Thursday , October 18 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / পেয়ারার “আগা মরা রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পেয়ারার “আগা মরা রোগ” এর লক্ষণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা

পেয়ারা বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ফল। এ দেশে প্রায় সর্বত্রই পেয়ারা জন্মে থাকে। পেয়ারা পেকটিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের একটি অন্যতম উৎস। একটি পেয়ারাতে সমান আকৃতির একটি কমলার ৪ গুন এবং একটি লেবুর ১০ গুন বেশী ভিটামিন সি রয়েছে। পেয়ারা পরিনত হলে কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। প্রক্রিয়াজাতকরনের মাধ্যমে পেয়ারা থেকে তৈরী হয় সুস্বাদু জেলী, শরবত, পাউডার, আচার, আইসক্রীম প্রভৃতি। কিন্তু পেয়ারা উৎপাদনে রোগ একটি অন্যতম প্রতিবন্ধক। এর ফলে পেয়ারার যথেষ্ট ক্ষতি সাধন হয় ও ফলন কম হয়। পেয়ারার রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে। পেয়ারার একটি মারাত্মক রোগ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে বর্নণা করা হল।

আগা মরা (Die back) রোগ

 

রোগের কারণঃ কলেটোট্রিকাম সিডি (Colletotrichum psidii) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তারঃ

রোগের জীবাণু মরা ডাল বা পুরাতন পাতায় অবস্থান করে। বর্ষাকালে রোগের বীজকণার ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে। বাতাসের মাধ্যমে বীজকণা বিস্তার লাভ করে নতুন পাতা ও ডগায় আক্রমণ করে। উচ্চ তাপমাত্রা তৎসহ বাতাসের আর্দ্রতা ৮০%  উর্ধ্বে এবং বৃষ্টিপাত এ রোগের আক্রমণ ও বিস্তারে অনুকুল অবস্থার সৃষ্টি করে।

 

রোগের লক্ষণঃ

  • রোগের জীবাণু প্রথমে কচি পাতায় আক্রমণ করে।
  • আক্রান্ত পাতা বাদামী এবং পাতার কিনারা মুড়িয়ে যায়।
  • পাতাটি দ্রুত মারা যায় ও শুকিয়ে যায়।
  • আক্রমন পাতা থেকে কুড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ডগার অগ্রভাগ মেরে ফেলে।
  • মরা ডগা নিচের দিকে অগ্রসর হতে থাকে ফলে দুর থেকে আগামরা রোগের লক্ষণ বোঝা যায়।
  • আক্রান্ত ডগাটির কোষ বিবর্ণ হয়ে উঠে।
  • ডগাটি লম্বালম্বিভাবে চিরলে পরিবহন কলায় (Vascular tissue) লম্বা গাঢ় বর্ণের দাগ দেখা যায়।
  • প্রাথমিক অবস্থায় রোগ দমন না করলে রোগ সমস্ত ডালে ছড়িয়ে পড়ে।
  • আক্রমণ বেশী হলে গাছ মারা যেতে পারে।

 

রোগের প্রতিকারঃ 

  • গাছে ইউরিয়া সারসহ প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করে পানি সরবরাহ করলে রোগের আক্রমন কমে যাবে।
  • আক্রান্ত ডগা কিছু সুস্থ অংশসহ কেটে পুড়ে ফেলতে হবে এবং কাটা অংশে বর্দোপেষ্ট (প্রতি লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন) লাগাতে হবে।
  • কপার অক্সিক্লোরাইড (যেমন-কুপ্রাভিট ৫০ ডব্লিউপি) প্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম অথবা প্রোপিকোনাজোল (যেমন-টিল্ট ২৫০ ইসি) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ৩-৪ বার গাছে স্প্রে করতে  হবে।
ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান
উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ zaman.path@gmail.com

About Editor

Check Also

কালিগ্রাম থেকে উদ্ধারকৃত বিরল প্রজাতির সুন্ধি কাছিম পদ্মা নদীতে অবমুক্ত

শাহকৃষি তথ্য পাঠাগার নওগা হতে উদ্ধারকৃত বিরল প্রজাতির সুন্ধি কাছিমটিকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে অবমুক্ত করা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *