Wednesday , November 21 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / সমন্বিত খামারে সফল রংপুরের আল-মাহমুদ হাসান

সমন্বিত খামারে সফল রংপুরের আল-মাহমুদ হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার সি.ও. বাজার সংলগ্ন ডারার পাড়ে অবস্থিত একটি বড় সমন্বিত খামারের দেখা মিলবে। যেখানে রয়েছে আম বাগান, ব্রয়লার ও মৎস্য খামার এবং বিফ ফ্যাটেনিং ফার্ম। এই সমন্বিত খামারটি আল-মাহমুদ হাসানের।

“মেসার্স আল-মাহমুদ এগ্রো” নামে শুরু করা এই খামারের যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সাল থেকে। আল-মাহমুদ হাসান সমন্বিত খামার করার পাশাপাশি কৃষি বিষয়ে স্থানীয়দের পরামর্শ প্রদানের কাজও করে থাকেন।

সদ্য আহরন করা মাছের ঝাক

১৪ জন ভাইবোনের মাঝে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য আল-মাহমুদ হাসান। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও সবাই এখন প্রতিষ্ঠিত, সবাই উচ্চ-পর্যায়ে চাকুরি করেন। তবে ভাইবোনদের মাঝে ব্যতিক্রম ছিলেন আল মাহমুদ। ছাত্রাবস্থাতেই সমন্বিত খামার করে স্বাবলম্বী হবার স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। উত্তারাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কিছু জমি নিয়েই ক্লাস ১০-এ থাকতেই শুরু হয় তার স্বপ্ন জয়ের গল্প!

বর্তমানে ৮টি দোতলা শেডে বিভিন্ন বয়সের ১০,০০০ ব্রয়লার মুরগি আছে আল মাহমুদ হাসানের সমন্বিত খামারে। এছাড়া ৫ একর জায়গায় ১২টি পুকুরে ভিয়েতনাম জাতের কৈ, তেলাপিয়া, পাবদা, দেশি জাতের শিং, মাগুর মাছ চাষ করা হয়; পাশাপাশি কার্প ফ্যাটেনিং তো আছেই।  খামার এলাকার উঁচু স্থানে প্রায় ১২ একর জায়গা জুড়ে আছে হাঁড়িভাঙা ও আম্রপালি জাতের আমবাগান। বিফ ফ্যাটেনিং ফার্মে আছে বর্তমানে ২৪টি গরু, বেশিরভাগই সংকর জাতের।

নিজের বিফ ফ্যাটেনিং ফার্মে আল-মাহমুদ
নিজের আম বাগানে স্প্রে করছেন আল-মাহমুদ

আল-মাহমুদের সমন্বিত খামারে প্রতি মাসে খরচ হয় ১৫,০০,০০০ টাকা। খামারটিতে বছরে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন ১০জন কর্মচারী, পাশাপাশি ৪-৫জন দিন হাজিরা লেবার কাজ করেন। এছাড়া সমন্বিত খামারটি থেকে মাসিক লাভ হয় প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা।

আল-মাহমুদ হাসান ব্যক্তিগতভাবে একজন তরুন উদ্যোক্তা ও শৌখিন মনের মানুষ, তার খামার ঘুরে না গেলে সেটা বোঝা যাবে না। উনি স্ত্রী ও দুই সন্তানের বাবা। তার বড় মেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলায় লেখাপড়া করছেন। এবং ছোট ছেলেকে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ক্লাস ১০-এ পড়াচ্ছেন।

এসবের মধ্যে জীবন কাটানোতে আপনি সুখী কিনা প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সুখ, সে তো আপেক্ষিক ব্যাপার। আপনি কাজের পেছনে ছুটবেন। দেখবেন সুখ ও স্বচ্ছলতা দুটোই আপনার পেছনে ছুটবে। আর রিজিকের মালিক তো আল্লাহ।

৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে খামার করে মুখোমুখি হয়েছেন নানান প্রতিকূলতার। বাজারদরে স্থিতিশীলতা না থাকা, কৃষি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাব এদেশের কৃষির সমৃদ্ধির বড় অন্তরায় বলে তিনি মনে করেন। সরকারের একটু সদিচ্ছাই দেশের বর্তমান কৃষিকে আরো এগিয়ে দিবে, এমনটাই তিনি আশা করছেন।

About Nur E Kutubul Alam

Agri Journalist | Future Farmer | Student

Check Also

ডেইরী শিল্পে সফলতার অপর নাম “কৃষিবিদ ডেইরী ফার্ম”

অনিক অাহমেদ, সাভার, ঢাকা: দেশের ক্রমবর্ধমান মানুষের প্রাণিজ অামিষের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *