Tuesday , November 20 2018
সর্বশেষ
Home / পোলট্রি / মুরগীতে ম্যারেক্স প্রতিরোধে করণীয়…

মুরগীতে ম্যারেক্স প্রতিরোধে করণীয়…

ম্যারেক্স ডিজিজ ভাইরাস একটি অতিউচ্চমাত্রার সংক্রামক ভাইরাস। এটি হার্পিস ভাইরাস যা সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ভাইরাসটি সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে আছে যা টিউমার সৃষ্টি ও ইমিউনোসাপ্রেশনের মাধ্যমে মুরগীতে প্রভূত ক্ষতি করে যাচ্ছে।এ ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে ম্যারেক্স প্রতিরোধ করা।পোল্ট্রি শিল্পের জন্য বড় হুমকি “ম্যারেক্স” কে প্রতিরোধ ও নিয়ণ্ত্রণ করতে হয় টীকা (ভ্যাক্সিন) ও জৈব নিরাপত্তার (বায়োসিকিউরিটি) ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে।

সংক্রমণ ও বিস্তার:

এ ভাইরাস সহজেই এক মুরগী থেকে অন্য মুরগীতে চলে যায়। ভাইরাস পালকের গ্রন্থি কোষে (ফেদার ফলিকলে) প্রতিরূপ সৃষ্টি করে এবং তারপর আক্রান্ত পালকের মৃত কোষের মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে অনেকদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। আক্রান্ত ফেদার ড্যান্ডার বা ধূলা থেকে শ্বাস গ্রহণের সময় ভাইরাস মুরগীর বাচ্চার ফুসফুসে প্রবেশ করে । সেখানে শ্বসনের টিস্যু এবং রক্তের “বি” ও “টি” লিম্ফোসাইটকে আক্রান্ত করে। টি লিম্ফোসাইটের কাজ হল দেহে কোন ক্ষতিকর জীবাণু প্রবেশ করলে সরাসরি তার মোকাবিলা করা এবং বি লিম্ফোসাইটের কাজ হল হিউমোরাল ইমিউনিটি  তৈরি করা।অবশেষে ভাইরাস তার প্রতিরূপ সৃষ্টির চক্র সম্পন্ন করে ফেদার ফলিকলে অবস্থান নেয়।

ভ্যাক্সিন সুপ্তভাবে আক্রান্ত “টি” লিম্ফোসাইটকে সুরক্ষা দিয়ে টিউমার তৈরি প্রতিরোধ করে। যদিও আক্রান্ত হওয়া ও ভাইরাস শেডিং হওয়ার হার কমিয়ে ফেলা সম্ভব হয়, তবে ভ্যাক্সিন দ্বারা ম্যারেক্স ডিজিজ ভাইরাসকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। কারণ আক্রান্ত মুরগী সারাজীবনের জন্য বাহক (ক্যারিয়ার) হয়ে যায় এবং পরবর্তীদের আক্রান্ত হওয়ার জন্য উত্স হিসেবে কাজ করে।

এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিন:

ম্যারেক্স ডিজিজ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার ভিত্তি হচ্ছে ভ্যাক্সিন।বেশিরভাগ ভ্যাক্সিনই সেল অ্যাসোসিয়েটেড অর্থাত্ ল্যাবরেটরিতে সেল কালচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয়।এ     ভ্যাক্সিনগুলো ১৮ দিন ইনকিউবেশন করা ডিমের ইন ওভো রুটে (In-ovo route) এবং/ অথবা হ্যাচ হওয়া বাচ্চার চামড়ার নিচে বা মাংসপেশীতে ইনজেকশন আকারে প্রয়োগ করা হয়।নিচে বানিজ্যিকভাবে সহজলভ্য ভ্যাক্সিনগুলো উল্লেখ করা হল:

১. গতানুগতিক (লাইভ ভ্যাক্সিন)

  • Serotype 1- [CVI-988(Rispens)]
  • Serotype 2- (SB-1)
  • Serotype 3- [Herpesvirus of Turkeys (HVT)]

২. ভাইরাল ভেক্টর রিকম্বিনেন্ট এইচভিটি যেখানে অন্য ভাইরাসের জিন ঢুকানো থাকে

  • rHVT – IBD
  • rHVT – ND
  • rHVT – ILT
  • rHVT – AI

এইচভিটি ভ্যাক্সিন সেরোটাইপ ১ (রিসপেন্স) অথবা সেরোটাইপ ২ (এসবি ১)এর সাথে অথবা উভয়ের সাথেই সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হয় যাতে মুরগীতে ফ্লকে সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা দেয়া যায়।তবে বর্তমান সময়ে বহুল প্রচলিত সমন্বয় হচ্ছে এইচভিটি এর সাথে রিসপেন্স এর সমন্বয়, যা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মুরগীতে ফ্লকে প্রতিরক্ষা দিয়ে থাকে।

ভাইরাল ভেক্টর্ড রিকম্বিনেন্ট ভ্যাক্সিন সেই ভাইরাস থেকে তৈরি করা হয় যে ভাইরাসে রিকম্বিনেন্ট এইচভিটি (rHVT) কে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে অন্য ভাইরাসের জিন প্রবেশ করিয়ে প্রথম ভাইরাসকে জেনেটিক্যালি মডিফাইড করা হয়।

rHVT পদ্ধতিতে জিন প্রবেশ করিয়ে যে ভ্যাক্সিন তৈরি করা হয় তা হল ইনফেকশাস বার্সাল ডিজিজ, নিউক্যাসেল ডিজিজ, ইনফেকশাস ল্যারিঙ্গো-ট্রাকিয়াইটিস ও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা।রিকম্বিনেন্ট ভ্যাক্সিন ব্যবহারের সুবিধা হল এটি ভেক্টর ও প্রবেশ করানো ভাইরাস উভয়ের বিরুদ্ধেই ইমিউনিটি তৈরি করে।এই rHVT ভ্যাক্সিনগুলো HVT গতানুগতিক ভ্যাক্সিনের সাথে অথবা তাদের নিজেদের মধ্যে মেশানো উচিত নয় কারণ এম.ডি.ভি ও প্রবেশ করানো ভাইরাস নেতিবাচক ফলাফল দিবে। এছাড়াও এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিনকে অন্য কোন লাইভ ভ্যাক্সিন, এন্টিবায়োটিক ও সাপ্লিমেন্টের সাথে সমন্বয় করা যাবেনা।আর ভ্যাক্সিন ব্যবহার করার সময় অবশ্যই প্রস্তুতকারীর সুপারিশগুলো মেনে চলা উচিত।

ভ্যাক্সিন সংরক্ষণ ও প্রস্তুতি:

অধিকাংশ এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিন তরল নাইট্রোজেনে সংরক্ষণ করা হয়।ফ্রিজ ড্রাইড ভ্যাক্সিন (শুধু HVT স্ট্রেইন) ছোট ফ্লকে বা যে দেশে তরল নাইট্রোজেন সহজলভ্য নয় সে দেশে ব্যবহার করা হয়।সেল অ্যাসোসিয়েটেড ভ্যাক্সিন শুধু বিশেষ তরল নাইট্রোজেনের কন্টেইনারে(-১৯৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস) সংরক্ষণ করা হয়।এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিন প্রস্তুত ও ব্যবহারের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ব্যাক্টেরিয়াঘটিত দূষণ প্রতিরোধ করা।ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সবসময়ই বলে থাকে যেন হ্যাচারীর প্রস্তুতি রুমে ভ্যাক্সিন ভালভাবে মেশানো হয় এবং রুম ও ভ্যাক্সিনের যন্ত্রপাতি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে।

ভ্যাক্সিন সংরক্ষণ, গলানো,পুনর্গঠন,পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োগের পদ্ধতির জন্য হ্যাচারীর লোকদের নিয়মিত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং এ বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কিনা তার জন্য ভিতরেই ১৫ দিন পরপর এবং বাইরে থেকে বছরে ১ বার অডিট এর ব্যবস্থা করতে হবে।

 

এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিন প্রয়োগ:

ইন-ওভোতে এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিন প্রয়োগ এম.ডি.ভির প্রারম্ভিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অপেক্ষাকৃত ভাল ‍সুরক্ষা দেয়।ইন-ওভোতে প্রথম ডোজ ভ্যাক্সিন দেয়ার পরে যদি দ্বিতীয় ডোজ হ্যাচিং এ দেয়া হয় তাহলে এটি ”ভেরি প্যাথোজেনিক স্ট্রেইন”এর বিরুদ্ধে ফিল্ডে ভাল প্রতিরক্ষা দিবে; বিশেষ করে যে এলাকাগুলোতে বেশি  পোল্ট্রি ফার্ম, বিভিন্ন বয়সের ফার্ম, লিটারের পুন:ব্যবহার এবং হ্যাচের পর ব্রীডার বাচ্চাকে বেশি পথ অতিক্রম করে যেতে হয় সেখানে।

রিকনস্টিটিউটেড ভ্যাক্সিনগুলোকে অবশ্যই শীতল রাখতে হবে যেখানে ভ্যাক্সিনগুলোকে ৩০-৬০ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার ও প্রয়োগ করা হয়।এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিন হচ্ছে কোষের আনস্ট্যাবল সাসপেনশন।তাই ভালভাবে মেশালে ও কিছুক্ষণ পরপর ঝাঁকালে তলানী পড়বে না এবং সমান ডোজ নিশ্চিত হবে।

 

ম্যারেক্স ডিজিজের প্রাদুর্ভাবের কারণ:

হ্যাচারীতে ভ্যাক্সিন দেয়ার পরপরই বাচ্চা ম্যারেক্স প্রতিরোধী হয় না। ৪-৫ দিনের মধ্যে এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিনের স্ট্রেইন বাচ্চার শরীরে সংখ্যা বৃদ্ধি করে রক্ত প্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে। তখন বাচ্চা ম্যারেক্স থেকে সুরক্ষা পাওয়া শুরু করে। বাচ্চা যাতে পরিবেশ থেকে আক্রান্ত না হয় সে জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নিয়ামকগুলো কমিয়ে ফেলতে হবে। তাহলেই বাচ্চা পুরোপরি সুরক্ষা পাবে।যেমন: বাচ্চাকে নতুন লিটারে রাখা, একই বয়সের বাচ্চা রাখা এবং বায়োসিকিউরিটি পুরোপুরি মেনে চলা।পুরাতন লিটার ব্যবহার এবং রেয়ারিং ফার্মে বিভিন্ন বয়সের মুরগী রাখলে ফিল্ড এম.ডি.ভি ও অন্যান্য ইমিউনোসাপ্রেসিভ ভাইরাস দ্বারা মুরগী সহজেই আক্রান্ত হয়ে যায়।

এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিনের সঠিক নির্বাচন ও প্রয়োগের মাধ্যমে ম্যারেক্স নিয়ণ্ত্রণ করা যায়। তারপরও নিম্নলিখিত নিয়ামকগুলোর কারণে (একক অথবা যৌথভাবে) ম্যারেক্স দেখা দিতে পারে।

১. ভুল পদ্ধতিতে ভ্যাক্সিন সংরক্ষণ, স্থানান্তর, প্রস্তুতি ও প্রয়োগ।

২. ভ্যাক্সিনের ডোজ কম হওয়া বা ডাইলুশন ভুল হওয়া।

৩. অ্যাডিটিভ্স (এন্টিবয়োটিক) যা ডাইলুয়েন্টের (PH) বা অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নষ্ট করে।

৪. অন্য ভ্যাক্সিনের দ্বারা এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া।

৫. ভেরি ভিরুলেন্ট বা ভেরি ভিরুলেন্ট+ স্ট্রেইনের দ্বারা অল্প বয়সে আক্রান্ত হওয়া।

৬. ইমিউনোসাপ্রেশনের ফলে: নিম্নলিখিত কারণে ইমিউনোসাপ্রেশন হতে পারে

ক. সংক্রামক নিয়ামক

  • ইনফেকশাস বার্সাল ডিজিজ
  • ইনফেকশাস চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাস

 খ. ফ্লক ব্যবস্থাপনার নিয়ামক

  • হ্যাচ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, ও পরিবহনের সময় তাপমাত্রা বেশি হওয়া।
  • খারাপ ব্রুডিং: ঘরের অসামঞ্জ্যস্য পরিবেশ, অপর্যাপ্ত পানি ও খাবার।
  • অত্যধিক শীত, গরম, অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন।
  • অপর্যাপ্ত ফ্লোর স্পেস, ফিডার স্পেস, খারাপভাবে ফিড বিতরণ ও খারাপ দৈহিক ওজন।

গ. পুষ্টিগত নিয়ামক

  • খাবারের খারাপ কাঁচামাল ও মাইকোটক্সিন
  • খাবারে অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের ঘাটতি

 

ডায়াগনোসিস:

  • ৩ সপ্তাহ বয়সে টিউমারের মত লেসন দেখা দিতে পারে যা মুরগী সেক্সুয়ালি পরিপক্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি সাধারণ ঘটনা।
  • কখনও কখনও টিউমার লেসন (পোস্ট-মর্টেমে) পিক এগ প্রোডাকশনে পাওয়া যায় যা লেট এম.ডি.ভি নামে পরিচিত।
  • যদি সাস্থ্যবান মুরগীগুলো কোন ‍সিমটম (Symptoms) প্রদর্শন করা ছাড়াই আক্রান্ত হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ব্লাড স্যাম্পল থেকে ভাইরাস আইসোলেসন করলে কোন ডায়াগনোস্টিক ভ্যালু থাকে না।

নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ডায়াগনোসিস করা হয়:

  • বড় হওয়া প্রান্তীয় স্নায়ু (Sciatic Nerve)
  • দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঙ্গে টিউমার
  • পালকযুক্ত চামড়ায় নডিউল
  • ধূসর চোখ
  • পি.সি.আর টেস্ট

 

সার কথা:

১. সকল কমার্শিয়াল ফ্লকে এম.ডি.ভি থাকে যদিও ভ্যাক্সিন দেয়া হয় এবং ফ্লকের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।

২. নতুন ও বর্ধিত স্ট্রেইনের জন্য ক্রমাগতভাবেই এম.ডি.ভি হুমকি হয়ে থাকছে।

৩. টিউমারের লেসন ও ইমিউনোসাপ্রেশনের মাধ্যমে এম.ডি.ভি প্যারেন্ট স্টকে মৃত্যু ঘটায়।

৪. ফিল্ড ভাইরাস আক্রমণ ও শেডিং থেকে ভ্যাক্সিন সুরক্ষা দিতে পারেনা।

৫. বায়োসিকিউরিটি কম বয়সে এম.ডি.ভির আক্রমণ ও অন্যান্য ইমিউনোসাপ্রেসিভ রোগ থেকে মুরগীকে সুরক্ষা দেয়।

৬. সেল এসোসিয়েটেড (হিমায়িত) ভ্যাক্সিনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থাপনা এবং এটির প্রস্তুতি ও প্রয়োগে নিয়মিত ট্রেনিং ও অডিটিং চালিয়ে যেতে হবে।

৭. অনুপযুক্ত ভ্যাক্সিন নির্বাচন, হ্যান্ডলিং ও প্রয়োগের জন্য অথবা অল্প বয়সে হাইলি প্যাথোজেনিক এম.ডি.ভির আক্রমণও ইমিউনোসাপ্রেশনের কারণে এম.ডি.ভি দেখা দিতে পারে।

৮. এম.ডি.ভি ভ্যাক্সিনের ডায়াগনোসিস বিভিন্ন ধাপে সম্পন্ন করতে হয় এবং ল্যাবরেটরিতে কনফার্মেশন প্রয়োজন হয়।

৯. যদি এম.ডি.ভি নিশ্চিত হয় তাহলে এর কারণগুলো অনুসন্ধান করে বের করতে হবে।

 

লেখক পরিচিতিঃ 
কৃষিবিদ রুহুল আমিন মন্ডল
সিনিয়র ফার্ম ম্যানেজার
নারিশ পোল্ট্রি এন্ড হ্যাচারী লিঃ
ইমেইল:  mramondol@gmail.com
মোবাইলঃ ০১৯১৯-৮৪১৮৭৩

About Editor

Check Also

জয়পুরহাটে চলছে আমন ধান কাটা-মাড়াই

ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় হাসিমুখে মহা ধুমধামে রোপা আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু করেছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *