Saturday , September 22 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি বিভাগ / এ্যারোমেটিক জুঁই,আসলেই কি কোন ফুলের নাম?

এ্যারোমেটিক জুঁই,আসলেই কি কোন ফুলের নাম?

মোঃ আল আমীন (আকাশ),সিনিয়র রিপোর্টার

ইচ্ছাকৃতভাবে হোক কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে,এতদিন ধরে ফুলটাকে আমরা ভুল করে এ্যারোমেটিক জুঁই নামেই ডেকে আসছি। এই ফুলের প্রকৃত নাম ক্লেমাটিস (Clematis) বৈজ্ঞানিক নাম Clematis terniflora (ক্লেমাটিস টার্নিফ্লোরা)
নামের উৎপত্তিঃ গ্রীক শব্দ থেকে যার অর্থ বনলতা বিশেষ বা লতানো গাছ। ক্লেমাটিসের আদি নিবাস বা Orgin অষ্ট্রেলিয়ার উপকুলীয় (প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয়/subtropical) অঞ্চলসহ বিশ্বের অনেক জায়গায় ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। চীন ও জাপানেও প্রচুর পরিমানে ক্লেমাটিস জন্মে। এটা রানুনকুলাসি (Ranunculaceae) পরিবারভূক্ত, পৃথিবীতে প্রায় ২০০ প্রজাতির ক্লেমাটিস আছে। অস্ট্রেলিয়াতে ৬-৭ প্রজাতির ক্লেমাটিস রয়েছে, তার মধ্যে Clematis aristata হচ্ছে সবচেয়ে সুপরিচিত ও জনপ্রিয় প্রজাতি। এটা অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের বনভূমিতে বেশী জন্মে। ইংরেজীতে কেউ কেউ এই ফুলকে traveller’s joy “ভ্রমনকারীর আনন্দ” আবার কেউ কেউ একে Goat’s beard (ছাগলের দাড়ি) আবার অনেকে “old man’s beard” বৃদ্ধ লোকের দাড়ি বলেও ডাকেন।

 

এরোম্যাটিক জুঁইয়ের নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিরাট কনফিউশন! এটা দায়সাড়া গোছের তড়িঘড়ি করে অনভিজ্ঞ লোকদের দেয়া নাম। এটা না ইংরেজী না বাংলা শব্দ। জেসমিন ফুলকে আমরা বাংলায় জুঁই বা যুথী ফুলও বলি। এরোম্যাটিক ইংরেজী শব্দ এর অর্থ সুভাষ ছড়ানো অর্থাৎ সুগন্ধী, যিনি বা যারা এই ফুলের নাম এরোম্যাটিক জুঁই দিয়েছেন তাদেরকে যথেষ্ঠ বিচক্ষন বলা যাবে না। এটার প্রকৃত নাম আড়াল করে ব্যবসায়িক সুবিধা পাবার আশায় অথবা মানুষকে চমক দেখিয়ে আকৃষ্ট করার জন্য এ রকম জোড়াতালি দেয়া নাম বেছে নেয়া হয়েছে। নামটা পুরোপুরি ইংরেজী নীতি অনুসরন করে রাখা হলে এরোম্যাটিক জেসমিন হওয়া উচিত ছিল, আবার বাংলা ভাষার নীতিকে অনুসরন করলে সুরভিত জুঁই বা যুথী হওয়া উচিত ছিল। আমরা এখন পর্যন্ত কোন সুগন্ধযুক্ত ফুলের আগে বা পরে এ্যারোমেটিক বা সুরভিত শব্দ যোগ হতে দেখিনি। এমনকি আমাদের বহু পরিচিত ও প্রিয় গন্ধরাজ,রজনীগন্ধা,হাসনা হেনা,দোলনচাঁপা, শিউলী, বকুলসহ অন্যান্য তীব্র বা মিষ্টি গন্ধ ছড়ানো ফুল গুলোর নামের আগে বা পরেও কোন সুগন্ধযু্ক্ত শব্দ নেই।

তাহলে ক্লেমাটিসের ক্ষেত্রে এমনটা করা হচ্ছে কেন?

আপনি গুগুলে সার্চ করে কোখাও খুঁজে পাবেন না এ্যারোমেটিক জুঁই নামের কোন ফুল , এমনকি এটার বৈজ্ঞানিক নামকেও কৌশলে আড়াল করে রাখা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক নাম আড়াল করার উদ্দ্যেশ্য কি? উদ্দ্যেশ্য প্রকৃত নাম ও বৈশিষ্ট্য গুলোকে আড়াল করে যত দ্রুত সম্ভব ব্যাবসায়িক মুনাফা করে যাওয়া। বর্তমানে একটা ক্লেমাটিস গাছকে আকর্ষনীয় আকৃতি দিয়ে ১৫০০-২৫০০ টাকাও বিক্রি করা হচ্ছে। আপনি কি জানেন এই গাছের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই, লতা জাতীয় গাছ বিধায় এই গাছের আকৃতি সব সময় অনিয়মিত (irregular type) টাইপের হয়।

আপনি চাইলেই আপনার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই এই গাছের আকৃতি দিতে পারবেন। এই চালাকিটা করেই বিক্রেতারা আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই গাছের চারা বীজ অথবা ডালের কাটিং থেকে তৈরী করা যায়। তবে বীজ থেকে চারা তৈরী করার জার্মিনেশন রেট খুব একটা সন্তোষজনক নয় এই কারনে কাটিং থেকেই সবাই ক্লেমাটিসের চারা তৈরী করে। কাটিং জন্য ডাল হতে হবে মোটামুটি শক্ত ধরনের, একদম বেশী শক্তও নেয়া যাবে না আবার অতিরিক্ত সবুজ নরমও নেয়া যাবে না। ক্লেমাটিসের জন্য উর্বর দোঁআশ মাটি খুব ভালো ও মাটির ড্রেইনেজ সিষ্টেম খুব উন্নত মানের হতে হবে, যেন খুব দ্রুত পানি নেমে যেতে পারে। ক্লেমাটিস সহনীয় মাত্রায় পানি, রোদৌজ্বল ও আধো ছায়াময় স্থান খুব পছন্দ করে । এটা উচ্চতায় ২ থেকে ৬ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এটাকে মাঝে মাঝে প্রুনিং করে সাইজ ঠিক রাখতে হয় তা নাহলে ক্লেমাটিস অন্য গাছের জন্য সমস্যা হয়ে দেখা দিবে।

 

About Al Amin

Check Also

পবিপ্রবি বাঁধনের ছাত্রী হল শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রূপ নির্ণয় কর্মসূচি

তাহজীব মন্ডল নিশাত, পবিপ্রবি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন এর কবি …

2 comments

  1. Great article, very useful !!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *