Thursday , March 21 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / মৌবিষ (বি ভেনম) সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য
Photo Courtesy: genderz.org.ua

মৌবিষ (বি ভেনম) সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য

নিউজডেস্ক : মৌবিষ (সাধারণত মৌমাছির হুল বলা হয়) বলতে আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে ভয়ানক একটা কিছু, এই বুঝি আর রক্ষে নেই! মৌমাছির হুল ফুটানো থেকে বাঁচতে তাই আমরা অনেকেই মৌমাছি থেকে একটু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি ।প্রথমেই একটু জেনে নেয়া উচিত, মৌবিষ সাধারণত স্বচ্ছ, তীক্ষ্ণ মধুর ঘ্রাণ পাওয়া যায় এবং স্বাদ তীক্ত। লিটমাস কাগজে  মৌবিষ এসিডের মতোই আচরণ করে। হিস্টামিন, মেলিটাইন, ট্রিপটোফ্যান, ফরমিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড ইত্যাদি মৌবিষে বিদ্যমান।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, শরীরে জ্বালাপোড়ার সাথেসাথে চিকিৎসাবিজ্ঞানে মৌবিষ(বি ভেনম/এপিটক্সিন) যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কিন্তু কিভাবে?  আসুন জেনে নেয়া যাক!

১। চোখের রোগ ও চর্মরোগ :

পূর্ব থেকেই লোকজ চিকিৎসায় কোনো কোনো চক্ষুরোগ সারাতে মৌবিষের ব্যবহার হয়ে আসছে। নেত্রস্বচ্ছ ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির প্রদাহে মৌবিষের বেশ কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়। আধুনিক চিকিৎসায় ইরিটিস ও নেত্রলোম প্রদাহের মতো রোগ নিরাময়ে সাফল্যের সাথে মৌবিষ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের চর্মরোগের চিকিৎসায় লোকজ পদ্ধতিতে মৌবিষ ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

Photo Courtesy: www.mullenlowegroup.com

২। বাতরোগ ও স্নায়ুশূল ঃ

মৌবিষ মানবদেহের সংবেদী স্নায়ু পরিবহণে বাধা দেয় , এতে বাতরোগ এবং স্নায়ুশূল কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এসব রোগ প্রতিরোধও করে। বাতরোগের চিকিৎসায় মৌবিষের ইতিহাস একটু দেখলেই আমরা এর কার্যকারিতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাবো। এফ টার্শ নামের এক অস্ট্রিয় গবেষক ১৮৮৮ সালে মৌমাছির হুল বিদ্ধ করানোর মাধ্যমে ১৭০জন রোগীর বাতরোগ সারিয়ে ফেলেন। তিনি নিজেও বাতরোগী ছিলেন, নিজের ওপরে প্রয়োগ করে তিনি অভূতপূর্ব সাফল্য পান। ১৮৯৭ সালে রুশদেশের সামরিক চিকিৎসক ই. ভ. লিউবারস্কি এই সিদ্ধান্তে পৌছান যে, মৌবিষ বাতরোগের জন্য একটি মহৌষধ। এছাড়া মৌবিষ কটি, উরুসহ অন্যান্য স্থানের স্নায়ুর সর্বাধিক যন্ত্রণাকে প্রশমিত করে থাকে।

Photo Courtesy: images.wagwalkingweb.com

৪। রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল:

বার্ধক্যজনিত রোগের প্রধানতম কারণ হচ্ছে ধমনীতে মেদ সঞ্চার। ধমনীতে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমানোতে মৌবিষের জুড়ি নেই। পাশাপাশি মৌবিষ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে।

৫। রক্তসংবহনঃ

রক্তসংবহন উন্নতিতে মৌবিষ বিশেষ পারদর্শীতা দেখিয়েছে। সংগৃহীত তথ্যমতে, এটি  রক্তকোষ গঠনকে উদ্দীপ্ত করে। ৭০% রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, লোহিত কনিকার সংখ্যা ৫০,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে; ৬৫% রোগীর ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১২% বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

লক্ষ্যণীয়, বিশেষজ্ঞদের মতে যক্ষ্মা, হৃদরোগ, যৌনরোগ এবং বহুমূত্র রোগে মৌবিষ ব্যবহার অনুচিত। নির্ভুলভাবে মৌবিষ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হলে বিশেষ অঙ্গ অথবা রোগেই শুধু ক্রিয়াশীল নয়, রোগ প্রতিকারক এবং প্রতিরোধী হিসাবে কাজ করে থাকে। তবে মৌবিষ চিকিৎসায় ব্যবহার করতে  চিকিৎসকের সহায়তা অত্যাবশ্যক, অন্যথায় নিজেদের অজ্ঞতার কারণে বিষের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি হলে জীবন সংশয়ে ভুগতে হতে পারে।

About Correspondent

Check Also

বাকৃবিতে ‘অপুষ্টি দূরীকরণে খাদ্য প্রকৌশলীর ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ‘অপুষ্টি দূরীকরণে খাদ্য প্রকৌশলীর ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *