Saturday , September 22 2018
সর্বশেষ
Home / Uncategorized / গরুর দামে পানি কিনছেন না তো!?

গরুর দামে পানি কিনছেন না তো!?

ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলমঃ  কি, শিরোনাম দেখে সংশয়ে পড়ে গেলেন? “পানির দামে গরু” শুনেছি, কিন্তু “গরুর দামে পানি”, এ কেমন করে? পুরোটা পড়ুন। আশা করি বুঝবেন।

আসছে ২২ আগস্ট। পবিত্র ঈদুল আযহা। দিনক্ষণ তো প্রস্তুত, কিন্তু যারা কুরবানি দিবেন, আপনারা কি প্রস্তুত? কেনা হয়েছে কি কুরবানির পশু? উত্তর “হ্যাঁ” হলে ভালো। “না” হলে আরও ভালো। ভাবছেন, ভালো কেন বললাম? আচ্ছা, যারা কুরবানির পশু কিনেছেন, বলতে পারবেন আপনার পশু টি সুস্থ্য কিনা, কৃত্রিম উপায়ে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্বারা মোটাতাজা করা কিনা? অথবা যারা কিনবেন তারা কি জানেন আপনি কিভাবে এসব ত্রুটিমুক্ত একটি সুস্থ্য সবল পশু নির্বাচন করবেন বাজার থেকে? পারছেন না? আমি চেষ্টা করছি সাহায্য করার।

আমরা কুরবানি করি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে। আমাদের সর্বাধিক চেষ্টা থাকে সাধ্যমত একটি সুস্থ্য সবল ও দৃষ্টিনন্দন একটি পশু আল্লাহর রাস্তায় কুরবানি করার। সেজন্য আমরা টাকা খরচ করতেও দ্বিধা করি না। কিন্তু, টাকা খরচ করেও যদি আপনি প্রতারিত হন, মোটাতাজা পশুর আড়ালে যদি ভুলবশত অসুস্থ্য পশু কিনেন তা আসলেই কখনো কাম্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া, বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্বারা কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশুর মাংস ভক্ষনে হতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা। তাই পশুর বাজার থেকে দেখে শুনে সুস্থ্য পশু ক্রয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আসুন জেনে নিই এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য-

ক্ষতিকর রাসায়নিক (স্টেরয়েড) দেয়ায় পশু মোটা হয় কেন?

ঈদের আগে কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অস্থায়ী হাটে চলে পশু বেচাকেনা। আর লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্ষতিকর রাসায়নিক যেমন স্টেরয়েড দিয়ে গরুকে মোটা করে থাকেন। এই স্টেরয়েড মূলত হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
আমরা জানি, কিডনি বা বৃক্ক প্রাণী দেহ থেকে পানি অপসারণের কাজ করে থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে এই স্টেরয়েড (ডেক্সামিথাসন/ ডেকাসন/ বেটামিথাসন/পেরিঅ্যাকটিন) খাওয়ানোর ফলে গরুর কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে শরীর থেকে পানি অপসারন ব্যহত হয়। ফলশ্রুতিতে তা প্রাণীর দেহে জমা হয়। তার একটা অংশ মাংসে চলে যায় এবং প্রাণী মোটা দেখায়।

ক্ষতিকর রাসায়নিক (স্টেরয়েড) দেয়া পশু চেনার উপায়?

১। অসুস্থ থাকার কারনে সবসময় নীরব থাকে। একটি সুস্থ্য গরুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সে প্রতিক্রিয়া দেখায়, কিন্তু এ ধরনের গরুর পাশ দিয়ে গেলে সে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।

২। ঠিকমত চলাফেরা করেনা।

৩। ঠিকমত খাবার খায়না।

৪। এসকল গরুর পিছনের দিকে উরুর পেশীবহুল জায়গায় আঙুল দিয়ে চাপ দিলে তা দেবে যায় এবং সহজে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনা যা সুস্থ্য গরুর ক্ষেত্রে চাপ দেয়ার পর ছেড়ে দিলেই স্বাভাবিক হয়ে যায়। কারণ, বাইরে থেকে মাংশ মনে হলেও সেখানে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে।

৫। খুব দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস ফেলে, গরুকে ক্লান্ত দেখায়।

৬। গরুর মুখে অতিরিক্ত লালা ও ফেনা লেগে থাকে।

আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি-

এসব ব্যবহৃত স্টেরয়েড ওষুধ মানবদেহের কিডনি, ফুস্ফুস, লিভার, হৃদপিণ্ডের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে থাকে যার ফলে মানুষ নিন্মোক্ত রোগে ভুগতে পারে-

১। উচ্চরক্তচাপ
২। ডায়াবেটিস
৩। ধমনী চিকন হয়ে হৃদরোগ
৪। ব্রেইনস্ট্রোক
৫। শিশুদের মস্তিষ্ক গঠনে ক্ষতিসাধন
৬। LDL এর মাত্রা বৃদ্ধি, HDL এর মাত্রা হ্রাস

সুস্থ পশু চেনার উপায়-

১। পশু সর্বদাই লেজ নাড়িয়ে মশামাছি তাড়াতে ব্যাস্ত থাকবে ও কিছুক্ষন পরপর নাড়াচড়া করবে।

২। খাবার দিলে তা স্বাভাবিকভাবে খাবে ও অবসর সময়ে জাবর কাটবে।

৩। চোখ বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে।

৪। নাকের নিচের কালো অংশ (মাজল) ভেজা ভেজা লাগবে, মনে হবে যেন ফোঁটা ফোঁটা শিশির জমেছে।

৫। শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে, অস্বস্তিতে ছটফট করবে না।

৬। সুস্থ গরুর পিঠের কুজ মোটা ও টানটান হয়।

(সুত্রঃ ইন্টারনেট ও শেরপুর সদর উপজেলার প্রানিসম্পদ দপ্তরের লিফলেট অবলম্বনে)

ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
ডিভিএম, এমএস ইন প্যাথলজি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
গাজীপুর- ১৭০৬।

About Abu Naser

Check Also

পবিপ্রবি বাঁধনের ছাত্রী হল শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রূপ নির্ণয় কর্মসূচি

তাহজীব মন্ডল নিশাত, পবিপ্রবি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন এর কবি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *