Monday , July 23 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / সম্ভাবনাময় “ব্রি ধান – ৮১” এর আগমন : সিকৃবি শিক্ষকের গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ

সম্ভাবনাময় “ব্রি ধান – ৮১” এর আগমন : সিকৃবি শিক্ষকের গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ

অর্ঘ্য চন্দ, সিকৃবি প্রতিনিধিঃ গতবছর আগাম বন্যায় দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রায় অধিকাংশ ফসলই পানির নিচে তলিয়ে যায়। ৮৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হলেও অর্ধেকের বেশি ফসল নষ্ট হয়ে যায়। প্রায় ২ লক্ষ ১২ হাজার কৃষককে মৌসুমের পুরো ফসল হারিয়ে পড়তে হয়েছিল জীবন সংকটে। তবে কৃষকের আকাশে হতাশার মেঘ কাটিয়ে আশার আলো হতে পারে আগাম বন্যা প্রতিরোধী ব্রি – ৮১ ধানের জাত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ২০১৭ সালের অক্টোবরে ব্রি ধান – ৮১ নামের উচ্চ ফলনশীল প্রকরণটি রিলিজ করে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান ও গবেষক প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই প্রকরণটির মান যাচাইয়ের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে চাষাবাদ পূর্বক ফলন পর্যবেক্ষণ করে দেখেন। তার সাথে সহযোগী হিসেবে ছিলেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সমীর চন্দ্র দাস। সিলেটে প্রায় প্রতিবছর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যা আঘাত হানে। সেক্ষেত্রে ব্রি -৮১ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কাটার উপযোগী হয়ে পড়ে। আগাম বন্যা নিয়ন্ত্রনে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এই প্রকরণ টি আশার আলো দেখাচ্ছে। এছাড়াও শক্ত চারা, অধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং উন্নত মানের চালের জন্য এটি অন্যতম।

নতুন ধান ব্রি -৮১ থেকে প্রতি কেজি চালে আমিষ মিলবে ১০ মিলিগ্রামের বেশি। হেক্টরপ্রতি ফলন পাওয়া যায় ৭.৫ থেকে ৮ টন ধান। যা এ যাবৎ ধানের যে কোনো উন্নত প্রকরণের চেয়ে বেশি। খুব কম খরচেই ধানটি কৃষকেরা ফলাতে পারবেন।আবার চাল হবে চিকন ও লম্বা। এম.এস শিক্ষার্থী সমীর চন্দ্র দাস জানান, “আমরা পাঁচটি জাত নিয়ে এখানে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি অন্যান্য যেকোনো জাতের চেয়ে ব্রি – ৮১ অনেক ভালো ও উচ্চ ফলনশীল জাত। বন্যা আসার আগেই ফসল ঘরে তোলা যাবে এতে হাওরের কৃষকরাও আর ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।”

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান ও গবেষক প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ” আমাদের হাওর অঞ্চলের আকস্মিক বন্যা বড় ধরনের সমস্যা। আমরা চাই আকস্মিক বন্যা মোকাবেলা করতে। তার জন্য আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেমন শর্ট ডিউরেশন ভেরাইটি ডেভেলপ করার চেষ্টা করছে পাশাপাশি আমরা যারা মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করছি তাদের ও এই গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।”

উল্লেখ্য নতুন প্রকরণ হিসেবে এই জাতটি এখনো কৃষকের হাতের নাগালের বাইরে। সরকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ ফোটাতে পারে কৃষকের মুখে হাসি।

About Editor

Check Also

শেকৃবিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এগ্রিবিজনেসের গুরুত্ব বিষয়ক সেমিনার এবং এগ্রিবিজনেস সোসাইটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

আবদুর রহমান রাফি: রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এগ্রিবিজনেসের গুরুত্ব এবং সম্ভাবনা বিষয়ক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *