Friday , October 19 2018
সর্বশেষ
Home / কৃষি গবেষনা / আদার পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগুণ এবং ব্যবহারের সতর্কতা

আদার পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগুণ এবং ব্যবহারের সতর্কতা

এগ্রিভিউ২৪ এক্সক্লুসিভ ডেস্ক:আদা একটি উদ্ভিদ মূল যা মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় । মশলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা অন্যতম । আদা খাদ্যশিল্পে, পানীয় তৈরীতে, আচার, ঔষধ ও সুগণ্ধি তৈরীতে ব্যবহার করা হয় । এটি ভেষজ ঔষধ । মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে চিবিয়ে খাওয়া হয়। অধিকন্তু সর্দি, কাশি, আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপায় আদা চিবিয়ে বা রস করে খাওয়া হয় ।

আসুন জেনে নেওয়া যাক নিয়মিত আদা খাওয়ার উপকারীতাঃ

১. হজমের সমস্যা রোধেঃ
আদার মধ্যে ডাইজেসটিভ ট্রাক্টের প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা রয়েছে । এটি পাচক রস নিঃসরণ করতে সাহায্য করে। এতে খাবার ও পানি খুব সহজে পেটে নড়াচড়া করতে পারে ।

২. বমি রোধেঃ
গর্ভাবস্থায় বমি কমাতে আদা খুব উপকারী । এ ছাড়া মর্নিং সিকনেস প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ।

৩. ব্যথা কমাতেঃ
পেশি ব্যথায় আদা কার্যকর । আদা ২৫ ভাগ পেশির ব্যথা কমাতে কাজ করে ।

৪. প্রদাহ প্রতিরোধেঃ
২৪৭ জনের একদল লোকের ওপর একটি গবেষণা করে দেখা গেছে, আদা খুব দ্রুত গাঁটের ব্যথা কমায় এবং গাঁটের ক্ষয় রোধে সাহায্য করে ।

৫. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়ঃ
৮৫ জনের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র তিন গ্রাম আদার গুঁড়ো খেলে শরীরের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায় । এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে ।

৬. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ
প্রতিদিন মাত্র ২ গ্রাম আদার গুঁড়ো ১২ সপ্তাহ ধরে খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১০ ভাগ কমে । পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে ১০ ভাগ ।

৭. আদা ক্যানসাররোধীঃ
আদার মধ্যে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান । এটি কোলনের ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে ।

৮. মস্তিষ্কের কার্যক্রম ভালো করেঃ
আদার মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান মস্তিষ্কের অকালবার্ধক্য কমায়। এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

আদার গুণাগুন জানার পরই যদি কেউ আদা খেতে শুরু করেন, তাহলেও যে বিপদ সেটি মনে হয় অনেকেরই জানা নেই। কারণ আদা যেমন অনেক ক্ষেত্রে শরীরের পরম বন্ধু, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা শরীরের চরম শত্রুও বটে । তাই আদার গুণাগুণ জানার পাশাপাশি, এটা জানাটাও অত্যন্ত জরুরি যে, কারা আদার ধার-পাশ দিয়েও যাবেন না ।

কারা আদা এড়িয়ে চলবেন?

১. অন্তঃসত্ত্বারাঃ
আদা শরীরে কড়া উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে । সেজন্য অন্তঃসত্ত্বারা আদা খেলে, প্রিম্যাচিওর শিশু জন্মের সম্ভাবনা বেড়ে যায় । এজন্য গর্ভবতী মহিলাদের অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলা উচিত । বিশেষত প্রেগন্যান্সির শেষ সপ্তাহগুলিতে তো আদা কখনোই খাওয়া উচিৎ নয় ।

২. যারা ওজন বাড়াতে চানঃ
যারা রোগা হতে চান তাদের জন্য আদা বিশেষ উপকারী হলেও, যারা শীর্ণকায়, ওজন বাড়াতে উত্‍‌সাহী তাদের অবশ্যই আদা এড়িয়ে চলা উচিত । কারণ আদা খিদে কমায় । এছাড়াও শরীরের চর্বি গলানোর প্রক্রিয়ায় আদা বিশেষ সহায়ক । সেজন্য যারা ওজন বাড়াতে চান, আদা তাদের কোন কাজে আসবে না ।

৩. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যারা ওষুধ খানঃ
আদা ডায়াবেটিসেরলেভেল কমাতে কার্যকরী হলেও, যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত ওষুধ খান, তাদের ডায়েট চার্ট থেকে চিরতরে ডিলিট করে দিতে হবে আদাকে । একই কথা প্রযোজ্য উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যও । রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যারা নিয়মিত ওষুধ খান, তাদেরও অবশ্যই আদাকে এড়িয়ে চলা উচিত ।

সুস্থ থাকুন…

About Mostafizur Rahman

Check Also

ওজন কমায় ধনে পাতার রস

এগ্রিভিউ হেলথ ডেস্ক: খাবারের স্বাদ বাড়ানোর অনেক নামের একটি ধনে পাতা। রান্নার স্বাদ বাড়াতে ধনে পাতার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *