Wednesday , November 21 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / চট্টগ্রাম ট্যুরে অামরা ১১ জন: পর্ব-১

চট্টগ্রাম ট্যুরে অামরা ১১ জন: পর্ব-১

অনিক অাহমেদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা: চলমান স্বাভাবিক জীবনধারায় যখন হাপসে ওঠে মানুষ, তখন প্রয়োজন পড়ে ব্যতিক্রম কিছুর। স্বাভাবিক জীবনের বেড়াজাল থেকে বেড়িয়ে এসে মানুষ তখন চাই একটুখানি বিনোদন। অার এক্ষেত্রে অাপনার ক্লান্তিময় মনের সতেজতা ফিরিয়ে অানতে দারুণভাবে সহায়তা করতে পারে একটি ট্যুর।

হ্যা পাঠক, অাজ অামরা বাংলাদেশের একটি দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের অাদ্যোপান্ত অাপনাদের সামনে তুলে ধরবো। তার অাগে চলুন পরিচয় পর্বটা সেরে নেই। অামরা যারা ট্যুরে অংশগ্রহণ করেছিলাম তারা সবাই  ঢাকার সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থী।

জুন, ২০১৮। মেডিকেল লাইফের প্যারাময়তা থেকে সাময়িক পরিত্রাণ পেতে দরকার ছিল একটুখানি প্রশান্তির সুবাতাস। টানা ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবের গ্যাঁড়াকলে বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল জীবন। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম কোথাও ঘুরে অাসার। যেই কথা সেই কাজ, সুন্দর একটি স্থানও ঠিক করে ফেললাম। স্থানটি ছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই উপজেলা। এই দুইটা উপজেলার বেশকিছু দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের জন্য তারিখ ঠিক করলাম ২৫ জুন, সোমবার। ভ্রমণের জন্য অামাদের নির্দিষ্ট করা স্পটগুলো ছিল সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক, গুলিয়াখালী সী বীচ এবং মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক ও খৈয়াছড়া ঝর্ণা।

ইন্টারনেট খেকে অামাদের দর্শনীয় স্থান সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়াদি জেনে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ২৫ জুন সোমবার রাতে চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে অামাদের যাত্রা শুরু করলাম। অামরা মোট ১১ জন ছিলাম। রাতভর যাত্রা শেষে সকাল ৭ টায় অামরা সীতাকুন্ড রেলস্টেশন নামলাম। তারপর স্থানীয় একটি হোটেল থেকে সকালের নাস্তা শেষ করে সিএনজিযোগে যাত্রা শুরু করলাম অামাদের প্রথম স্পট বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের উদ্দেশ্যে। মিনিট বিশেক পরই পৌছে গেলাম  অামাদের কাঙ্খিত গন্তব্যে। জনপ্রতি ২০ টাকার এন্ট্রি টিকেট সংগ্রহ করে রওনা করলাম বোটানিক্যাল গার্ডেনের অন্তর্ভুক্ত সহস্রধারা ঝর্ণার দিকে। উচু-নিচু পিচ ঢালা সরু বনের রাস্তার মধ্য দিয়ে হেটে চলছিলাম অামরা ১১ জন। অামাদের প্রতিটি পদক্ষেপে তখন ছিল এডভেঞ্চারের ছোয়া। যতই বনের গভীরে যাচ্ছিলাম মনের মাঝে বয়ে যাচ্ছিল এক অনাবিল অানন্দের ধারা। জনমানবশূন্য বনে তখন অামরা ১১ জন ছিলাম মুকুটহীন রাজা।

প্রায় ৩০ মিনিট হাটার পর, বনের অাকা-বাকা রাস্তা পেরিয়ে সকাল প্রায় সাড়ে ৯ টায় অামরা পৌছে গেলাম সহস্রধারা ঝর্ণাতে। দূর থেকে ঝর্ণার শব্দ শুনতে পেয়ে নেচে উঠছিলো মনটা। প্রায় ৫০০ সিড়ি অতিক্রম করে নেমে পড়লাম ঝর্ণাতে। সে কি এক অপূর্ব প্রশান্তি, ভাষায় বোঝানো যাবেনা। সকলে মিলে লাফালাফি, ঝাপাঝাপি ইত্যাকার যত ধরণের অানন্দ করা যায় সব করলাম। প্রায় ৪০ মিনিট ঝর্ণায় গোসল শেষে অাবার প্রায় ৫০০ সিড়ি অতিক্রম করে বনের রাস্তা দিয়ে সীতাকুন্ড শহরের দিকে রওনা করলাম।

দুপুর প্রায় ১২ টার দিকে সীতাকুন্ড শহরে এসে প্রথমে ১৫০০ টাকায় একটা হোটেল ভাড়া করলাম।  তারপর, হোটেল রুমে ব্যাগপত্র রেখে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রুমে এসে ঘন্টাখানেক বিশ্রাম নিলাম। এরপর, বিকাল অাড়াইটার সময় রওনা করলাম পরবর্তী স্পট গুলিয়াখালী সী বীচের উদ্দেশ্যে। সীতাকুন্ড শহর থেকে ৩০০ টাকায় দুইটা সিএনজি ভাড়া করে চললাম দর্শনীয় এই সী বীচের পথে। অাকা-বাকা পথে চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে ৩০ মিনিটের মাঝে পৌছে গেলাম গুলিয়াখালী। সিএনজি থেকে নেমে মিনিট দশেক কিছুটা ভেজা, কর্দমাক্ত পথ পেড়িয়ে সাগরের উত্তাল জলরাশির গর্জন শুনতে পেলাম। সঙ্গে সঙ্গে ঝাপিয়ে পড়ে নিজেকে বিলিয়ে দিলাম অথৈ সাগরের মাঝে। সাগরের একেকটা ঢেউ এসে যখন শরীরের উপর অাছড়ে পড়ছিল তখন এক অপূর্ব অনুভূতিতে দোলা দিয়ে উঠছিল মন। সাগরের জলরাশির মাঝে এভাবে লাফ-ঝাপ, কাদা ছোড়াছুড়ি করে ঘন্টাখানেক পর গোসল করে উঠে অাসলাম। অবশ্য, অামাদের ২/৩ জন বন্ধু সেদিন ভীতি কিংবা যে কারণেই হোক সাগরের পানিতে নামেনি। শুধু চেয়ে চেয়ে উপভোগ করছিল অামাদের সুন্দর দৃশ্যগুলো। গুলিয়াখালী সী বীচের অাশেপাশে দাড়িয়ে থাকা সারি সারি গাছগাছালি গুলো বীচের সৌন্দর্যকে অনেকাংশে বৃদ্ধি করেছে। গৌধূলী লগ্নে সেই অাকাঙ্ক্ষিত সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখে রওনা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে……।
বাকি অংশ অাগামীকাল।

About Anik Ahmed

Check Also

যবিপ্রবির স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস প্রকাশ

মোসাব্বির হোসাইন, যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *