সভাপতি সোহানুর, সাধারন সম্পাদক- ইফরাদ

তাহজীব মন্ডল নিশাত, পবিপ্রবি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঁধন ইউনিটের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি সহ সকল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *