Wednesday , November 21 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / আমার ক্যাম্পাস / উম্মাদ মহিষের তান্ডব থেকে গ্রাম রক্ষায় “অপারেশন ফ্লাশ আউট!”

উম্মাদ মহিষের তান্ডব থেকে গ্রাম রক্ষায় “অপারেশন ফ্লাশ আউট!”

তাহজীব মন্ডল নিশাত, পবিপ্রবি:
অনেকেই দেখেছি হাতি বা অন্য বন্য প্রাণীই লোকালয়ে ঢুকে পড়লে কতটা উম্মাদ আচরণ করে। শুধু বন্য প্রাণীই নয়! গৃহপালিত প্রাণী উম্মাদ হলেও এমন বন্য আচরণ করতে পারে। আর তান্ডব লীলা কখনো কখনো আপনার চিন্তা শক্তিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে । ঠিক এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার তানদোহর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামে। মহিষ তান্ডব চালিয়েছে পুরো গ্রামে এবং তা জব্দ করতে পুলিশ মোতায়েনসহ ডাক পড়েছিল রেসকিউ টিমের ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শহীদুল ইসলাম নামক এক মাংস ব্যাবসায়ী ৫টি মহিষ রাজশাহীর পদ্মার চরাঞ্চল থেকে কিনে আনে। রাত 2 টায় ট্রাক থেকে মহিষগুলো নামানোর সময় একটি ৩০০ কেজি ওজনের পুরুষ মহিষ উন্মাদনা শুরু করে।উম্মাদ মহিষটিকে শহীদুল ইসলাম আটকাতে ব্যর্থ হয়। ফলে সারা গ্রাম জুড়ে দৌড় আর ভাঙ্গন লীলা চালাতে থাকে মহিষটি। এসময় সারা গ্রাম জুড়ে বিরাজ করে মহিষ আতংক। পরে শহীদুলসহ ৩-৪ জন ব্যক্তি মহিষটি ধরার চেষ্টা করলে গুরুতর আহত হয় এবং বর্তমানে তারা হাসপাতালে শয্যাশায়ী ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জনগন পিছন দিকে মহিষককে ধাওয়া করলে এক পর্যায়ে ওয়াহিজনগর মাদ্রাসায় ঢুকে পরে এবং বেশ কিছু গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে গ্রামের এক কৃষকের বাড়ীতে ঢুকে মহিষটি শিং দিয়ে দুইটি গরুর বাছুরকে মেরে ফেলে।

পরিস্থিতি নাগালের বাহিরে চলে যাওয়ায় জনগণ জানমালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেয়। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ মতিয়ার রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেলা রহমত উল্লাহ, সহকারী কমিশনার ভুমি হামিদুর রহমান, তানদোহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদল ।

জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দের সিদ্ধান্তে প্রাণিটিকে ধরার জন্য সিংগাইর উপজেলার লাইভস্টক অফিসার ডা. ফারুক হোসেন এবং ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রেজাউলসহ পুরো মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

পরে উম্মাদ মহেশকে আটকাতে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ডা. এস. এম. নজরুল ইসলামের নির্দেশে রেসকিউ টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ মোতায়েন রেখে মহিষটিকে এক কৃষকের বাড়ীর পিছনে খালের পাড়ে উঁচু জায়গায় থাকতে বাধ্য করা হয়। এসময় বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার উপজেলা লাইভস্টক অফিসার ডা. নাজমুল হুদা মহিষটিকে ট্রাংকুলাইজেশন করেন।

এ নিয়ে ডা. নাজমুল হুদা জানান, “সিডেটিভ এর প্রথম ডার্টটি তাকে কাবু করতে শুরু করে। ডার্টের পেইন তাকে স্থান থেকে সরের যেতে বাধ্য করে এবং হাটা শুরু করে । আস্তে আস্তে হেঁটে ঠিক ২৫ মিনিট পরেই অর্ধ কিলোমিটার দূরে একটি জলা জায়গায় সে পড়ে যায় । জনগণ ধরতে গেলে আবার উঠে হাটা শুরু করে । তার ৫ মিনিট পর একটা জলা জায়গায় ঠাই দাড়িয়ে পড়ে । জনগন তাকে আটকে ফেলে দড়ির বন্ধনে । এভাবে ফ্লাশ আউট হয়ে গেলে মানিক নগরের আতংক।”

মহিষের হঠাতই এমন উম্মাদ আচরণের কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন “বাতানের মহিষ অনেকটাই বন্য প্রাণির মত। বাতান একটি নীরব ও বিচ্ছিন্ন জায়গায় অবস্থিত। বাতান ছেড়ে যখন নতুন ও কোলাহলযুক্ত জায়গায় আসে মহিষের মধ্যে এক প্রকার মনস্তাত্বিক পরিবর্তন ঘটে, মনের মধ্যে আতংক কাজ করে। এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ।”

About Tahzib Mondal

Check Also

ডেইরী শিল্পে সফলতার অপর নাম “কৃষিবিদ ডেইরী ফার্ম”

অনিক অাহমেদ, সাভার, ঢাকা: দেশের ক্রমবর্ধমান মানুষের প্রাণিজ অামিষের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *