Thursday , March 21 2019
সর্বশেষ
Home / Uncategorized / ভারতে গরুর দুধের চেয়ে গোমূত্রের দাম বেশি

ভারতে গরুর দুধের চেয়ে গোমূত্রের দাম বেশি

পানির দামে দুধের কথা আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু তাই বলে দুধের চেয়ে গোমূত্রের দাম বেশি? পাঠক, অবাক হচ্ছেন? অবাক হলেও এটাই সত্য। সম্প্রতি ভারতের রাজস্থানে ঘটে েচলেছে এমন ঘটনাই।

রাজস্থানে গোমূত্রের চাহিদা এতটাই বেশি যে দুধের থেকেও তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ‘হাইব্রিড গরুর মূত্র’ পাইকারী বাজারে লিটারপিছু ১৫-৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে গরুর দুধের দাম লিটারপিছু ২২-২৫ টাকা।

খবরে বলা হয়, জয়পুরের কৈলেশ গুজ্জর গোমূত্র বিক্রি শুরু করার পর থেকে তার আয় অনেক বেড়ে গিয়েছে। দুধের পাশাপাশি গোমূত্র বিক্রিতে তাঁর উপার্জন ৩০% বেড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অপর এক দুধ-বিক্রেতা ওম প্রকাশ মিশ্র বলেন, ‘আমি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় এক লিটার গোমূত্র বেচি। গোমূত্রের চাহিদা এখন সাংঘাতিক।’

কেন গোমূত্রের চাহিদা বাড়ছে?
আঞ্চলিক গবেষণা-পরিচালক শান্তি কুমার শর্মা বলেছেন, গোমূত্রের মধ্যে ৯৫% পানি থাকলেও বাকি অংশের মধ্যে আড়াই শতাংশ ইউরিয়া আর অন্য আড়াই শতাংশের মধ্যে হরমোন, এনজাইম, অ্যাস্ট্রোজেন, ল্যাক্টোজসহ প্রায় ১৪-১৫ রকমের রাসায়নিক থাকে। গোমূত্রের মধ্যে গোবর আর গুড় মিশিয়ে গাঁজানো হয়, তারপরে সেটি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।কৃষিবিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, দেশে জৈব চাষের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোমূত্রের চাহিদাও বাড়ছে। বিশেষত রাজস্থানে বাড়ছে জৈব-চাষের এলাকা। আর জৈব-ফসলের জন্য যে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, সেখানে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় কী ধরনের সার ব্যবহার করা হয়েছে ওই ফসল ফলাতে। রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হলে সেই ফসলকে ‘জৈব’ বলে আখ্যা দেওয়া হয় না। তাই সরাসরি গোমূত্র অথবা তার থেকে তৈরি সার জৈব চাষের জন্য অপরিহার্য।

কৃষি গবেষক শান্তি কুমার শর্মা বলেন, জৈব ফসলের চাহিদা শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে বাড়ছে। তাই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গোমূত্রের চাহিদাও। অনেক ব্যবসায়ী গোমূত্রকে নানা ভাবে বাজারজাত করছেন। গরুচাষীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হলে গোমূত্রের যোগানও বাড়বে। তারাও গরু পালন করে বেশী রোজগার করতে পারবেন।

জৈব চাষ ছাড়াও হিন্দুদের পূজা অর্চনার জন্যও গোমূত্র মেশানো একটি উপাচারের প্রয়োজন হয় যার নাম পঞ্চগব্য।

বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবী গোমূত্রের ঔষধিগুণও রয়েছে। নানা রোগ নিরাময়ে গোমূত্র থেকে আরোহিত উপাদান কাজ করে বলে দাবী তাদের। যদিও এ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

রাজস্থানের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে এখন মূত্র সংগ্রহে খামারে রাত জাগছেন গরু পালনকারীরা। এক ফোঁটা গোমূত্রও যেন নষ্ট না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি তাদের। কেননা সকাল হলেই এই গোমূত্র বিক্রি হয় চড়া দামে। আবার কোনো কোনো বিক্রেতা অন্যের খামার থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন গোমূত্র। তারপর তা বিক্রি করছেন বাজারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম উঠছে লিটারে ৫০ টাকাও। এই নিয়েই ব্যস্ততা রাজস্থান জুড়ে।

 

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

About Anik Ahmed

Check Also

৪ দফা দাবিতে ক্লাস,পরীক্ষা বর্জন করছে নোবিপ্রবির ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে বিদ্যমান পরীক্ষা সংক্রান্ত আইন বাতিল করে পূর্বের আইন পূনর্বহাল করাসহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *