Sunday , December 16 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / বাকৃবিতে জিটিআই পরিচালক রফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

বাকৃবিতে জিটিআই পরিচালক রফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অবস্থিত গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনিস্টটিউটের (জিটিআই) পরিচালক প্রফেসর এ.কে.এম. রফিকুল ইসলাম বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ট্রেনিংয়ের অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধভাবে গাছ কর্তন করে ফার্নিচার তৈরি, চাকুৃরির প্রভোলন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, চাকুরীতে স্বজনপ্রীতি, সহকর্মী ও কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার, ট্রেনিংয়ের গাড়ী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করাসহ নানা অভিযোগের পাহাড় পাওয়া গেছে। জিটিআইয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং, বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিও জন্য ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে থাকে।

এ.কে.এম. রফিকুল ইসলাম ছাত্রাবস্থায় ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী এবং চাকুরীজীবনের শুরুতে বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ক্ষমতার পালা বদলে খোলস বদলিয়ে যোগ দেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষকব ফোরামে। জিটিআইয়ের পরিচালক হওয়ার পর থেকে ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষকের সহায়তায় নানা ধরনের অপকর্ম করেও ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। জানা যায়, পরিচালকের দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি রাজনীতিক প্রভাব খাটিয়ে দুইজন আত্মীয়সহ মোট ৫ জনকে মাস্টারোলে নিয়োগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম জিটিআইয়ের একজন শিক্ষক নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে রাজনীতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি আরও তিনজন শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অধ্যাপক এ.কে.এম. রফিকুল ইসলাম ২০১৬ সালের ২৫ মে পরিচালকের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমতে শুরু করে। একসময় চুপচাপ থাকলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জিটিআইকে নিজের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন ধরনের পূর্ব অনুমতি ছাড়াই ডরমেটরির ৮টি গাছ কেটে আসবাবপত্র বানিয়েছেন। ইনস্টিটিউটের গাড়ী ও কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জিটিআইয়ে গাড়ীতে করে তাঁর স্ত্রী কর্মস্থল টাঙ্গাইলে যাতায়ত করেন। বেতনের পাশাপাশি প্রতিটি ক্লাসের জন্য আলাদা অর্থ দেওয়া হয়। কোর্স পরিচালক নামে আলাদা পদ সৃষ্টি করে প্রতিটি প্রশিক্ষণ থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নেন তিনি। এছাড়াও অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া, অন্য শিক্ষককে অনুপস্থিতিতে সবগুলো ক্লাস নিজেই নিয়ে সম্মানির টাকা উঠিয়ে নেন তিনি। পছন্দের শিক্ষককে এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কোর্স সমন্বয়ক বানিয়ে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, আগের পরিচালকদের সময়ও এমনটি ছিল। সহকর্মীদের সিদ্ধান্ত নিয়েই ওসব করা হয়েছে। অবসরে যাওয়া জিটিআইয়ের দুইবার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণে কোর্স ডাইরেক্টর রাখা কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষককে কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়ার কোনো নিয়ম জিটিআইয়ে নেই। আমার সময়ে ওরকম কিছুই ছিল না।
রফিকুলের সময়ে মোট ৬২ টি ট্রেনিং সম্পন্ন হয়েছে যার মধ্যে বেশি সংখ্যক কোর্সের কোর্স-সমন্বয়ক হিসেবে পরিচালক নিজেই এবং পছন্দের শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও প্রতিটি প্রশিক্ষক কোর্সে প্রত্যকটি কর্মচারীর জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ থাকে। তিনি কর্মচারীদের বি ত করে ওই টাকা নিজের পকেটে নেন। পরিচালকের ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস করেনি। কর্মচারীদের অভিযোগ, এই পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোট ৬২ টি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। চাকরির সময়সূচির বাইরে এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয় আমাদের। অতিরিক্ত কাজ করায় আগের পরিচালকেরা একটা সম্মানী দিতেন। এখন অনেক সময় দেন না, দিলেও সেটাকে সম্মানী বলা যায় না। এ ছাড়া সম্প্রতি জিটিআইয়ের ডরমিটরিতে ৪০টি নি¤œমানের খাট ক্রয় ও ব্যক্তিগত কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড়ে কিছু কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজনে জটলা দেখা যায়। পড়ে খবর নিয়ে জানা যায় পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বয়ড়া গ্রামের মো. শফিকুল ইসলাম শাহীনকে হুমকী দেওয়ার জন্য কয়েকজন সন্ত্রাসীকে পাঠিয়ে ছিলেন। এ বিষয়ে শফিকুল বলেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জিটিআইয়ের পরিচালক তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু চাকরি না দিয়ে সেই পদে বসিয়েছেন নিজের আত্মীয়কে। এখন টাকা ফেরত চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। নানা ভাবে হুমকি দেওয়ার চেষ্টাও করছেন। পরিচালকের কাছে ওই টাকা দেওয়ার সাক্ষী তার কাছে আছে বলে জানান তিনি। এ অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, শফিকুল একটি চাকরির জন্য আমার অফিসে ধরনা দিত। চাকরির না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি কোনো টাকা-পয়সা নিইনি। শফিক আমাকে বলেছে যে সে চাকরির জন্য ছাত্রলীগকে টাকা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, প্রশাসনিক কোনো কাজে ছাত্রলীগ যুক্ত নয়। চাকরি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জিটিআইয়ের পরিচালকেরই দেখার কথা।

অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক এ.কে.এম. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়। কেউ হয়ত ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

পরিচালকের স্বেচ্ছাচারীতা, টাকা আত্মসাতের ও অনিয়মের বিষয়ে উপাচার্য মো. আলী আকবর বলেন, জনবল নিয়োগ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের জন্য। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে পুঁজি করে কারো কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের কোনো করার সুযোগ নেই। যদি এ ধরণের কোনো কিছু হয়ে থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে।

 

About Editor

Check Also

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা প্রদান

শেরপুরে কৃতি শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সংবর্ধনা দিয়েছে শেরপুর জেলা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *