Sunday , December 16 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / আমার ক্যাম্পাস / তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যতিক্রম উদ্যোগ

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যতিক্রম উদ্যোগ

অনিক অাহমেদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: অামাদের সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত, অপমানিত এবং সমাজ বিচ্ছিন্ন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। ‘হিজড়া’ নামে সম্বোধিত এই জনগোষ্ঠীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় লিঙ্গের দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অাজ রোববার (১১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- সুমনা ও আখি। এরা দুজনই সাভারের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। চলতি বছরের পহেলা অক্টোবর তৃতীয় লিঙ্গের প্রথম নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন নূরমালা নীলা। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজড়া নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা দাড়ালো তিনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা যেন নিজেদেরকে সমাজের বোঝা মনে না করে আর দশজন সাধারণ মানুষের মত নিজেদেরকে সকল কাজে নিয়োজিত করতে পারে, সে সুযোগ করে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা চাই তারাও স্বাভাবিকভাবে এই সমাজে বসবাস করুক। তাই তাদের জন্য উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা করাসহ আমাদের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

তৃতীয় লিঙ্গের নিরাপত্তাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন ইংরেজী বিভাগের সাকিনা আক্তার। তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলো আমাদের সমাজে যেভাবে অবহেলিত ও অপমানিত হয়, তা সভ্য মানুষ হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক। সমাজে আমরা শুধু তাদের তিরস্কারই করি, কিন্তু কখনো কোনো কাজের সুযোগ দেইনা। কিন্তু এটা সত্যি, সুযোগ পেলে এরাও আমাদের মতই কাজ করার যোগ্যতা রাখে।

প্রথম নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত নূরমালা নীলা বলেন, যখন থেকে বুঝতে শিখেছি আমি সমাজের অন্যদের থেকে আলাদা, তখন থেকেই অবহেলা, তিরস্কার, যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি। তাই যখন আমাকে প্রথম এখানে আসতে বলা হয়েছিল, তখন আমি রাজি হইনি। ভেবেছিলাম এমন একটি জনবহুল জায়গায় হয়ত আমাকে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হবে। কিন্তু এখানে আসার পর থেকে আমার ধারণা পাল্টাতে থাকে। এখন, আমিও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যতিক্রমধর্মী এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। তারা মনে করছেন, এ ধরণের উদ্যোগ দিন বদলের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, বৈষম্য দূর করতে ও সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি হিজড়াদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়।

About Anik Ahmed

Check Also

জাতীয় স্মৃতিসৌধে গবিসাসের শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ

অনিক অাহমেদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *