Monday , November 19 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / আমার ক্যাম্পাস / খুলনার ডুমুরিয়ায় মাঠ ভ্রমণে IAAS Bangladesh টিম

খুলনার ডুমুরিয়ায় মাঠ ভ্রমণে IAAS Bangladesh টিম

ছালেহা খাতুন রিপ্তা, খুলনা থেকে:  দেশের এক মাত্র কৃষিভিত্তিক আন্তর্জাতিক ছাত্র সংগঠন IAAS Bangladesh আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে “চলো মাঠে যাই “ শীর্ষক একটি ফিল্ড ট্রিপের আয়োজন করে। IAAS Bangladesh (International Association for Students in Agriculture and Related Science)এ র ন্যাশনাল ডিরেক্টর সহ ১৫ সদস্যের একটি দল এই ফিল্ড ট্রিপে অংশ নেয়। উক্ত মাঠ পরিদর্শনে আরো উপস্থিত ছিলেন IAAS Bangladesh এর ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ ফিন্যান্স, ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ কমিউনিকেশন এন্ড মেম্বারশীপ। ফিল্ড ট্রিপের উদ্দেশ্য ছিলো সরাসরি মাঠপর্যায়ে কৃষক দের বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা।

 

 

আজ সকাল সাড়ে ৮টায় IAAS Bangladesh এর ১৫ সদস্য বিশিষ্ট দলটি প্রথমে বিশ্বের বৃহত্তম সাসটেইনেবিলিটি সংগঠন Solidaridad তাদের সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার, ফুড সিকিউরিটি এন্ড লিংকেজেস (সফল) প্রকল্পের খুলনার ডুমুরিয়া অফিস পরিদর্শন করে। এসময় তারা সফল প্রকল্পের অফিস কর্মকর্তাদের সাথে এক মত বিনিময় সভায় অংশ নেয়। সেখানে সফল প্রকল্পের উদ্দেশ্যে, কাঠামো, কর্মপদ্ধতি ও অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সফলের অফিস পরিদর্শন শেষে ফিল্ড অফিসার চৌধুরী রাজিব এর সহযোগিতায় IAAS Bangladesh এর দলটি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বামুন্দিয়া গ্রামে কৃষকদের সাথে মাঠ পর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করে। উক্ত বৈঠকে কৃষকদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন IAAS Bangladesh ন্যাশনাল ডিরেক্টর জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম সজল। এ অঞ্চলের পুরুষের পাশাপাশি নারী কৃষকগণ তাদের ভাগ্যোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। তারা নিজেদের জমিতে ধানের পাশাপাশি বেগুন, কপি, পুইশাক ইত্যাদি সবজির চাষ করে। তারা নিজেদের জমি কখনও পতিত রাখেনা।

জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি নিজেদের তৈরি জৈবসার ব্যবহার করে থাকে। ফসলের উৎপাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা নতুন এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করে। জনাব সজল কৃষকদের পুর্বের অবস্থা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের বর্তমান অবস্থার তুলনামূলক পর্যালোচনা করে তাদেরকে আশ্বস্ত করেন যে, কৃষকগন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তারা সরাসরি IAAS Bangladesh এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

সাধারণ কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে জৈব সার ব্যবহারে তারা দারুণ উপকৃত হচ্ছেন। উক্ত বৈঠকে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচোসার এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে গ্রাম্য কৃষকদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে সফলের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে ডেটল সাবান বিতরণ করা হয়। অতঃপর স্থানীয় কৃষকদের ফসলের ক্ষেত সরোজমিনে পরিদর্শন করে IAAS Bangladesh সদস্যবৃন্দ।

স্থানীয় বামুন্দিয়া কৃষক কমিটির সভাপতি, মোঃ নুরুজ্জামান জানান যে তিনি সফল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই কেঁচোসার উৎপাদন করছেন। তিনি প্রথমে ২৫ টি কেঁচো এবং ১০টি চাড়ি দিয়ে এ কেঁচোসার উৎপাদন শুরুকরেন। বর্তমানে তার স্টকে ১.৫-২ লক্ষ কেঁচো রয়েছে। এক্ষ্রেত্রে প্রথমে গরুর বিষ্ঠা ১০-১৫ দিন পতিত রাখা হয় গন্ধমুক্ত করার জন্য৷ এরপরে তাতে এই বিশেষ ধরনের লালা বিহীন কেঁচো যুক্ত করা হয়। এভাবেই পরিবেশ বান্ধব ও লাভ জনক কেঁচোসার উৎপাদিত হয়। প্রতিকেজি কেঁচোসার ১২টাকা দরে বিক্রি হয় যা রাসায়নিক সারের তুলনায় বহুগুণে শক্তিশালী।

এরপর ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনায় সফল প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভিলেজ সুপার মার্কেট (ভিএসএম) পরিদর্শন করা হয়। এই মার্কেটটি গতবছর ৬ সেপ্টেম্বর উদ্বোধিত হয়। স্থানীয় খামারীগন তাদের উৎপাদিত মাছ ও সবজি পাইকারি দরে এই সুপার মার্কেটে বিক্রি করে। এখানে পন্যের গুণগত মান সম্পুর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই বাছাই করার পর সরাসরি প্যাকেজিং করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।এখানে বিশে্ষায়িত কোল্ড স্টোরেজ, বরফ ইউনিট, মাছের ডিপো, মিল্ক প্রসেসিং ইউনিট এবং সবজি প্যাকেজিং ইউনিট রয়েছে।এছাড়া ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জনাব মোঃ মো্হসিন হোসেন এর মৎস্য খামার পরিদর্শন করা হয়।

পরিশেষে বাংলাদেশের কৃষিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে IAAS Bangladesh টিম এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

About Nur E Kutubul Alam

Agri Journalist | Future Farmer | Student

Check Also

আগামীকাল শেষ হচ্ছে পবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সময়সীমা

পবিপ্রবি প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ভর্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *