Monday , November 19 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / বেগুনের ফিউজারিয়াম ঢলে পড়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

বেগুনের ফিউজারিয়াম ঢলে পড়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

বেগুন বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান সবজি ও অর্থকরী ফসল। আলুর পরেই এর স্থান। দেশের সর্বত্রই এর চাষ হয় এবং সব শ্রেনীর লোকের কাছেই ইহা জনপ্রিয়। বেগুন সারা বছরই চাষ করা যায় ও বাজারে পাওয়া যায়। কৃষক বেগুন বিক্রি করে সারা বছরই অর্থ উপার্জন করতে পারে। এ জন্য বেগুন একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু রোগ বালাই বেগুন উৎপাদনের একটি প্রধান প্রতিবন্ধক। এই রোগসমূহ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে বেগুনের ফলন অনেক বৃদ্ধি পাবে। তাই নিন্মে বেগুনের ফিউজারিয়াম ঢলে পড়া রোগের লক্ষন, কারণ, বিস্তার ও প্রতিকার ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হল…

 

ফিউজারিয়াম ঢলে পড়া (Fusarium wilt)  

রোগের কারণঃ ফিউজারিয়াম অক্সিস্পোরাম (Fusarium oxysporum) নামক ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

রোগাক্রান্ত গাছ ও মাটি হতে সেচের পানি, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি  দ্বারা এ রোগ সুস্থ গাছে ছড়ায়। উচ্চ তাপমাত্রা (২৮-৩০০ সেঃ), মাটির পিএইচ ৫.৫, অধিক আর্দ্রতা, স্যাঁতস্যাঁতে মাটি এবং একই জমিতে বার বার বেগুন পরিবারের সব্জির চাষ এ রোগের উৎপত্তি ও বিস্তারের জন্য সহায়ক।

রোগের লক্ষণঃ

  • চারা গাছ থেকে শুরু করে যে কোন অবস্থায় গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
  • চারা গাছের বয়স্ক পাতাগুলো নীচের দিকে বেঁকে যায় ও ঢলে পড়ে।
  • ধীরে ধীরে সমস্ত গাছই নেতিয়ে পড়ে ও মরে যায়।
  • গাছের কান্ডে ও শিকড়ে বাদামী দাগ পড়ে।
  • গাছে প্রথমে কান্ডের এক পাশের শাখার পাতাগুলো হলদে হয়ে আসে এবং পরে অন্যান্য অংশ হলুদ হয়ে যায়।
  • রোগ বৃদ্ধি পেলে সমস্ত পাতাই হলুদ হয়ে যায় এবং অবশেষে সম্পূর্ন শাখাটি মরে যায়।
  • এই ভাবে একটা একটা শাখা মরতে মরতে সমস্ত গাছটাই ধীরে ধীরে মরে যায়।
  • আক্রান্ত কান্ড চিরলে ভিতরে বাদামী দাগ দেখা যায়।

 

প্রতিকারঃ 

  • সম্ভব হলে ফরমালিন দ্বারা মাটি শোধন করতে হবে।
  • নীরোগ বীজতলার চারা লাগাতে হবে।
  • রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন বারি বেগুন ৬, বারি বেগুন ৭, বারি বেগুন ৮ চাষ করতে হবে।
  • রোগাক্রান্ত গাছ ধ্বংস করতে হবে।
  • বুনো বেগুন গাছের কান্ডের সাথে কাংখিত জাতের বেগুনের জোড় কলম করতে হবে।
  • জমিতে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
  • জমিতে উপযুক্ত পরিমানে পটাশ সার প্রয়োগ করলে রোগ অনেক কম হয়।
  • শিকড় গিট কৃমি দমন করতে হবে কারণ এরা ছত্রাকের অনুপ্রবেশে সাহায্য করে।
  • কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর গাছের গোড়ায় ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
 
বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

জয়পুরহাটে চলছে আমন ধান কাটা-মাড়াই

ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় হাসিমুখে মহা ধুমধামে রোপা আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু করেছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *