Wednesday , November 21 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / হতে চাইলে বাকৃবিতে ভর্তি…

হতে চাইলে বাকৃবিতে ভর্তি…

কৃষিই কৃষ্টি, বাংলাদেশে কৃষি শিক্ষার উন্নতির মধ্যেই রয়েছে গোটা জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি। আর এর জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরী করে দেশের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও গৌরবাণ্বিত প্রতিষ্ঠান “বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়”৷ গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক লেভেল-১, সেমিষ্টার-১ এর ভর্তি আবেদন, চলবে ১৫ অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত। পরীক্ষা হবে আগামী ১০ নভেম্বর বেলা ১১ টায়।এ বছর মোট আসন সংখ্যা ১২৩০ এর বিপরীতে পরীক্ষায় বসতে দেয়া হবে ১২,৩০০ জনকে। সিলেকশন এর ফলাফল জানতে পারবেন আগামী ১৯ অক্টোবর, বাকৃবি ভর্তির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে।
 
বাকৃবিতে চান্স পেতে হলে আপনাকে হতে হবে কিছুটা কৌশলী। আর পর্যায়ক্রমিক ভাবে প্রস্তুতি নিলে আপনি নামের পাশে অবশ্যই কৃষিবিদ জুড়ে নিতে পারবেন আর হয়ে যাবেন একজন গর্বিত বাকৃবিয়ান। আগত ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আপনাদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা রকম প্রশ্ন; আজ ভর্তিচ্ছুদের জন্য বাকৃবি ভর্তি পরীক্ষার আদ্যোপান্ত আলোচনা করছিঃ
 
পরীক্ষা পদ্ধতিঃ বাকৃবিতে পদার্থ, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান এ ২৫ টি করে মোট ১০০ টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন হয়ে থাকে। প্রত্যেক প্রশ্নের মান থাকে ১ করে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে .২৫ নাম্বার। সময় ১ ঘন্টা। সব মিলিয়ে পাশ নম্বর ৩০। বাকৃবিতে এসএসসি ও এইচএসসি এর ৪র্থ বিষয় বাদে মোট জিপিএ কে যথাক্রমে ৮ ও ১২ দিয়ে গুণ করে মোট ১০০ নম্বরের সাথে নৈর্ব্যক্তিক বিষয় এর ১০০ যোগ করে মোট ২০০ নম্বরের মধ্য মেধাস্কোর তৈরী করা হয়।
 
প্রস্তুতিঃ বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে তথাকথিত একটা ডিপার্টমেন্টে যেখানে একটা সাবজেক্টের উপরই ৪ বছরের স্নাতক ডিগ্রী লাভ করবে । কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে হতে হবে পুরো একটি ফ্যাকাল্টিতে যার অধীনে থাকবে বেশ কয়েকটা ডিপার্টমেন্ট। মজার ব্যাপার হল কখনও একটা বিষয় নিয়ে পড়তে পড়তে বোরিং হতে হবে না । বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সেমিষ্টার এ পড়াশুনা করার অনন্য এই সুযোগ বাকৃবিতেই পাওয়া সম্ভব!
 
প্রস্তুতির প্রথমে বাকৃবির বিগত ১৫ বছরের প্রশ্ন গুলো মনোযোগ সহকারে দেখে প্যাটার্ন বুঝে নিন যে কীরকম প্রশ্ন আসে বাকৃবিতে। প্রশ্ন প্যাটার্ন জানার জন্য অনেক বই বাজারে পাওয়া যায় । ভালো মানের একটা বই নিজের সংগ্রহে রাখা উচিত যেটা এ সময়ে অনেক কাজে দিবে। মনে রাখবেন, যে যে টপিক গুলো হতে বিগত সালে প্রশ্ন এসেছে তা থেকে সবসময় প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা অনেকটা বেশীই থাকে। তাই এগুলো টেক্সটবুকে ঝটপট দাগিয়ে ফেলুন সাথে বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের টপিকস গুলোও দাগিয়ে ফেলুন অন্য কোন কালিতে।
 
জেনে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় টেক্সট বুক থেকেই সব প্রশ্ন হয়ে থাকে । মেধাবীদের কাজ হবে সবার আগে টেক্সট বুক বুঝে বুঝে সলভ করা। যেহেতু নভেম্বর এই পরীক্ষা এবং ইতিমধ্যে মেডিকেল এবং বুয়েট ভর্তি পরীক্ষাও হয়ে গেছে তাই ধরেই নিচ্ছি ইতিমধ্যে অনেকটা প্রস্তুতি শেষ করা হয়ে গেছে আপনাদের । তাই টেকনিক নির্ভর পড়াশুনার এখনই সময় । এখন বিষয় ভিত্তিক প্রস্তুতি কীভাবে নিবেন তা সম্পর্কে লিখছি……
 
 
পদার্থঃ পদার্থ থেকে বরাবরই ম্যাথ অনেক বেশী আসে, ধরতে গেলে প্রায় ৮৫% ই ম্যাথ আসে । ১০% সুত্র থেকে টেকনিক টাইপ প্রশ্ন আর বাকি ৫% থিয়রী টাইপ এসে থাকে। তাই যারা পূর্বে ম্যাথ করেন নাই কিংবা করলেও কম করেছেন তারা ম্যাথ গুলো আগে করতে পারেন। যে টপিকস থেকে বিগত বছরে প্রশ্ন এসেছে সেগুলা আগে করা উচিত। আর যারা আগে থেকে ম্যাথ করায় অভ্যস্ত তারা মোটামুটি যেগুলো টপিকস থেকে ম্যাথ আসে তা প্রাক্টিস করতে থাকুন নিয়মিত । আর এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য গুলোও জেনে রাখুন যত্নসহকারে ।
 
রসায়নঃ রসায়ন থেকে টেকনিক নির্ভর প্রশ্নই সবসময় বেশী আসে । ১৫% ম্যাথ আর ৮৫% ই টেকনিক্যাল প্রশ্ন আসে । মুখস্ত নির্ভর তথ্য ও আসে ব্যাপক। তাই এভাবে প্রিপারেশন নিতে হবে। এতে বিগত বছর থেকে কিছু প্রশ্ন হুবহু কমন পেতে পারেন আপনি । চান্স অনেকাংশে নির্ভর করে এই অংশের উপরই। মার্কস অনেক নিতে পারবেন এখান থেকে । তাই একটু এক্সট্রা জোর দিতে পারেন রসায়নে।
 
গণিতঃ গণিত এর জন্য প্রাক্টিস বিষয়টা অনেক বেশি জরুরি । আর সীমিত সময়ে কীভাবে উত্তর করা যায়, তার টেকনিক গুলো শিখে নিতে হবে খুব ভালো ভাবে। যারা আগে ম্যাথ করেনি তারা ম্যাথ করা শুরু করে দিন আজ থেকেই । মেডিকেল পরীক্ষার্থীরা বেশীর ভাগই এই গণিত এর উপর প্রিপারেশন নেয় না ।তাই সময় থাকতে ম্যাথ এ কিছুটা সময় দিন । ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য যারা প্রিপারেশন নিচ্ছেন তারা অনেক মার্কস নেওয়ার ট্রাই করবে এখান থেকে। তাই প্রত্যেককে এই অংশটা ভালো করতে হবে । খুব শর্ট ভাবে প্রিপারেশন নিতে চাইলে বিগত বছরের প্রশ্নগুলি এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলি সলভ করতে থাকুন যা অনেক কাজে দিবে।
 
জীববিজ্ঞানঃ মেডিকেলের জন্য যারা প্রিপারেশন নিয়েছেন তারা জীববিজ্ঞানে ফুল মার্কস তোলার চেষ্টা করবেন । যারা যারা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রিপারেশন নিয়েছেন তারা এই সময়ে বিগত বছরের প্রশ্ন সহ জীববিজ্ঞান টেক্সট বুকটা ভালোভাবে পড়ে ফেলুন যা কাজে দিবে অনেক । অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন গুলি সমাধান করে যাবেন । মৌলিক বিষয়গুলি বেশী করে অনুধাবন করুন । ভাগ্য ভালো থাকলে কিছু প্রশ্নের রিপিট এ অংশে পেতেই পারেন।
 
জানা থাকা ভালো – বাকৃবিতে প্রশ্ন হুবহু রিপিট হয় না। হয়তো রিপিট হতে পারে প্রশ্নের কনসেপ্ট এবং টপিক্স গুলো। তাই এ বিষয়টাতে গুরুত্ব দিবেন বেশী। এতে বাকৃবির বিগত ১৫ বছরের প্রশ্ন সলভ করা অনেক কাজে দিবে। আবার বলছি অনেক কাজে দিবে। আর যারা যারা আগে প্রয়োজনীয় পড়াশুনা ভালো ভাবে শেষ করে ফেলেছেন তারা এগুলোর সাথে বিগত পড়াশুনা গুলো রিভিশন দিতে থাকুন বার বার ।
 
সবশেষে ক্যালকুলেটর ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ান, বেশী বেশী প্র্যাকটিস করুন এবং অবশ্যই সময় সম্পর্কে সচেতন হউন ।মনে রাখবেন শুধুমাত্র পরিশ্রম,দক্ষতা আর একাগ্রতাই পারে আপনাকে সাফল্যর সর্বোচ্চ শিখরে পোঁছে দিতে। তাই স্বপ্ন দেখুন ভবিষ্যতের,হয়ে উঠুন একজন গর্বিত বাকৃবিয়ান। অনেক অনেক শুভকামনা সবার জন্য…
মেহেদী হাসান মেহেদী
ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ
লেভেল-৩, সেমিষ্টার-২
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

About Editor

Check Also

ডেইরী শিল্পে সফলতার অপর নাম “কৃষিবিদ ডেইরী ফার্ম”

অনিক অাহমেদ, সাভার, ঢাকা: দেশের ক্রমবর্ধমান মানুষের প্রাণিজ অামিষের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *