Wednesday , November 21 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / নারিকেলের নতুন প্রজাতির মাইট শনাক্ত করলেন পবিপ্রবি শিক্ষক

নারিকেলের নতুন প্রজাতির মাইট শনাক্ত করলেন পবিপ্রবি শিক্ষক

এগ্রিভিউ ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে (বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা ও বাগেরহাট) নারিকেলে নতুন প্রজাতির একটি মাইট (মাকড়) শনাক্ত করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এক দল গবেষক। তারা নতুন প্রজাতির মাইটটির বৈজ্ঞানিক নাম দিয়েছেন Acarus cocosi Mondal, Rahman & Jahan, 2018।

নারিকেলে নতুন মাইট শনাক্তকরণ ও তার অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে গবেষণা প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ২০০৪ সালে যশোরে সর্ব প্রথম নারিকেলে বাদামী রঙে শুকিয়ে যাওয়া বা নারিকেলের অসম বৃদ্ধি বা ফেটে যাওয়া লক্ষণ পরিলক্ষিত হলেও ২০০৬ সালে যশোরে আরএআরএস (বারি) সর্ব প্রথম নারিকেলে ইরায়োফাইড মাইটের আক্রমণ শনাক্ত করেন; কিন্তু নারিকেলে এ ধরনের আক্রমণ শুধু কী একটি প্রজাতির ইরায়োফাইড মাইটের আক্রমণে হচ্ছে নাকি ভিন্ন কোনো প্রজাতির উপস্থিতি আছে, তা অনুসন্ধানে আমাদের গবেষক দল পবিপ্রবির রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের আর্থিক অনুদানে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং নারিকেলের বৃতির নীচে এবং আক্রান্তস্থান থেকে দুইটি প্রজাতির মাইট শনাক্ত করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনসেক্ট মলিকুলার ফিজিওলজি ল্যাবের সহযোগিতায় নতুন শনাক্তকৃত মাইট দুইটির জিনোম সিকুয়েন্স (আংশিক) সম্পন্ন করে জিন ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে।

এ গবেষণার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, নারিকেলে এধরনের আক্রমণ শুধু একটি প্রজাতির ইরায়োফাইড মাইটের আক্রমণে হচ্ছে না বরং ভিন্ন প্রজাতির মাইটেরও উপস্থিতি রয়েছে। আমাদের গবেষণা দল শুধু প্রজাতি শনাক্তকরণই নয় বরং কীভাবে তার বিস্তার প্রতিরোধ করা যায় তা নিয়ে কাজ করছেন। কারণ এই মাইটের মারাত্মক আক্রমণের কারণে প্রায় ৬০% ফলন এবং ৩৬% নারিকেলের শুষ্ক শাঁস কমে যায়। এ গবেষণা দলের অন্যান্য গবেষক হলেন প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান, প্রফেসর ড. কিয়ং ইয়ল লী, পিংকী মন্ডল ও পীযূষ কান্তি ঝাঁ।

গবেষণায় ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কতগুলো ইনসেক্টের প্রজাতি রয়েছে তার সঠিক কোনো চেকলিস্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি। আমার লক্ষ্য হচ্ছে শত আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশের মেজর কিছু অর্ডারের ইনসেক্টের চেকলিস্ট তৈরিসহ তাদের জিনোমিক সিকুয়েন্স প্রকাশের নিমিত্তে কাজ করা। (দৈনিক ইত্তেফাকের সৌজন্যে)

About Anik Ahmed

Check Also

“সেনাধিরা রাইস রিসার্চ এ্যাওয়ার্ড ২০১৮” পেলেন ড. তমাল লতা আদিত্য

আন্তর্জাতিক ‘সেনাধিরা ধান গবেষণা পুরস্কার’ পেয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ধান প্রজননবিদ ও পরিচালক (গবেষণা) …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *