Wednesday , November 21 2018
সর্বশেষ
Home / পোলট্রি / পোল্ট্রি বিজনেস শুরুর পূর্বে বিবেচ্য বিষয়সমুহ
পোল্ট্রি বিজনেসের মধ্যে অন্যতম পোল্ট্রি ফার্মিং

পোল্ট্রি বিজনেস শুরুর পূর্বে বিবেচ্য বিষয়সমুহ

পোল্ট্রি বিজনেস শুরুর পূর্বে কিছু বিষয় নজরে রাখতে হয়। কারণ এতে করে একদিকে যেমন ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় অন্যদিকে কোন সময়ে কি করণীয় তাও বোঝা যাবে। লাভজনক পোল্ট্রি ব্যবসা শুরু করতে হলে নিম্নোক্ত বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে হবে।

১৷ কি ধরণের পোল্ট্রিঃ পোল্ট্রি হল ১১ টা প্রজাতির সমাহার৷ মুরগী, হাস, টার্কি, রাজহাঁস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ও বানিজ্যিক খামার বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বেশির ভাগ পোল্ট্রি খামার মুরগীর, তার পরের অবস্থান পাতিহাসের এবং বর্তমানে উদীয়মান খামার হচ্ছে টার্কির খামার। বাংলাদেশের টার্কির চাহিদা বাড়ছে।

২. আগ্রহঃ ব্যবসা এবং পেশার সব দিক বিবেচনা করে পোল্ট্রি ব্যবসার লাভ ক্ষতি হিসাব করতে হবে। আপনি কোন দিককে সামনে নিয়ে এগুতে চাচ্ছেন তা আপনাকে নির্দিষ্ট করতে হবে৷ এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ পেশাজীবিদের কাছে পরামর্শ নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মুরগীর খামার হলেও এতে কিছু সেক্টর জড়িত। আপনার ইচ্ছা ও স্বম্ভাবনার সাথে মিলিয়ে নিয়ে আপনি যে কোনটা শুরু করতে পারেন।

1. লেয়ারঃ ডিম উৎপাদন ও বাজারজাত করণের জন্য লেয়ার।
2. ব্রেডিং ব্রয়লারঃ ব্রয়লার মুরগী মাংশ উৎপাদনের জন্য অন্যতম।
3. হ্যাচারীঃ বাচ্চা উতপাদনের জন্য উপযুক্ত ডিম সংগ্রহ ও বাচ্চা ফুটানো হয় হ্যাচারীতে। এটিও পোল্ট্রির অন্যতম সময় উপযোগী ব্যবসা৷
4. পোল্ট্রি ফিডঃ পোল্ট্রি খামারীদের জন্য মুরগীর চাহিদামত খাদ্য প্রস্তুত করা। বর্তমানে বাংলাদেশে পোল্ট্রি ফিডের ব্যবসা খুবই জনপ্রিয়।

৩.ব্যবসার অবস্থানঃ ব্যবসার জন্য লোকেশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটু শহর শেডে গ্রামের মধ্যে কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল এমন স্থানে ফার্ম স্থাপন করলে খরচ কিছুটা সাশ্রয়ী হয়। শহরের মধ্যে বড় আকারের ফার্ম করাটা অনেকে নিষেধ করতে হয়। তবে শহর থেকে খুব বেশি দুরুত্বে হলে, ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ফার্মে যাওয়ার আগ্রহ কিছুটা কমে যায়।

৪. মূলধনঃ পোল্ট্রি ব্যবসার ধরণ অনুপাতে মূলধণের প্রয়োজন হয়। যদিও প্রকৃতপক্ষে কি পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা নির্ভর করে এলাকা এবং প্রয়োজনীয় কাচামালের উপর। ফার্মের আকারের উপর প্রয়োজনীয় উপকরণ ও ফলাফলের উপর নির্ভর করে।
৫. অবকাঠামোঃ পোল্ট্রি ব্যবসার ক্ষেত্রে পোল্ট্রি শেডের কাঠামো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত তিন ধরণের শেডের সরবরাহ আছে পোল্ট্রি খামারে-

১. মুক্তভাবে বিচরণঃ এই পদ্ধতিতে বাচ্চা কেনা হয় এবং নির্দিষ্ট মুক্ত এলাকায় পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে যারা বেশি সংখ্যার বাণিজ্যিক খামার গড়বেন তাদের জন্য এই পদ্ধতি এতটা সুবিধাজনক নয়। কারণ এতে করে কিছু ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷

২. ব্যাটারী কেজ বা খাচাঃ এই পদ্ধতিতে মুরগীকে খাচার রেখে সময়মত খাবার সরবরাহ করা হয়। এটা বহুল ব্যবহৃত ও উপযুক্ত পোল্ট্রি শেড ব্যবস্থাপনা। এখানে পোল্ট্রির থাকার ও ডিম পাড়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা থাকে এবং খাবার ও পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ রাখা হয়। খাচা কয়েকটা ভাগে বিভক্ত করা থাকে যেখান ডিম সংগ্রহেরও সুবিধা থাকে।

৩। লিটারের মাধ্যমেঃ এই পদ্ধতিতে মেঝেতে গুড়া বা বালি দিয়ে পোল্ট্রির জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়৷ যা পরিস্কার করার জন্য অনেক সহজ। বড় ধরণের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন,এটা হচ্ছে তার অপকারিতা।

৫. উপকরণ বা যন্ত্রপাতিঃ পোল্ট্রি শেডে কিছু যন্ত্রপাতি বা উপকরণ সামগ্রী পোল্ট্রি বিজনেসকে সফল হতে সহায়তা করে। যেমন, ইগ ট্রে, ডিমপাড়া খাচা, ফিডারারস, হিটারারস, পানির পাত্র, ফ্লাই ট্র‍্যাপ, এগ স্কেল, ইনকুবেটর, কেজ এবং কপস। এসব পোল্ট্রির উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৬. ফিড বা খাদ্যঃ পোল্ট্রির বেচে থাকা ও বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফিডের গুনগতমান ও পরিমাণ। ফিড ছাড়া কোন পোল্ট্রি বেচে থাকতে পারেনা। পোল্ট্রি খামারে মোট খরচের প্রায় ৬০-৭০ ভাগই খাবারের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পোল্ট্রি ফিড কিনে বা নিজে তৈরি করে খাওয়ানো যেতে পারে৷ খুব বড় আকারের পোল্ট্রি ব্যবসা থাকলে বা খামার থাকলে নিজেই ফিড তৈরি করে খাওয়ানো ভাল কারণ এতে করে খাবার খরচ কিছুটা কম হয়। আর অল্প পরিমাণ পোল্ট্রির জন্য খামারীদের ফিড কেনার জন্য পরামর্শ দেয়া হয় কারণ ফিড প্রস্তুত করার জন্য প্রাথমিক অনেক টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।

৭. স্বাস্থ্যঃ পোল্ট্রির স্বাস্থ্য সুরুক্ষার জন্য টিকা ও ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ ক্রমে ওষুধ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সুস্থ পোল্ট্রি উৎপাদন ও বৃদ্ধি যথেষ্ট পরিমাণে হয় যা মানুষকে পোল্ট্রি ব্যবসায় আগ্রহী করে তোলে।

পোল্ট্রি ব্যবসার শুরুর পূর্বে উপরুক্ত বিষয় গুলো বিবেচনায় রাখতে হয়। এসব বিষয় ভেবে চিন্তে ব্যবসা শুরু করলে সহজেই লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লেখকঃ ডাঃ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
উপ সম্পাদক, এগ্রভিউ২৪ ডট কম

About Mostafizur Rahman

Check Also

ডেইরী শিল্পে সফলতার অপর নাম “কৃষিবিদ ডেইরী ফার্ম”

অনিক অাহমেদ, সাভার, ঢাকা: দেশের ক্রমবর্ধমান মানুষের প্রাণিজ অামিষের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *