Monday , July 23 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / গমের “পাতা ঝলসানো রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

গমের “পাতা ঝলসানো রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশে খাদ্য ফসল হিসাবে গম দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে । খাদ্যমানের দিক থেকে গম চালের চেয়ে পুষ্টিকর। চালের তুলনায় গমে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের পরিমান বেশী। অপরদিকে গম চাষে পানির প্রয়োজন ধানের তুলনায় খুবই কম। যে জমিতে সেচের সুবিধা নেই অথচ মাটিতে যথেষ্ট পরিমানে রস থাকে সে জমিতে বিনা সেচেও সফলভাবে গম চাষ করা যায়। কিন্তু গমের রোগবালাই গম চাষের একটি অন্যতম প্রতিবন্ধক। এব ফলে গমের যথেষ্ট ক্ষতি সাধন হয়। এ পর্যন্ত গমের ১৫টি রোগ সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ছত্রাক জনিত। গমের রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে গমের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে। গমের একটি প্রধান মারাত্মক রোগ সম্পর্কে বর্নণা করা হলঃ

 

পাতা ঝলসানো রোগ (Leaf blight)

রোগের কারণঃ বাইপোলারিস সরোকিনিয়ানা (Bipolaris sorokiniana) নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ
রোগটি প্রধানত বীজ বাহিত, তবে মাটি, ফসলের পরিত্যক্ত অংশে ছত্রাকটি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে। বীজ বা মাটিবাহিত জীবানুর মাধ্যমে প্রাথমিক আক্রমনের পর রোগটি বাতাসের সাহায্যে বয়স্ক পাতা থেকে নতুন পাতা এবং এক গাছ থেকে অন্য সব গাছই রোগক্রান্ত হয়। পাতা ঝলসানো রোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বাতাসের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং নাবীতে বীজ বপন।

রোগের লক্ষণঃ

  • এ রোগের প্রাথমিক আক্রমন চারা অবস্থাতেই শিকড় বা পাতায় ঘটে থাকে।
  • শিকড় আক্রান্ত হলে গাছ চারা অবস্থাতেই হলুদ হয়ে মারা যায় যা চারা ঝলাসানো রোগ নামে পরিচিত।
  • গাছ মাটির উপর আসলে প্রথমে নীচের পাতাতে ছোট ছোট বাদামী রঙের ডিম্বাকৃতি দাগ পড়ে।
  • দাগুলার চারপাশ দিয়ে একটি হলুদ আবরণ দেখা যায়।
  • পরবর্তীতে দাগগুলো ক্রমশ: বড় হতে থাকে এবং দাগের মধ্যস্থল ধূসর বর্ণ ধারণ করে।
  • গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দাগগুলো একত্রিত হতে থাকে এবং রোগটি নীচের পাতা থেকে উপরের পাতায় ছড়িয়ে পড়ে।
  • এ কারণে পাতা আগাম শুকিয়ে যায় যা দূর থেকে আগুনে পোড়া বা ঝলসানো বলে মনে হয়।
  • রোগের অনুকুল আবহাওয়ায় গমের শীষও আক্রান্ত হয় এবং বীজে রোগের সংক্রমন ঘটে।
  • আক্রান্ত বীজে কালো দাগ পড়ে এবং বীজের অংকুরোদগম ক্ষমতা কমে যায়।

 

রোগের প্রতিকারঃ

  • রোগমুক্ত জমি হতে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
  • গাছের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে।
  • পরিমিত মাত্রায় সার ও সেচ প্রয়োগ করতে হবে।
  • কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম (প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করে বপন করতে হবে।
  • রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে প্রোপিকোনাজোল (টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে অথবা টেবুকোনাজল (ফলিকুর ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

 

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

শেকৃবিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এগ্রিবিজনেসের গুরুত্ব বিষয়ক সেমিনার এবং এগ্রিবিজনেস সোসাইটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

আবদুর রহমান রাফি: রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এগ্রিবিজনেসের গুরুত্ব এবং সম্ভাবনা বিষয়ক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *