Tuesday , January 22 2019
সর্বশেষ
Home / ট্যুরিজম / ঘুরে আসুন সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথপাহাড় এবং গুলিয়াখালি সমূদ্রসৈকত

ঘুরে আসুন সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথপাহাড় এবং গুলিয়াখালি সমূদ্রসৈকত

চন্দ্রনাথপাহাড় ভ্রমণঃ

সীতাকুন্ডের একটা সুন্দর জায়গার নাম চন্দ্রনাথপাহাড়। ট্র্যাকিং ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষের জন্যে একটি আকর্ষণীয় জায়গা। সীতাকুন্ড বাজার থেকে প্রায় ৪কি.মি. দূরে চন্দ্রনাথপাহাড় অবস্থিত। এটি প্রায় ১০২০ফুট উচ্চ এবং তার চূড়ায় পৌঁছাতে প্রায় ২২০০ এর বেশি সিড়ি পেরুতে হবে। যথেষ্ট সুন্দর এবং মনোরম দৃশ্য যা না দেখলে বুঝা কঠিন।

আমরা যাওয়ার আগে বাঁশ কিনে নিয়েছিলাম। যেমন খারা পাহাড় তেমন খারা সিড়ি। কিছুদুর হাটলে, অনেকটুকু সময় বিশ্রাম নিতে হয়। আর ঐ বিশ্রামের সময়টুকুতে মন দিয়ে প্রকৃতির মনোরম সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। হাটার সময় আপনার কেনা বাঁশটি ব্যালেন্স বজায় রাখতে বেশ সাহায্য করবে। যতোটুকু পারা যায় হালকা ব্যাগ নিলে পাহাড় চড়তে সহজ হয়। কষ্ট হবে, তবে মনোবল হারানো যাবেনা। একটা একটা সিড়ি পেরিয়ে যখন উপরে যেতে থাকবেন পাহাড়ের সৌন্দর্য আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকবে। ট্র্যাকিং করার সময় সাথে পানি নিয়ে নিবেন।

খরচঃ
১. চট্টগ্রাম শহর এ.কে.খান বাস স্ট্যান্ড থেকে সীতাকুন্ড বাজার (বাস)= ৩০টাকা জনে
২. সীতাকুন্ড পাহাড় থেকে চন্দ্রনাথপাহাড় (সিএনজি)= ২০টাকা জনে
৩. পাহাড়ে চড়ার আগে বাঁশ কেনা= ২০টাকা প্রতিবাঁশ
আর রির্টান খরচ একই এবং খাওয়া খরচ ব্যাক্তিবিশেষে ভিন্ন।

গুলিয়াখালি সমূদ্র সৈকত ভ্রমণঃ

সীতাকুন্ড বাজার থেকে গুলিয়াখালি বীচের দূরত্ব প্রায় ৫কি.মি.। খুব সুন্দর গ্রাম্য, নিরিবিলি এমন একটা বীচ দেখার মতো। ভাটার সময় খুব কাছ থেকেই কাঁদার পথ শুরু হয়। হাটা শুরুর আগে জুতা খুলে নিয়ে তৈরী হয়ে নিতে হবে। ঐ পথে হাটা এক অন্যরকম অনুভূতি। ঐ জায়গাতে বুঝা যায় কারা খুব চঞ্চল অথবা কারা খুব ঘরুয়া, কাদের কাঁদা মাখামাখি খুব পছন্দ। যথেষ্ট এনজয় করার মতো এক দীর্ঘ হাটার পথ। ঐ পথে কেউ একবার না হাটলে আসলেও বুঝতে পারবেনা। যাদের গ্রামে কাঁদায় মাছ ধরার অভিজ্ঞতা তাদের জন্যে একটু সহজ পথ হবে। আর যারা কখনো হাটেনি তাদের জন্যেও কাঁদায় হাটার নতুন অভিজ্ঞতা হবে। পথে পড়বে জায়গায় জায়গায় গভীর স্রোতের ধারা আর অনেক গাছ। কেওড়া গাছও রয়েছে। হাটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত কারণ জায়গায় জায়গায় অনেক শ্বাসমূল উঁচিয়ে থাকে। তাছাড়া অনেক পিচ্ছিল পথ। এই পথটুকু পেরিয়েই সৈকত তার আগে সবুজ ঘাস, ফাঁকা জায়গায় জায়গায় বেশ গভীর পানি। জোয়ারের সময় অনেকটুকু জায়গাই পানিতে পূর্ণ থাকে এবং বেশ গভীর। তারপর সেই কাঙ্ক্ষিত সৈকত।

খরচঃ
১. সীতাকুন্ড বাজার থেকে গুলিয়াখালি সমূদ্রসৈকত (সিএনজি)= ১৫০টাকা (৫-৬জন)
২. সেখান থেকে সৈকত (বোটে)= ৫০টাকা, আর ভাটায় কাঁদাপথে হেঁটে গেলে ঐ খরচটাও আর লাগেনা।
রিটার্ন খরচ একই এবং সেখানে দুপুরের খাবারের সেরকম ব্যবস্থা নেই।

পরিশেষে, পর্যটক স্থানগুলোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আপনার।

About Meherjan Islam

Check Also

খিলক্ষেত : দি গ্রেট ভয়েজ

নূর-ই-কুতুবুল আলম, খুবি থেকে: শিরোনামখানা পড়ে যে কেউ চমকে যাবে এটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *