Wednesday , November 21 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / কৃষকের জিজ্ঞাসা, বিশেষজ্ঞের সমাধান

কৃষকের জিজ্ঞাসা, বিশেষজ্ঞের সমাধান

এগ্রিভিউ২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষক ভাইয়েরা তাদের  বাগান নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন। কিন্তু, পর্যাপ্ত জ্ঞান অার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক সময় তারা বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকেন, যেটা কখনোই কাম্য নয়। অাজকে তাই অামরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক কৃষকদের জানতে চাওয়া কয়েকটি সমস্যার সমাধান দিতে চেষ্টা করবো। সমাধান দিবেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান। চলুন পাঠক, তাহলে যাওয়া যাক প্রশ্নোত্তরে-

প্রশ্ন: অামার অাঁশফল গাছের ফলগুলোতে ছোট অবস্থায় কালো কালো দাগ পড়ে ঝরে যাচ্ছে। কি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো? (তাহমিনা ইসলাম, দনিয়া, ঢাকা)

অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান: ফলে সাধারণত দাগ হয় ফাংগাল ইনফেকশনের কারণে। এক ধরণের ফাংগাস অাছে যেগুলো কচি ফলের শক্ত ত্বকের উপর অাক্রমণ করে এবং সেখানে বাদামী স্পট দেখা দেয়। এ অবস্থায় কিছু ফানজিসাইট (যেমন: Benomyl 50 WP) স্প্রে করতে হবে। এটা স্প্রে করলে ফল ভাল থাকবে। সাধারণত, বর্ষা শুরুর অাগে যখন কিছু বৃষ্টিপাত হয় তখন এ রোগ বেশি হয়। এজন্য, পরবর্তীতে গাছে ফুল অাসার অাগে মরা ডালপালা ছেটে ফেলতে হবে।

প্রশ্ন: অামার মাল্টা গাছের বয়স ৩ বছর। গতবার মাল্টা অাঁকারে বড় হলেও এবছর তেমন বড় হয়নি এবং তুলনামূলকভাবে বেশি টক। কি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মাল্টা অাঁকারে বড় এবং সুমিষ্ট হবে? (নুর মোহাম্মদ, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া)

অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান: মাল্টা বড় এবং সুমিষ্ট হওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট ৪ টি ধাপ অবলম্বন করতে হবে। প্রথমত, যদি টবে গাছ লাগান তাহলে টবটি এমন জায়গায় রাখতে হবে যেন প্রচুর পরিমাণে সূর্যের অালো পায় এবং সেটা যেন হয় অন্তত ৮ ঘন্টা। কারণ, মাল্টা গাছে অনেক বেশি সূর্যের অালোর প্রয়োজন পড়ে। অার যদি গাছ সরানোর ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে অাশেপাশের গাছগুলো ছেটে দিবেন যাতে করে পর্যাপ্ত সূর্যের অালো মাল্টা গাছে পৌছাতে পারে।

দ্বিতীয়ত, নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হবে। পরিমাণটা হচ্ছে, ইউরিয়া – ৩৫০ গ্রাম, টিএসপি ও এমপি – ২০০ গ্রাম করে, জিংক সালফেট – ১৫ গ্রাম, বোরিক এসিড – ৮ গ্রাম। সারের এই স্ট্যান্ডার্ডটা গাছের অাশেপাশের মাটিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

তৃতীয়ত, প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার সেচ দিতে হবে। এটি ফল অাঁকার বৃদ্ধি এবং ফল রসালো হতে সাহায্য করে।

সর্বশেষ, ফল অাসার পর টিএসপি ও এমপি সার ২০০ গ্রাম করে গাছের অাশেপাশের মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

প্রশ্ন: অামি এ্যাভোকেডোর বীজ থেকে ২০১৪ সালে চারা করেছি। ১০ টি চারার মধ্য মাত্র ৩ টি চারা টিকে অাছে এবং গাছের উচ্চতা ৮ ফিট। এখন পর্যন্ত গাছে ফুল বা ফল অাসেনি। কি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো? (অাব্দুল হালিম, হবিগঞ্জ)

অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান: অাপনার এ্যাভোকেডোর বয়স মাত্র ৩ বছর। বীজ থেকে চারা তৈরী করলে ফুল বা ফল অাসতে সাধারণত ৪-৫ বছর লাগে। অার, অাপনার গাছের উচ্চতা যেহেতু ৮ ফিট, সুতরাং অাপনি অাপনার গাছের সম্পূর্ন শীর্ষ কান্ডটা কেটে দিবেন। এতে দেখবেন কাটা অংশের নিচ থেকে ৩/৪ টা কুশি বের হয়েছে। সেখান থেকে ২/৩ টা রেখে বাকিগুলো ভেঙ্গে দিবেন। ৪-৫ মাস পর ঐ কুশিগুলো অাবার শীর্ষ থেকে১ ফিট দূরে ভেঙ্গে দিবেন। সেখান থেকে অাবার নতুন কুশি হলে একইভাবে ২ টা কুশি রেখে বাকিগুলো ভেঙ্গে দিবেন।
অার গাছের ক্ষেত্রে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সার দেওয়ার পরপরই সেচ দিতে হবে। এরপর প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২ বার সেচ দিতে হবে। অক্টোবর-নভেম্বরে যখন গাছে মুকুল অাসতে শুরু করবে তখন সেচ দেয়া বন্ধ করতে হবে।

প্রশ্ন: অামার বাগানের অাম গাছের বয়স ৫ বছর। কি নিয়ম মেনে কতটুকু সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে? (অাব্দুর রফিক, নেত্রকোনা)

অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান: অাম বাগানের ক্ষেত্রে ফল সংগ্রহের পরপরই মরা এবং পুরনো ডালপালা কেটে দিতে হবে। কারণ, গাছে ঝোপঝাড় থাকলে নতুন ডালপালা বের হবে না। অামগাছে সাধারণত নতুন যে ডালপালা বের হয় সেগুলোতে মুকুল অাসে। সম্পূর্ন গাছে যদি পর্যাপ্ত অালো পৌছায় তাহলে সম্পূর্ন গাছেই মুকুল অাসবে। এছাড়া প্রতিটা গাছের জন্য নিম্নলিখিত পরিমাণে সার প্রয়োগ করতে হবে –

গোবর সার: ৩০-৪০ কেজি
ইউরিয়া: ৭০০ গ্রাম
টিএসপি+ এমপি: ৫০০ গ্রাম করে
জিংক সালফেট: ৩০ গ্রাম
বোরিক এসিড: ৮ গ্রাম

সম্পূর্ন সারকে ২ ভাগে ভাগ করে বর্ষার অাগে এবং পরে প্রয়োগ করতে হবে। দুপুরবেলা অামগাছের যতটুকু জায়গা জুড়ে ছায়া পরে ততটুকু মাটিতে অর্ধেক সার মিশিয়ে দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে।

প্রশ্ন: অামি ২ মাস অাগে মাল্টা গাছ লাগিয়েছি। বর্তমানে গাছের পাতাগুলো লাল হয়ে যাচ্ছে এবং উপরের ছোট ছোট ডালগুলো মারা যাচ্ছে। কি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে গাছগুলো স্বাভাবিক হবে? (মো: অাবু বকর সিদ্দিক, ভোলা)

অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান: মাল্টা গাছের ডগা মরে যাওয়াকে অাগামরা রোগ বলে। এই রোগ হলে যতটুকু মরে গেছে তার নিচ থেকে কেটে দিতে হবে এবং বোর্দো মিক্সচার স্প্রে করতে হবে। তাহলে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। অার, পাতা লাল হওয়াকে বলা হয় গ্রেনিং। এটা হলে শিরাটা হলুদ হয়ে যায়, যেটাকে অাপনি লাল বলেছেন। এক্ষেত্রেও, অাপনাকে বোর্দো মিক্সচার স্প্রে করতে হবে।

উৎস: দীপ্ত টিভি

About Anik Ahmed

Check Also

ডেইরী শিল্পে সফলতার অপর নাম “কৃষিবিদ ডেইরী ফার্ম”

অনিক অাহমেদ, সাভার, ঢাকা: দেশের ক্রমবর্ধমান মানুষের প্রাণিজ অামিষের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *