Thursday , December 13 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন ও বনাঞ্চল এবং খাপ খাওয়ানোর উপায়

বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন ও বনাঞ্চল এবং খাপ খাওয়ানোর উপায়

এগ্রিভিউ২৪ এক্সক্লুসিভ ডেস্কঃ বাংলাদেশের বনাঞ্চল ও বনজ সম্পদ- বনাঞ্চল প্রকৃতির এক অনবদ্য সৃষ্টি। যে কোন দেশের মোট আয়তনের শতকরা 25 ভাগ এলাকাজুড়ে বনভূমি থাকা বাঞ্ছনীয়। সরকারি হিসাব মতে বাংলাদেশের মোট ভূমির শতকরা 17 দশমিক 62 ভাগ অর্থাৎ 2.6 মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত।

এ দেশে সাধারণত চার ধরনের বনভূমি দেখতে পাওয়া যায়। যথা (১) শালবন যা- গাজীপুর, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, কুমিল্লা-ঢাকা ও নওগা জেলায় বিস্তৃত। এ বনভূমির আয়তন 1 লক্ষ 20 হাজার হেক্টর। (২) পাহাড়ি বন- যার বিস্তৃতি মূলতঃ সিলেট মৌলভিবাজার, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ছোট-বড় পাহাড় জুড়ে। এই বনভূমির আয়তন 6 লক্ষ 70 হাজার হেক্টর। (৩) ম্যানগ্রেভ বা লোনাপানির বন। পৃথিবীর একক বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন হলো আমাদের সুন্দরবন। এ বল মূলত খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা জুড়ে বিস্তৃত যা আয়তন 6 লক্ষ 1হাজার 7০০ হেক্টর। এছাড়া সামাজিক বনায়নের আওতায় উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে যার আয়তন 1 লক্ষ 3 2 হাজার হেক্টর। (৪) গ্রামীন বন কমবেশি সারাদেশ জুড়েই বিস্তৃত। এই জাতীয় বনের আয়তন প্রায় 2 লক্ষ 70 হাজার হেক্টর। বসত বাড়িতে নানা প্রজাতির বৃক্ষ রোপন করার ফলে এই বনের আয়তন ক্রমশই বাড়ছে।

বাংলাদেশের বনাঞ্চল ও বনাঞ্চল থেকে আহরিত বনজ সম্পদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। নানা প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী জীববৈচিত্রের এক বিশাল আধার বন্যপ্রাণীর উত্তম আবাসস্থল। আমাদের জীবন জীবিকা ও সমাজ সংস্কৃতির অনেকটাই গড়ে উঠেছে বনজ সম্পদ কেন্দ্র করে। মূল্যবান এই প্রাকৃতিক সম্পদ জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বহুমাত্রিক ঝুঁকির শিকার।

বনাঞ্চল ও বনভূমির উপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সমূহ আলোচনা করা হলোঃ-

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষা মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে বনভূমির ঢলের(run off) পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে বনভূমিতে ভূমি ক্ষয় বেড়ে যায়। এতে কম ঘন পাহাড়ি বনাঞ্চলে ভূমিক্ষয় সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে নানা প্রজাতির বৃক্ষের বেড়ে উঠা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া আটোক্যারপাস (artocarpus) যাতের বৃক্ষের মড়ক সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

শীতকালে অধিক বাষ্পীভবনের কারণে আদ্রতা বৃদ্ধি পেলে বিশেষ করে, বরেন্দ্র ও মধুপুর এলাকায় শাল বনের প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের গরান( Ceriops specie) বৃক্ষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি শীত কালে অধিক বাষ্পীভবন ও নদী সমূহে কম প্রবাহ ইত্যাদির সমন্বিত প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় মাটি ও পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের কম লবণাক্ততা প্রবন এলাকায় উদ্ভিদ গুলো লবণাক্ততা বৃদ্ধি জনিত কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কার্যতঃ সুন্দরবন ঘন অরণ্যের পরিবর্তে বৃক্ষহীন গুল্ম ও জঙ্গলে পরিণত হতে পারে। সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের কারণেও সুন্দরবনের ক্ষতি হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

বর্তমানে শতকরা 40 ভাগেরও বেশি সুন্দরী গাছ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামরা সমস্যায় আক্রান্ত। পশুর প্রজাতির বৃক্ষ হার্টরট ও ডাইব্যাক রোগ, গেওয়া ও কিরপা প্রজাতির বৃক্ষের কান্ডে গোবরে পোকা বা কাঁচ পোকা আক্রমণ এবং কেওড়া প্রজাতির বৃক্ষের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ ও ডাইব্যাক রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে সুন্দরবন ঝুঁকির সম্মুখীন। জলবায়ু পরিবর্তন এই ঝুঁকির মাত্রা আরো বৃদ্ধি করতে পারে।

খাপ খাওয়ানোর উপায়ঃ

বাংলাদেশের বনাঞ্চল গুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের মোরগ ও রোগ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা যেতে পারে। এসব রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন বৃক্ষ ব্যাপকভাবে সৃজন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

@জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে বন্য প্রাণী ও মৎস্য সম্পদের উপর কি প্রভাব পড়ে সে বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করা যেতে পারে।

উপকূলীয় সুন্দরবনে কেওড়া প্রজাতির অভ্যন্তরে সুন্দরী, পশুর, গেওয়া, খলশী, ধুন্দল, কিরপা, গোলপাতা, হেতাল ইত্যাদি মূল্যবান প্রজাতির বৃক্ষ ব্যাপকহারে সৃজনের মাধ্যমে প্যারাবনের জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার চর অঞ্চলে কেওড়া বনের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ চমৎকার ভাবে বেড়ে উঠেছে এমন কর্মসূচীকে আরো উৎসাহী করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ করে বাঁধ ও চর সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন স্তরে ঘন বন সৃজনের মাধ্যমে উপকূলীয় বন সমৃদ্ধ করা যেতে পারে। এ বনায়ন কর্মসূচি কেবল জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি থেকে উপকূলীয় বনাঞ্চল কে রক্ষা করবে না বরং জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সৃষ্ট দুর্যোগের তীব্রতা হ্রাসেও ভূমিকা রাখবে।

কৃত্রিম বন সৃজনে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের উন্নতমানের বীজ ব্যবহার করতে পারলে প্রতিটি বৃক্ষের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে সহনশীলতা বেড়ে যেতে পারে।

স্থানীয় দরিদ্র জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টির বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় (বীজ সংগ্রহ নার্সারি তৈরি ও ব্যবস্থাপনা বন সৃজন ও ব্যবস্থাপনা জলবায়ু সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় ইত্যাদি কার্যক্রমে) তাদেরকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

বনাঞ্চলের গুরুত্ব ও অবদান সম্পর্কে সকল পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া নানা ধরণের সচেতনতামুলক অনুষ্টান সম্প্রচার করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিবর্গ ও স্থানীয় এনজিও এক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে (তথ্যসূত্র ক্লাইমেট চেঞ্জ সেল, পরিবেশ অধিদপ্তর)

About Mostafizur Rahman

Check Also

কারিগরি কর্মকর্তা পদে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক : পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) এর সহযোগী সংগঠন প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নিয়োগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *