Wednesday , November 21 2018
সর্বশেষ
Home / পোলট্রি / বিশ্ব ডিম দিবস

বিশ্ব ডিম দিবস

ডাঃ মোঃ লিপন তালুকদার: সারা বিশ্বে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বে ডিম দিবস হিসেবে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয়ে আসছে। ডিম সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য বিশ্ব দিবস একটি বিশেষ দিন।

ডিম দিবস এর ইতিহাসঃ

ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ব ডিম কমিশ’ন ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৬ সালের IEC (International Egg Commission) এর কনফারেন্স এ অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়।

ডিম দিবসের স্লোগানঃ

“Protein For Life”– এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবারের বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। ডিম আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমিষের চাহিদা পূরণে যে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে, সেটার জানান দেওয়াই এবারের বিশ্ব ডিম দিবসের মূল লক্ষ্য।

Egg is incredible :

ডিম একটি আদর্শ এবং বিশ্বজনীন খাদ্য যা প্রোটিনের অন্যতম উৎস। সারা বিশ্বে ডিম ব্যাপক হারে খাওয়া হয়। বিভিন্ন উপাদীয় খাবারের সাথে বা উপাদীয় খাবার তৈরির মাধ্যমে খাওয়া হয়ে থাকে।

#World Egg Organization থেকে বলা হয়েছে যে, ডিম আমাদের জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে।

* একজন গর্ভবতী মাকে প্রতিদিন ডিম খাওয়ানো হয় তাহলে তার প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহদা খুব সহজভাবে পূরণ করা সম্ভব।

* শিশু-কিশোর ও কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে আমিষের চাহিদা আপরিসীম। প্রতিদিন সকালে একটি করে ডিম খেলে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

* যারা আমরা প্রচুর পরিশ্রম করি, তাদের প্রতিদিনই আমিষের এবং শক্তির অভাব ঘটে। এই অভাব পূরণের জন্য সহজলভ্য মাধ্যম হলো ডিম।

#কীভাবে বিশ্বে ডিম দিবস পালিত হয়ে থাকে?

* সারা বিশ্বে বিভিন্নভাবে ডিম দিবস উৎযাপন করে থাকে।

যেমনঃ

#বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হয়ে থাকে।
#ডিমের উপকারিতা এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সেমিনারের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
#বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সিদ্ধ ডিম খাওয়ার প্রতিযোগিতা করে থাকে।
#বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ডিম দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরির প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে।

#বাংলাদেশে ডিম দিবস উৎযাপনঃ

বিভিন্ন ভেটেরিনারি সংস্থা যেমনঃ B.V.C (Bangladesh veterinary council), B.V.A(Bangladesh veterinary Association) ও প্রাইভেট ভেটেরিনারি ডক্টরস এসোসিয়েশন্স সহ বিভিন্ন কোম্পানি ডিম দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম আয়োজন করে থাকে।
যার মধ্যে থাকেঃ

১. কম মূল্যে জনসাধারণের মাঝে ডিম বিতরণ।
২. এতিম শিশুদের মধ্যে সিদ্ধ ডিম বিতরণ।
৩. প্রাইমারি স্কুলগুলোতে টিফিনে ডিম সরবরাহ।
৪. র‍্যালী, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা।
৫. ডিমের উপকারিতা সম্পর্কে লিফলেট করা।
৫. ডিমের উপকারিতা সম্পর্কে লিফলেট করা।

পরিশেষঃ

সারা বিশ্বে খামারিরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেস্টা করে যাচ্ছে ভালো মানসম্মত ডিম সাধারন মানুষের খাবারের টেবিলে পৌঁছে দেয়ার জন্য। বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা ও ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিমের গুনগত মান বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ডিমের গুনগত মান ও মানুষের সুস্থ্যতা বজায় রাখতে ভেটেরিনারিয়ানগন সর্বদা খামারীদের পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আসুন সুস্থ্য থাকতে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাই এবং অন্যকে খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করি, সুস্থ্য সবল জাতি গড়ি।

লেখকঃ ডাঃ মোঃ লিপন তালুকদার (ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন) (PSTU)

(ভেটেরিনারি অফিসার, সি.পি বাংলাদেশ কোঃ লিমিটেড)

About Mostafizur Rahman

Check Also

ডেইরী শিল্পে সফলতার অপর নাম “কৃষিবিদ ডেইরী ফার্ম”

অনিক অাহমেদ, সাভার, ঢাকা: দেশের ক্রমবর্ধমান মানুষের প্রাণিজ অামিষের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *