Monday , July 23 2018
সর্বশেষ
Home / ক্যাম্পাস / বজ্রপাত ঝুঁকিতে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা

বজ্রপাত ঝুঁকিতে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা

শাহীন সরদার, বাকৃবি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পুরাতন হলগুলোতে বজ্রনিরোধক দন্ড থাকলেও চুরি হয়ে যাওয়া, নবনির্মিত হলগুলোতে স্থাপন না করায় ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, টর্নেডো, খরা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সম্প্রতিককালে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘বজ্রপাত’। ২০১৬ সালে দেশে মাত্র ৪ দিনের বজ্রপাতে প্রাণহানি হয়েছিল ৮১ জনের। বৈশাখী ঝড়ের সাখে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাটি আরো প্রবল আকার ধারণ করেছে। এদিকে ময়মনসিংহ ও তার আশে পাশের অঞ্চলে বজ্রপাতে মৃত্যুর পরিমাণ দিনকে দিন বাড়ছে। এ বিবেচনায় ইতোমধ্যেই বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার।

শিক্ষার্থীদেরকে বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১৯৯৫ সালের আগে স্থাপিত প্রতিটি হলে সুরক্ষিত বজ্রনিরোধক দন্ড থাকলেও, বর্তমানে স্থাপিত হলগুলোতে সেই বজ্র নিরোধক দন্ডগুলো নেই। সর্বশেষ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের মতো বিশাল আকৃতির হলগুলো স্থাপনের সময় বজ্র নিরোধক দন্ডের বিষয়টি খেয়ালই করেন নি প্রকৌশলীরা। আবার শহীদ জামাল হোসেন হল ও বেগম রোকেয়া হলের সম্প্রসারিত অংশ টিনশেডের হওয়ায় ওই হলের শিক্ষার্থীরা রয়েছে বিশেষ ঝুঁকিতে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল শাখার প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহীন ইসলাম খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বজ্রনিরোধক দন্ড আছে কিনা এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দু একটি স্থাপনায় ভাঙাচোরা কিছু বজ্রনিরোধক দন্ড থাকলেও শতকরা ৯০ ভাগ স্থাপনাতেই সেগুলোর আর অস্তিত্ব নেই। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে মারাত্বক দূর্ঘটনা। যে কোন সময় দূর্ঘটনায় পড়তে পারে শত শত শিক্ষার্থী। বাকৃবির ঈশা খাঁ হলের সাবেক ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্ম স্ট্রাকচার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ছাত্র থাকাকালে এ বজ্রনিরোধক দন্ডগুলো দেখেছেন। এগুলো কপারের দন্ড দিয়ে আর্থিং করা ছিল। তিনি আরো জানান, এগুলো বাজার দাম অনেক। সে কারণে অসাধু ব্যক্তিরা এগুলো চুরি করে থাকতে পারে। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে পুনরায় এগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন।

এ বিষয়ে বাকৃবির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুখ বলেন, সাধারণত উত্তপ্ত ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে বজ্রপাত বেশি হয়। উত্তপ্ত বায়ু যখন দ্রুতগতিতে ঠান্ডা হয় তখন বজ্র মেঘের সৃষ্টি হয়। এই বজ্রমেঘের ভেতরে বাতাসের দ্রুতগতির আলোড়নের সৃষ্টি হয়। এর ফলে বাতাসের জলীয়বাষ্প একই সময়ে বৃষ্টিকণা, শিশিরবিন্দু ও তুষার কণায় পরিণত হয়। বৃষ্টিকণা ও তুষার কণার পারস্পরিক সংঘর্ষের ফলে তুষারের ইলেকট্রন চার্জ ধাক্কা খায়। ফলে স্থির বৈদ্যুতিক চার্জের সৃষ্টি হয়। আকাশে মেঘের ভেতর বিদ্যুতের অতিরিক্ত চার্জ সঞ্চিত হতে হতে একসময় প্রবল শব্দে মাটিতে নেমে আসে ও বিপরীতধর্মী চার্জের সঙ্গে মিলিত হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়। এটা প্রতিরোধ করতে বড় বড় স্থাপনায় অবশ্যই বজ্রনিরোধক দন্ড থাকতে হবে। দন্ডটি সাধারণত তামা (কপার), কপার কোটেড ষ্টিল বা গ্যালভানাইজড ষ্টিলের হয়ে থাকে। এগুলো ক্ষয় নিরোধক ও পর্যাপ্ত সাইজের হতে হবে যাতে বজ্রপাত সহজে প্রবাহিত হতে পারে। সে কারণে প্রতিটি উচুঁ স্থাপনায় বজ্রনিরোধক দন্ড স্থাপন করা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, সম্প্রতি বজ্রপাতের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় সীমানায় স্থাপিত বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনিস্টিউটে (বিনা) পতিত হলে প্রতিষ্ঠানের গবেষণা সরঞ্জামাদির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। আশেপাশে বজ্রনিরোধক দন্ড থাকলে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো বলে জানান তিনি।

 

মো. শাহীন সরদার
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
০১৭৩ ৭৭২১৬০৩।

About Editor

Check Also

শেকৃবিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এগ্রিবিজনেসের গুরুত্ব বিষয়ক সেমিনার এবং এগ্রিবিজনেস সোসাইটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

আবদুর রহমান রাফি: রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এগ্রিবিজনেসের গুরুত্ব এবং সম্ভাবনা বিষয়ক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *