Monday , November 19 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / বিলুপ্ত মাছের পোনা পুনরুদ্ধার ও কৃত্রিম প্রজনন করেছেন হাবিপ্রবি শিক্ষক ড. ইমরান পারভেজ

বিলুপ্ত মাছের পোনা পুনরুদ্ধার ও কৃত্রিম প্রজনন করেছেন হাবিপ্রবি শিক্ষক ড. ইমরান পারভেজ

হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ কৃত্রিম উপায়ে বিলুপ্ত মাছের (ভাংনা) পোনা ও জাত উন্নয়নে সাফল্য পেয়েছেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স (এফবিজি) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজের নেতৃত্বে থাকা একদল গবেষক ।

কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত এই ভাগ্না বা খরকি মাছের পোনা দেখতে ২২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দিনাজপুর কারিতাস মৎস্য হ্যাচারীতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সফিউল আলম সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক। সেখানে তাঁরা ড. ইমরান পারভেজ এর প্রকল্পের আওতাধীন পুকুরগুলো ঘুরে দেখেন এবং কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উৎপাদিত পোনা ও জাতের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।

এসময় উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, বিলুপ্ত প্রজাতির এই মাছগুলোকে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ও জাত উন্নয়নে তিনি যে সফলতা দেখিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। আশা করি, এই মাছ চাষের মাধ্যমে মৎস্য চাষীরা সফলতা লাভ করবে। সেইসাথে দেশের টেকসই মৎস্য উৎপাদনে এটি গুরত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। আমি তার এই কাজের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।

ড. ইমরান পারভেজ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ও ন্যাশনাল এগ্রো টেকনোলোজি ফেইজ-২ এর আর্থিক সহযোগিতায় ২০১৫ সাল থেকে বিলুপ্ত (প্রায়) প্রজাতির এই মাছের কৃত্রিম উপায়ে পোনা উৎপাদন ও জাত উন্নয়নের জন্য কাজ করে আসছি ।একসময়ে এ মাছটি বাংলাদেশসহ দক্ষিন এশিয়ার ভারত, নেপাল, ভূটান, পাকিস্তান ইত্যাদি দেশে পাওয়া যেত। কিন্তু নানাবিধ প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দূর্যোগের কারনে মাছটি আজ বিলুপ্তপ্রায়। হুমকির সম্মুখীন এই মাছটিকে ফিরিয়ে আনতে আমি কাজ শুরু করি। আমি চিন্তা করেছি, কৃত্রিম উপায়ে যদি মাছটির পোনা উৎপাদন ও জাতের উন্নয়ন ঘটানো যায় তাহলে দেশের টেকসই মৎস্য উৎপাদন ও আমিষের চাহিদা পূরনে এক গুরত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারবে। পাশাপাশি মৎস্য চাষীরা এই প্রজাতির মাছ চাষ করে লাভবান হতে পারবে। বাজারে এ প্রজাতি মাছের বেশ চাহিদা এবং বাজার মূল্যও অনেক বেশি, কেজি প্রতি ২৫০-৩৫০ টাকা।

মাছের জাত উন্নয়ন ও পোনা উৎপাদনের জন্য দেশের দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ ও যশোর এই চারটি অঞ্চল থেকে মা-বাবা মাছ সংগ্রহ করে মাছের খাদ্যাভ্যাস, প্রজনন বায়োলজী, সময় নির্ণয় করা হয় ।এরা একই প্রজাতি হওয়া সত্ত্বেও গবেষণায় দেখা যায়, এরা নিজেদের মধ্যে একটা পার্থক্য বজায় রাখে। পোনা উৎপাদনের জন্য পিটুইটারী গ্রন্থির নির্যাস, এইচসিজি, কৃত্রিম হরমোন, ওভারপ্রিম ইত্যাদি প্রয়োগের মাধ্যমে মাছকে প্রজননের জন্য প্রনোদিত করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন অঞ্চলের মাছের মধ্যে ক্রস করে ইন্টার ও ইন্ট্রা ব্রিডিং ঘটানো হয়। এতে পিটুইটারী গ্রন্থির নির্যাসের মাধ্যমে প্রজননে দিনাজপুর-দিনাজপুর, দিনাজপুর- ময়মনসিংহ ও ময়মনসিংহ- ময়মনসিংহ মাছে বেশি সফলতা পাওয়া যায়। আর ৩২% প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত প্রয়োগে এদের বর্ধন অনেক বেশি হয়।

তিনি আরও বলেন, বাটা মাছের বিকল্প হিসেবে মিশ্রচাষে এই খরকি মাছ চাষের বেশ সম্ভাবনা রয়েছে। বাটা ও সরপুটি মাছের চেয়ে এ মাছ অনেক বেশি সুস্বাদু এবং চাহিদা সম্পন্ন। দেশের উত্তরাঞ্চলের যে জায়গা গুলোতে ছয় মাসের বেশি পানি থাকে না সে জায়গাতেও এ মাছ চাষ করা যাবে। অধিকন্তু চলমান গবেষণা সম্পন্ন হলে ঘরের ভিতর রেস সিস্টেমেও চাষ করা যেতে পারে এ মাছ। ইতোমধ্যে এ মাছকে ছড়িয়ে দিতে দিনাজপুর কাহারোলে অবস্থিত হাই হ্যাচারীতে ব্রুড ডেভোলপমেন্টের কাজ চলছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের ১০টি মৎস্য হ্যাচারীতে এ মাছ পৌছে দেয়ার পরিকল্পনা আছে ।

উল্লেখ্য, গবেষক দলের প্রধান ইনভেস্টিগেটর ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স (এফবিজি) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ ইমরান পারভেজ, কো- ইনভেস্টিগেটর একোয়াকালচার বিভাগের প্রভাষক মৌসুমি সরকার ছন্দা। এছাড়াও প্রকল্পের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন ডঃ মাহবুবুল হাসান এবং আশরাফুল আলম, রায়হান, রাশেদা, আরাফাত, সুজন, কাজল, আরিফ, শোভন সহ মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী।

About Anik Ahmed

Check Also

যবিপ্রবির স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস প্রকাশ

মোসাব্বির হোসাইন, যবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *