Monday , January 21 2019
সর্বশেষ
Home / পাঁচমিশালি / গল্পের রাজধানী

গল্পের রাজধানী

মাহমুদা সুলতানা কাননঃ সময়টা ২০১৫ এর শেষের দিকে। অামি তখন এইচ.এস.সি. পরীক্ষা দিবো। কলেজের নির্বাচনী পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ঠিক ঐ সময়ে কলেজের একটা ছেলের সাথে পরিচয়। জিসান ওর নাম। ও অনেক সাহায্য করতো অামাকে। পড়া বুঝিয়ে দিতো। ব্যাবহারিক খাতার বাকি থাকা কিছু চিত্র এঁকে দিয়েছিলো। খুব অল্প সময়ে জিসান অামার ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলো। ওর মাধ্যমেই অামার অারেকটা মেয়ের সাথে পরিচয় ঘটে। সেও অামাদের কলেজে পড়তো। ওর নাম ছিলো মম। অামাদের এইচ.এস.সি পরীক্ষা সামনে, তাই খুব সিরিয়াস হয়ে পড়ছি। অার প্রস্তুতি নিচ্ছি পরীক্ষার, তিনজনই একই কোচিং-এ পরীক্ষা দিচ্ছি। অার কোচিং শেষে রোজ অাড্ডা হতো। তিনজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অনেক গল্প করতাম।

চকবাজার জয়নগর গলির মুখটা ছিলো অামাদের রাজধানী। যতই যা কিছু হোক না কেনো অামরা দিনশেষে ওখানেই গল্প করতাম। কখনো অামরা তিনজন, কখনোবা দুইজন। মাঝেমাঝে অামাদের সাথে যোগ দিতো ‘কফিল’।

 

ছেলেটা খুব মেধাবী(মেরিটোরিয়াস)। রোজকার মতোই এক বিকেলে অামি অার মম অাড্ডা দিচ্ছিলাম জয়নগর গলির মুখে। চারপাশে অনেক মানুষ সবাই যারযার মতো ব্যস্ত। অামাদের কোনোদিকে খেয়াল নেই। দুজন গল্প করেই যাচ্ছি। হঠাৎ বিকট একটা অাওয়াজ অামাদের দুজনের কানে অাসলো। মনে হলো গুলির শব্দ। অামরা অার কোনোদিকে তাকালাম না। প্রায়ই সে সময়টাই চকবাজার চট্টগ্রাম কলেজের কিংবা মহসিন কলেজের ছাত্রলীগের মধ্যে রামদা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি দেখতাম। ঐদিনও পরিবেশটা থমথমে ছিলো। অামরা দুজনেই সোজা সামনেরর দিকে দৌড়াচ্ছি, পেছনে তাকানোর প্রশ্নই অাসেনা। ভয়ে অামার হাত শক্ত করে ধরে অাছে মম। অামার একপায়ের স্যান্ডেল খুলে গেলো। অামি সেটা পরতে যাবো কিন্তু মম বাঁধা দিলো। তারপর একপায়ে স্যান্ডেল অন্য পা খালি। দৌড়াচ্ছি…

একদম গলির শেষ যেখানে সেখানটায় পৌঁছে দুজন দাঁড়লাম। এবার ভাবলাম একবার পেছন ফিরে তাকাই। পেছন ফিরলাম অার তারপর যা দেখলাম তার জন্য অামরা দুজন প্রস্তুত ছিলাম না। হঠাৎ কয়েক মুহূর্তের জন্য দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে রইলাম। চকবাজারের ব্যস্ত মানুষগুলো যারা শপিংমলে এসেছিলো কিংবা কোচিং-এ তাদের একটা অংশ নীরবে দাঁড়িয়ে অাছে। অার অামাদের দৌড় দেখছিলো। কিছু মানুষ হাসছিলো খুব।
পরক্ষণেই সমস্ত ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম। অামাদের রাজধানী (যেখানে দাঁড়িয়ে গল্প করতাম) তার উপরেই ছিলো একটা বৈদ্যুতিক খুটি। যার সাথে সংযুক্ত ছিলো ট্রান্সফরমার, অার সেটিতে কিছু গন্ডগোল হওয়ায় ওরকম অাওয়াজ হয়েছিলো। অার সেটাকেই অামরা গুলি বা মেশিনগানের শব্দ ভেবে দৌড়াচ্ছিলাম।

শিক্ষার্থীঃ ফিসারিজ অনুষদ, চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়।

About Mostafizur Rahman

Check Also

কুইক কুইজ, সময় ১৫ মিনিট !!!

এগ্রিভিউ২৪.কম এর আয়োজনে “কুইজ” প্রতিযোগিতায় আপনাকে স্বাগতম। পরবর্তী কুইজ হবে আগামী ২৪ জানুয়ারী, রোজ বৃহঃস্পতিবার রাত …

One comment

  1. শুভ্র নীল

    আজকে যেটা পরছে সেটার রিএকশন কি ছিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *