Tuesday , February 19 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / মিশ্র খামার করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন মেহেরপুরের খোরশেদ অালম

মিশ্র খামার করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন মেহেরপুরের খোরশেদ অালম

অনিক অাহমেদ, সাভার, ঢাকা: বছরখানেকও হয়নি, হতাশার পাহাড়ে নিমজ্জিত ছিলেন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বেকার যুবক খোরশেদ অালম। জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন কিন্তু ব্যর্থতার বোঝা মাথায় নিয়ে ফিরে অাসেন দেশে। ভাগ্য ফেরানোর প্রচেষ্টায় শুরু করেন ছোট্ট একটি ব্যবসা কিন্তু তাতেও লোকসানের ছড়াছড়ি। এমতাবস্থায়, তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বহুল অালোচিত টার্কি মুরগি সম্পর্কে অবগত হন। এরপর ইউটিউব, বইপত্র, ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করে তিনি টার্কির খামার করতে অাগ্রহী হন। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে কোয়েল, কবুতর, ছাগল ও দেশী মুরগির মিশ্র খামার করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন। অাসুন পাঠক, শুনে অাসি মেহেরপুরের বেকার যুবক খোরশেদ অালমের সফলতার গল্প।

গতবছরের শেষের দিকে মাত্র ৪০ টি টার্কির বাচ্চা নিয়ে খোরশেদ অালম শুরু করেন মিশ্র খামার গড়ার প্রথম ধাপ। কঠোর পরিশ্রম অার সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অাস্তে অাস্তে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। এরপর, খামারের পরিসরকে বড় করতে গড়ে তোলেন কবুতর, কোয়েল, ছাগল ও দেশী মুরগির লালনপালন শুরু করেন।

বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৩০০ টি টার্কি, ৩০০ টি কোয়েল, ৮০ টি ছাগল ও ১৫০ টি কবুতর। এছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে শতাধিক দেশি মুরগিও পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি সবজির বাগানও করেছেন তিনি। এ মিশ্র খামার থেকে সকল খরচ বাদে ডিম, টার্কি, কবুতর ও কোয়েল বিক্রি করে প্রতি মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন তিনি।

 

মিশ্র খামার করার কারণ জানতে চাইলে খামারী খোরশেদ অালম এগ্রিভিউ টোয়েন্টিফোরকে জানান, “একক খামার করলে লোকসানের সম্ভাবনা বেশি থাকে। অার লাভ হলেও সেটা অনেক সময় পর্যাপ্ত হয় না। যেকোনো মহামারী, খাবারের মূল্য বৃদ্ধি কিংবা উৎপাদিত পণ্যের দাম কমে গেলে খামারীদের মাথায় হাত পড়ে যায়। কিন্তু মিশ্র খামার করলে একদিকে লোকসান হলে অন্যদিক দিয়ে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

মিশ্র খামারের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মেহেরপুরে দিন দিন মিশ্র খামারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বর্তমানে, মেহেরপুর জেলায় দেড় শতাধিক মিশ্র খামার রয়েছে যার  মধ্যে গাংনী উপজেলাতেই ৮০ টি। এসব খামারের মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

খোরশেদ অালম তার খামারে নিজস্ব হ্যাচারির মাধ্যমে বাচ্চা উৎপাদন করেন। এ যাবত তিনি ৫০০ শতাধিক টার্কি মুরগির বাচ্চা বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টার্কি তিনি ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। এছাড়া কবুতর ১৫০ টাকা জোড়া, কোয়েল ৮০ টাকা জোড়া বিক্রি করেন।

ভবিষ্যতে তিনি তার খামারকে অারো বিশালাকারে রুপান্তর করতে চান। এতে যেমন তিনি অার্থিকভাবে অারো স্বাবলম্বী হবেন, সেইসাথে নিরাপদ প্রাণীজ অামিষের ঘাটতি পূরণে এগিয়ে যাবে দেশ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

About Anik Ahmed

Check Also

তিতাসে উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগনের ২য় শ্রেনীর মর্যাদা প্রাপ্তিতে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের দ্বিতীয় শ্রেনির সম্মান” এ স্লোগান কে সামনে রেখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *