Monday , November 19 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / বিশে প্রথমবারের মতো ইলিশের জীবন রহস্য উন্মোচন করলো বাকৃবি গবেষকরা

বিশে প্রথমবারের মতো ইলিশের জীবন রহস্য উন্মোচন করলো বাকৃবি গবেষকরা

মো. শাহীন সরদার, বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বিশ্বে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন গবেষকদল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলমের  নেতৃত্বে গবেষকদলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ হচ্ছে পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ বজলুর রহমান মোল্যা, বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম  ও ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাঃ গোলাম কাদের খান। গবেষণা কাজটি গবেষকবৃন্দের নিজস্ব উদ্দ্যোগ, স্বেচ্ছাশ্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারষ্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলদেশের মৎস্য সেক্টর পূর্ণাঙ্গ জিনোম গবেষণার যুগে প্রবেশ করলো এবং আমাদের সক্ষমতা আছে তা প্রমান করলো বলে জানিয়েছেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম।

এরপূর্বে দেশী ও বিদেশী গবেষকদের সমন্বয়ে পাট ও মহিষের জীবন রহস্য উন্মোচন হয়েছে। ইলিশের ক্ষেত্রেই দেশীয় বিশেষজ্ঞরা এমন সাফল্য অর্জন করলো। যা মৎস্য সেক্টরে যুগান্তকারী যুগের সৃষ্টি করবে বলে গবেষকদের দাবি।

ইলিশের জিনোম বিশ্লেষণ করে গবেষকবৃন্দ ৭৬ লক্ষ ৮০ হাজার নিউক্ল্রিওটাইড পেয়েছে যা মানুষের জিনোমের প্রায় এক চতুর্থাংশ। এছাড়াও ইলিশের জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ২১,৩২৫টি মাইক্রোস্যাটেলইট (Simple Sequence Repeat, SSR) ও ১২ লক্ষ, ৩ হাজার ৪০০টি  Single Nucleotide Polymorphism (SNP) পাওয়া গেছে। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষন করে ইলিশ জিনোমে মোট জিনের সংখ্যা জানার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

জিনোম হচ্ছে কোন  জীব প্রজাতির সকল বৈশিষ্ঠ্যর নিয়ন্ত্রক। অন্য কথায় জিনোম হচ্ছে কোন জীবের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। জীবের অঙ্গসংস্থান, জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াসহ সকল জৈবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এর জিনোমে সংরক্ষিত নির্দেশনা দ্বারা। পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং হচ্ছে  কোন জীবের জিনোমে সমস্ত নিউক্লিওটাইড সমূহ কীভাবে বিন্যস্ত রয়েছে তা নিরূপন করা। একটি জীবের জিনোমে সর্বমোট জিনের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের কাজ পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স থেকেই জানা যায়।

গবেষকরা জীবন রহস্য উন্মোচন করতে মেঘনা ও বঙ্গোপসাগর থেকে জীবন্ত পূর্ণবয়স্ক ইলিশ সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাররেটরীতে উচ্চ গুনগত মানের জিনোমিক ডিএনএ প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট থেকে জিনোম সিকোয়েন্সিং সেন্টারে সংগৃহিত ইলিশের পৃথকভাবে প্রাথমিক ডেটা সংগ্রহ করে। এরপর বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সার্ভার কম্পিউটারে বিভিন্ন বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সংগৃহীত প্রাথমিক ডেটা থেকে ইলিশের পূর্ণাঙ্গ নতুন জিনোম বিশ্লেষণ সম্পন্ন করে।

ইলিশ মাছের জীবন রহস্য উন্মোচনের প্রয়োজনীতা সম্পর্কে প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। পৃথিবীর মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬০% উৎপন্ন হয় বাংলাদেশে। এদেশের প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষভাবে ইলিশ আহরনের সাথে জড়িত। এই জাতীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও টেকসই আহরন নিশ্চিত করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশ একটি ভ্রমনশীল   মাছ। এরা সারা বছর সাগরে বাস করে কিন্তু প্রজননের জন্য সাগর থেকে বিভিন্ন নদীতে চলে আসে এবং ডিম ছাড়ার পর মা ইলিশ সাগরে ফিরে যায়। অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, মাছ ধরার উপকরণের নিয়ন্ত্রণ, বছরের কিছু সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধকরণ এবং মাছ ধরার নৌকা নিয়ন্ত্রণ। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই রাখার জন্য গৃহীত কর্মসূচী ফলপ্রসূ করতে মাছের জৈবিক বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থাপনা কার্যকলাপের মধ্যে সমন্বয় সাধন। বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে ইলিশের  স্টকের সংখ্যা, বিভিন্ন  মোহনায় প্রজননকারী ইলিশ কি ভিন্ন ভিন্ন স্টক না কি এরা সবগুলো একটি স্টকের অংশ, বাংলাদেশের ইলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের (ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য) ইলিশ থেকে জেনেটিক্যালি স্বতন্ত্র কিনা ইত্যাদি বিষয়ে জানতে সহায়তা করবে।

এছাড়া বাংলাদেশী ইলিশের একটি রেফারেন্স জিনোম প্রস্তুত করা। ইলিশের জিনোমিক ডাটাবেস স্থাপন করা যাবে যা যাবতীয় বায়োলজিক্যাল তথ্য ভা-ার হিসেবে কাজ করবে। যা ইলিশের বিভিন্ন পপুলেশনের বিস্তৃতি এবং বিভিন্ন উপ-পপুলেশনের উপস্থিতি ও তাদের মধ্যে ইকোলজিক্যাল আন্তঃসংযোগ এর মাত্রা নির্ণয় করা।

এদিকে ০৭ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় ইংরেজী দৈনিকে একদল গবেষক ইলিশ নিয়ে কাজ করা বিষয়ে জানতে চাইলে গবেষকবৃন্দ বলেন, সেখানে তারা কি কাজ সম্পূর্ণ করেছে বা কোনো আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির বিষয়ে উল্লেখ নেই। আমরা ২০১৫ সালে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করি এবং  আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত যুক্তরাষ্টভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের (এনসিবিআই) তথ্যভান্ডারে ২৫ আগস্ট ২০১৭ স্বীকৃতি পাই। এছাড়া আমরা পূর্বেই এ তথ্যটি দুটি আর্ন্তজাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে উপস্থাপন করি।

About Editor

Check Also

জয়পুরহাটে চলছে আমন ধান কাটা-মাড়াই

ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় হাসিমুখে মহা ধুমধামে রোপা আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু করেছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *